23/06/2026
💎 করজে হাসানা বা উত্তম ঋণ প্রদানের ফজিলত ও মহিমা
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি অন্য কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে দুইবার ঋণ প্রদান করে, তবে সেই ঋণটি একবার সদকা করার সমতুল্য সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে করজে হাসানা বা উত্তম ঋণ প্রদান করল, আল্লাহ তাআলা তার সেই ঋণকে সদকা হিসেবে কবুল করে নেন এবং তার আমলনামায় সদকার সওয়াব লিখে দেন। এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি তার কোনো ভাইয়ের বিপদগ্রস্ত মুহূর্তে তাকে ঋণ দিয়ে সাহায্য করে এবং পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে তাকে কিছুটা অবকাশ বা সময় দেয়, তবে সেই দাতার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে সদকার সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার কষ্টসমূহ দূর করে দেবেন। সুতরাং ঋণ প্রদান করা কেবল একটি পার্থিব লেনদেন নয়, বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান মাধ্যম। যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহীতাকে তার ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সহজতা অবলম্বন করে এবং যদি সে দরিদ্র হয় তবে তাকে মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন। এই মহৎ কাজের মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।
Reference: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৪৩০।
Key Points:
✧ করজে হাসানা বা উত্তম ঋণ প্রদান করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল যা সদকার সওয়াব বহন করে। ✧ ঋণ গ্রহীতাকে পরিশোধের ক্ষেত্রে সময় বা অবকাশ প্রদান করা দাতার জন্য অশেষ সওয়াব ও রহমতের কারণ। ✧ বিপদগ্রস্ত মানুষকে ঋণ দিয়ে সাহায্য করা ভ্রাতৃত্বের পরিচয় এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম উপায়।
কুরআনের গল্প - Quraner Golpo: