26/07/2026
১. ফাওমি মুরগির উৎপত্তি ও ইতিহাস (Origin & History)মূল দেশ: ফাওমি মুরগির আদি জন্মস্থান মিশর (Egypt)।
ইতিহাস: এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি মুরগির জাত। মিশরের ফায়ুম (Fayoum) নামক একটি প্রাচীন শহর ও গভর্নরেট থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। নীল নদের অববাহিকায় হাজার বছর ধরে এই জাতটি প্রাকৃতিকভাবে টিকে আছে।বাংলাদেশে আগমন: বাংলাদেশে মূলত ডিম উৎপাদনের জন্য এই জাতটি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আনা হয়েছিল। তবে দেশি মুরগির মতো স্বাদ ও শক্ত গঠনের কারণে বর্তমানে মাংসের জন্য এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
১. মাংসের জন্য ফাওমি মুরগির শারীরিক বৈশিষ্ট্য (Physical Characteristics)শরীরের গঠন: এরা দেখতে বেশ চটপটে, সটান এবং মাঝারি গড়নের হয়। এদের বুক কিছুটা সামনের দিকে বাড়ানো থাকে, যা মাংসের ভালো অনুপাত দেয়।পালকের রঙ: এদের গায়ের পালক দেখতে অসাধারণ। সাধারণত রূপালী-সাদা ও কালো রঙের ডোরাকাটা বা ছিটছিট (Silver-penciled) পালক থাকে। গলা ও ঘাড়ের অংশটুকু ধবধবে সাদা হয়।ওজন: পূর্ণাঙ্গ একটি মোরগের ওজন সাধারণত ১.৫ থেকে ২ কেজি এবং মুরগির ওজন ১.২ থেকে ১.৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
চামড়া ও হাড়: এদের গায়ের চামড়া এবং হাড়ের রঙ দেশি মুরগির মতোই স্বাভাবিক।
১. মাংসের গুণগত বৈশিষ্ট্যঃ
খাঁটি দেশি স্বাদ: ফাওমি মুরগির মাংসের স্বাদ ও গন্ধ হুবহু আমাদের গ্রামীণ চারণভূমির দেশি মুরগির মতো। ব্রয়লার বা সোনালীর মতো এতে কোনো পাউডারি বা কৃত্রিম স্বাদ নেই।
শক্ত ও আঁশযুক্ত মাংস (Texture): এর মাংসের টেক্সচার বা আঁশ বেশ শক্ত ও টানটান হয়। রান্না করার পর মাংস গলে যায় না, যা চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষেত্রে দেশি মুরগির আসল তৃপ্তি দেয়।
কম চর্বি (Low Fat): ফাওমি মুরগির মাংসে চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। এটি মূলত লিন মিট (Lean Meat) বা চর্বিহীন মাংস, যা স্বাস্থ্য সচেতন ও হৃদরোগীদের জন্য দারুণ নিরাপদ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এই মুরগির প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অসম্ভব বেশি। ফলে খামারে এদের অ্যান্টিবায়োটিক বা কৃত্রিম ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। তাই এর মাংস সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ (Antibiotic-Free Meat)।