07/10/2025
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
পাশের গাঁয়ের পুরোনো ডাকবাক্সটার সামনে বসে আছে বৃদ্ধা সরলা দেবী।
চোখে কাঁচের চশমা, হাতে ভাঁজ করা এক পুরোনো খাম।
চিঠিটা তার স্বামীর— ত্রিশ বছর আগের।
স্বামী গিয়েছিল যুদ্ধে, ফিরে আসেনি।
তবু সরলার বিশ্বাস, সে একদিন ফিরবে,
ঠিক এই রাস্তা দিয়েই, ঠিক এই চিঠিটার মতো পুরোনো হাসি মুখে।
প্রতিদিন বিকেলে সে আসে ডাকবাক্সটার সামনে,
মাটিতে পাতা পিঁড়িতে বসে, চোখ রাখে দূরপথে।
লোকে বলে, “সরলা পাগল হয়ে গেছে।”
কিন্তু সরলা ভাবে, হয়তো সবাই ভুলে গেছে অপেক্ষা নামের অনুভূতিটা।
একদিন হঠাৎ সন্ধ্যা ছুঁয়ে আসে এক বৃষ্টি।
এক বালক দৌড়ে এসে আশ্রয় নেয় তার ঘরের বারান্দায়।
গায়ে ভিজে জামা, মুখে ক্ষুধা, চোখে ভয়।
সরলা বলে, “বাবা, বসো।”
চুলা ধরায়, শুকনো কাপড় দেয়।
খাওয়া শেষে ছেলেটা বলে, “ঠাম্মা, আমার কেউ নাই।”
সরলা মৃদু হেসে বলে,
“তাহলে আজ থেকে তুই আমার চিঠি।”
বালক বুঝতে পারে না কথার মানে,
কিন্তু পরদিন থেকে প্রতিদিন বিকেলে সে আসে,
চিঠি নিয়ে নয়— ভালোবাসা নিয়ে।
মাস ঘুরে বছর যায়,
গাঁয়ের মানুষ দেখে— সরলা আর একা নয়।
ডাকবাক্সটা এখনো আছে, কিন্তু তার অপেক্ষা শেষ।
কারণ, যে ভালোবাসা একদিন হারিয়ে গিয়েছিল যুদ্ধে,
তা ফিরে এসেছে এক অনাথ বালকের চোখে।
শেষ বিকেলে সরলা যখন মারা গেল,
তার পাশে ছিল সেই বালক,
আর টেবিলের ওপর রাখা ছিল পুরোনো খামটা,
যার ওপরে নতুন করে লেখা