17/03/2025
আম গাছে মুকুল আসার পর অনেক সময় তা ঝরে যায়, যা ফলনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। মুকুল ঝরে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো—খরা, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা কুয়াশা, পুষ্টির অভাব, কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণ। মুকুল ঝরা রোধ করতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে
**১. সঠিক সময়ে সেচ দেওয়া**
- শুষ্ক মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে গাছের গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হবে।
- মুকুল বের হওয়ার আগে এবং মুকুল স্থায়ী হওয়ার পর ২-৩ বার পানি দেওয়া ভালো।
- সেচ দেওয়ার সময় পানি যাতে গাছের শিকড়ের কাছে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
**২. সার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা**
- মুকুল গঠনের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশ ও ফসফরাস সার প্রয়োগ করা উচিত।
- প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করলে মুকুল স্থায়ী হয়।
- বোরন ও জিঙ্কের অভাবে মুকুল দুর্বল হয়ে ঝরে যেতে পারে, তাই প্রয়োজনে পাতায় বোরিক অ্যাসিড ও জিঙ্ক সালফেট স্প্রে করা যায়।
**৩. কীটনাশক ও রোগ প্রতিরোধ**
- থ্রিপস, মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ইমিডাক্লোপ্রিড বা অ্যাসাটামিপ্রিড জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।
- ছত্রাকজনিত রোগ (অ্যানথ্রাকনোজ) রোধে কার্বেন্ডাজিম বা কপার অক্সিক্লোরাইড ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ফেরোমোন ফাঁদ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
**৪. আবহাওয়ার প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষা**
- বেশি ঠান্ডা বা কুয়াশার কারণে মুকুল নষ্ট হতে পারে, তাই সকালে হালকা পানি স্প্রে করলে কুয়াশার প্রভাব কমবে।
- মুকুল আসার সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনীয় ছাউনি বা বাঁশের খুঁটি দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
**৫. ছাঁটাই ও পরিচর্যা**
- গাছের অপ্রয়োজনীয় শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করলে আলো ও বাতাস চলাচল সহজ হয়, যা মুকুলের স্থায়িত্ব বাড়ায়।
- গাছের নিচে পড়ে থাকা শুকনো পাতা ও আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে রোগ ও পোকার বংশবিস্তার কম হয়।
**৬. হরমোন প্রয়োগ (প্রয়োজনে)**
-NAA (Napthalene Acetic Acid) ২০ পিপিএম (পার্ট পার মিলিয়ন) প্রয়োগ করলে মুকুল ঝরা কমে যায়।
- পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃)** স্প্রে করলেও মুকুলের স্থায়িত্ব বাড়তে পারে।
আপনার গাছের মুকুল ঝরে যাচ্ছে কিনা বা অন্য কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানালে আরও নির্দিষ্ট সমাধান দিতে পারব! 😊