12/07/2026
দুরুদ শরীফের অপার ফজিলত
=======================
দুরুদ শরীফ শুধু কয়েকটি শব্দের যিকির নয়; এটি আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল, নবী ﷺ–এর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের একটি মহান মাধ্যম।
এই চারটি বিষয় হৃদয়ে ধারণ করে দুরুদ পড়ুন—ইনশা আল্লাহ,
দুরুদের প্রতি আপনার ভালোবাসা ও আগ্রহ দিন দিন বেড়ে যাবে।
১) আপনি যখন দুরুদ পড়েন,
রাসূল ﷺ-এর কাছে আপনার দুরুদ পৌঁছে যায়
আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন,
আপনার পড়া দুরুদ আল্লাহর ব্যবস্থাপনায় রাসূল ﷺ-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"তোমরা যেখানেই থাকো না কেন,
তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।"
(সুনান আবু দাউদ : ২০৪২;
মুসনাদ আহমদ: ১০৫৯৪)।
আরেকটি সহিহ বর্ণনায় এসেছে,
বিশেষ ফেরেশতারা উম্মতের সালাম ও দুরুদ রাসূল ﷺ-এর কাছে পৌঁছে দেন এবং দুরুদ পাঠকারীর পরিচয়ও উল্লেখ করেন।
ভাবুন তো, কোটি কোটি উম্মতের মাঝে
আপনার নামও সেই সৌভাগ্যবানদের তালিকায় উচ্চারিত হচ্ছে—এটি কত বড় সম্মান!
২) একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ দশগুণ রহমত বর্ষণ করেন
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন,
তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং
তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"»
(সুনান আন-নাসায়ি: ১২৯৭;
সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৮)।
আর আল্লাহ তাআলা নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করেন । হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দুরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ করো।"
— সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৬।
যে আমল আল্লাহ নিজে করেন, ফেরেশতারাও করেন, সেই আমলে শরিক হওয়া কত বড় সৌভাগ্য!
৩) দুরুদ দুশ্চিন্তা দূর করে, গুনাহ ক্ষমার কারণ হয়
উবাই ইবন কা'ব (রা.) নবী ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তাঁর দোয়ার কতটুকু অংশ দুরুদের জন্য নির্ধারণ করবেন। শেষে যখন বললেন, "পুরোটাই?", তখন রাসূল ﷺ বললেন:
"তাহলে তোমার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৫৭ — সহিহ)।
তাই জীবনের কষ্ট, অস্থিরতা ও সংকটের সময় দুরুদকে নিজের নিত্যসঙ্গী বানান।
এটি অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং
আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।
৪) যিনি আমাদের জন্য কেঁদেছেন,
তাঁর প্রতি দুরুদ পাঠাতে কৃপণতা কেন?
রাসূল ﷺ আমাদের মুক্তির জন্য অকল্পনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। তায়েফে রক্তাক্ত হয়েছেন, উহুদে আহত হয়েছেন, তবুও উম্মতের জন্যই দোয়া করেছেন।
কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে,
যখন প্রত্যেকে নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, তখন তিনি বলবেন—
'ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি'
(আমার উম্মত! আমার উম্মত!)
(সহিহ মুসলিম: ২০২)।
এই ভালোবাসার প্রতিদান আমরা কখনোই দিতে পারব না। তবে অন্তত বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করে তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ করতে পারি।
অতিরিক্ত আমল :
দুরুদের পাশাপাশি বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়ুন এবং দোয়া ইউনুস পাঠ করুন—
لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
এটি বিপদে পড়া নবী ইউনুস (আ.)-এর দোয়া। আল্লাহ তাআলা কুরআনে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং এভাবে তিনি মুমিনদেরও মুক্তি দেন।
আসুন, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় দুরুদ,
ইস্তিগফার ও আল্লাহর যিকিরে ব্যয় করি।
হয়তো এই সামান্য আমলই হবে
আমাদের গুনাহ ক্ষমার কারণ,
হৃদয়ের প্রশান্তির কারণ এবং
জান্নাতের পথে সবচেয়ে সুন্দর পাথেয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করার, ইস্তিগফারে অভ্যস্ত হওয়ার এবং রাসূল ﷺ–এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করুন।
আমীন।