05/03/2026
অবশেষে বেরিয়ে এসেছে আলভী ও তিথিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ৪ বছর আগে, ২০২২ সালের ১৮ই নভেম্বর তিথি ও আলভী নাকি আইন অনুযায়ী বিয়ে করেছেন। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ঢাকায় তিথির একটি ভাড়া বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন আলভী। যখনই তাদের একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর প্রয়োজন হতো, তখনই তারা সেই বাসায় উঠতেন।
একসময় বিল্ডিংয়ের সবাই আলভীকে চিনে ফেলেন। এরপর তিনি সেখানে মাস্ক পরে যাওয়া শুরু করেন। প্রায় প্রতিদিনই তিথি সেখানে যেতেন এবং আলভীকে ডাকতেন। বিষয়টি ভবনের অন্য বাসিন্দারা মেনে নিতে না পেরে বাড়িওয়ালার কাছে অভিযোগ করেন। পরে বাড়িওয়ালা তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তখন তারা সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশে থাকা হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পরবর্তীতে আলভী ও তিথি মিলে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে নেপালে একটি বাড়ি কেনেন এমন অভিযোগও উঠেছে। যখনই একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা হতো, তখনই তারা নেপালে চলে যেতেন। শুধু একবার নয়, এর আগেও একাধিকবার নেপালে একসঙ্গে সময় কাটানোর কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই স্ক্রিনে যে ছবিটি দেখছেন, দাবি করা হচ্ছে সেটি ২০২৩ সালের। আলভী ও তিথি নেপাল থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। শুধু তাই নয়, এসব বিষয়ে নাকি ইকরাও জানতেন। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যৎ ও রিজিকের কথা ভেবে তিনি সম্পর্কটি টিকিয়ে রেখেছিলেন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইকরা তার ছেলেকে বোঝাচ্ছেন প্রথম হওয়া ভালো নয়; যে দ্বিতীয় হয়, সেই ভালো এবং শেষ পর্যন্ত জিতে যায়। শুনে মনে হতে পারে, সে যেন নিজের গল্পটাই বলছিল। সে প্রথম হয়েও জিততে পারেনি। আর যে দ্বিতীয় হয়ে গেল, সে যেন জিতে গেল। আরও একটি ভিডিও রয়েছে, যেখানে তার ছেলে বারবার নেপাল যেতে চাইছিল। ছোট ছোট ইঙ্গিত, ছোট ছোট কথাবার্তা—সবকিছুর মাঝেই যেন লুকিয়ে ছিল অজানা এক কষ্ট।
আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এতো কিছু জানার পরেও ইকরা কেন ডিভোর্স দিল না? শুধু সন্তানের জন্য এতো কিছু সহ্য করা কি সম্ভব? ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, যখন ইকরা বুঝতে পারলেন তিনি আর আলভীকে ফেরাতে পারবেন না, তখন তিনি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। ডিভোর্স দিলে নাকি তাকে বদনাম করা হতে পারে। তাই তিনি চেয়েছিলেন প্রমাণ সংগ্রহ করে তারপর বিচ্ছেদের পথে হাঁটবেন।
কিন্তু গতকাল দুপুরে ইকরা জানতে পারেন—২০২২ সালেই নাকি আলভী তিথিকে বিয়ে করেছেন। এই খবরটাই যেন শেষ আঘাত হয়ে এলো। সেই কষ্ট আর সইতে না পেরে তিনি চিরতরে চলে গেলেন ওপারে।
এরপর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহের ভালুকায়। বিকেল ৫টায় সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল অন্তত শেষ বিদায় জানাতে আলভী আসবেন। ১৬ বছরের সম্পর্ক শূন্য পকেট থেকে শুরু করে সংসার গড়া… সন্তান জন্ম দেওয়া… জীবনের কঠিনতম সময়গুলোতে পাশে থাকা সেই মানুষটি অন্তত শেষবারের মতো মুখটি দেখবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেল। মাটির বুকে শায়িত হয়ে গেল ইকরা। আর যে মানুষটিকে এত বছর ভালোবেসেছিল, সে আর এলো না।
এই একটি দৃশ্যই যেন সব অভিযোগ, সব কষ্ট, সব কান্নার বাস্তবতা প্রমাণ করে দেয়। শেষ দেখাটুকুও করল না সে। যে মেয়েটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে পাশে ছিল, তার জানাজার নামাজেও উপস্থিত হলো না।
এটাই কি ভালোবাসা? এটাই কি দায়িত্ব? নাকি এটাই নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত রূপ? আজ মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে ইকরা। কিন্তু প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে আকাশে ঝুলে। ভালোবাসা যদি প্রতারণায় শেষ হয়, তবে তার বিচার কে করবে? একটি সন্তান আজ মাকে হারিয়েছে। একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের আদরের মেয়েকে। আর সমাজ পেয়েছে আরেকটি করুণ গল্প ভালোবাসা, বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার।