09/06/2024
শরিকানা কুরবানির মাসায়েল
কুরবানির যোগ্য পশুকে ‘উযহিয়্যাহ’ বলা হয়, যেখান থেকেই মূলত ‘ঈদুল আযহা’ নামকরণ। আর কুরবানি মানে হলো এমন আত্নত্যাগ, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। বর্তমানে ‘কুরবানি’ বলতে সাধারণত জিলহজ্জ মাসের নির্দিষ্ট দিনসমূহে মুসলিমদের পশু কুরবানিকেই বোঝানো হয়।
চট্টগ্রামবাসী মুসলিমদের কুরবানির ইবাদাতকে সহজ করার লক্ষ্যে MEAT HOUSE Ctg-এর পক্ষ থেকে Qurbani 1445 Hijri প্রজেক্ট আয়োজন করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এই প্রজেক্টে আমরা কয়েকটি ছোট সাইজের গরু সাত শরিকানা বা সাত ভাগে কুরবানির ব্যবস্থা রেখেছি, যার প্রতি ভাগের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫,৫০০ টাকা। বিস্তারিত দেখুন:
https://www.facebook.com/meathousectg/posts/pfbid02QdjoC9LH7DADM9WMSNdyRipJtY8uNXoY2fc9f18gkTNAUQMagPrJwszzjBrDsQVAl
কথা না বাড়িয়ে শরিকানা কুরবানির কিছু প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া যাক –
[১] উট, গরু, মহিষ সর্বোচ্চ সাত শরিকানা বা সাত ভাগে কুরবানি করা যায়। আর ভেড়া, দুম্বা, ছাগল শুধুমাত্র এক ভাগেই কুরবানি করা জায়েয। বিপরীতভাবে বললে – উট, গরু, মহিষে সাতজনের বেশি সংখ্যক শরিক হলে কারও কুরবানিই হবে না। আর ভেড়া, দুম্বা, ছাগলের ক্ষেত্রে একজনের জায়গায় দুইজন শরিক হলেই কারও কুরবানি হবে না।
একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একটি গরু (সর্বোচ্চ) সাত জনের পক্ষ থেকে এবং একটি উট (সর্বোচ্চ) সাত জনের পক্ষ থেকে।” [সহীহ ইবনে হিব্বান ৪০০৬, জামে তিরমিযী ৯০৪, সুনানে আবু দাউদ ২৮০৮]
[২] উট, গরু, মহিষের শরিকানা সাতের কম হলেও কোনো সমস্যা নেই। শরিকের সংখ্যা বেজোড় হওয়াও জরুরি নয়। অনেকে মনে করে, শরিক সংখ্যা সাত পূর্ণ করতে হবে কিংবা বিজোড় হতে হবে। কোনোটাই জরুরি নয়।
[৩] শরিকদের কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত না করে ভিন্ন কোনো নিয়ত যেমন – মানুষ বা সমাজকে দেখানো কিংবা শুধু গোস্ত খাওয়ার নিয়ত করে, তাহলে কারও কুরবানিই হবে না।
[৪] শরিকদের মধ্যে কারও কুরবানির জন্য দেওয়া অর্থের পুরোটা কিংবা অধিকাংশ যদি হারাম হয়, তাহলে কারও কুরবানিই হবে না।
[৫] শরিকানায় কুরবানি করলে গোশত ওজন করে সমান হারে বণ্টন করতে হবে। ওজন না করে স্রেফ অনুমানের ওপর কুরবানির গোশত বণ্টন করা নাজায়েজ। ওজন করে গোশত বণ্টন করায় সংকীর্ণতা বা লজ্জার কিছু নেই। বরং এটিই শরিয়তের বিধান।
[৬] কয়েকজন শরিক মিলে পশু কেনার পর কুরবানির আগেই যদি কোনো শরিকের মৃত্যু হয়, তাহলে কুরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের অনুমতি নিতে হবে। ওয়ারিশরা তার পক্ষ থেকে কুরবানির অনুমতি দিলে তা জায়েয হবে। অন্যথায় মৃত ব্যক্তির অংশের টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে তার জায়গায় অন্য কাউকে শরিক নেওয়া যাবে।
[৭] শরিকানা কুরবানির ক্ষেত্রে শরিকদাতারা যদি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ঈদের সালাত আদায় করেন, তাহলে কুরবানি দেওয়ার সময় সকলের ঈদের জামাত সমাপ্ত হওয়া আবশ্যক নয়। বরং কুরবানির পশু যে এলাকায় থাকে, সেই এলাকার ঈদের জামাতের পরই কুরবানি দেওয়া যায়।
শেষ করি মহান আল্লাহর আয়াত স্মরণ করিয়ে। তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোস্ত আর না তাদের রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা একারণে আল্লাহর তাকবীর বল যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দিন।” [সূরা হাজ্জ, ২২ : ৩৫]