06/10/2026
৫৫/৬৫ টাকায় মিল চান? তাহলে একটু হিসাবও করতে হবে।
একজন বললেন, তিনি ৫৫/৬৫ টাকার মধ্যে মিল সিস্টেমে খাবার নিতে চান।
আমি যখন বললাম, বর্তমান বাজারদরে এই বাজেটে নিয়মিত ভালো মানের খাবার দেওয়া সম্ভব নয়, তখন তিনি খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন,
“আপনার তো কোনো ধারণাই নাই!”
তখন মনে হলো, আসলে ধারণাটা কার নেই, সেটা একটু হিসাব করলেই পরিষ্কার হবে।
একটা মিলের দাম শুধু চাল আর তরকারির দাম যোগ করে নির্ধারণ হয় না।
এক কেজি চাল কিনলাম, এক কেজি মাছ কিনলাম, রান্না করলাম আর প্লেটে তুলে দিলাম, বিষয়টা এত সহজ নয়।
এর সঙ্গে প্রতিদিনের খরচ আছে:
চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, তেল, মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা।
তারপর গ্যাস বা জ্বালানি।
রান্নার শ্রম।
বাসনপত্র পরিষ্কার করা।
প্যাকেট বা বক্স।
বিদ্যুৎ-পানি।
পরিবহন বা ডেলিভারি।
খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।
এবং সবশেষে, ব্যবসা হিসেবে টিকে থাকার জন্য সামান্য লাভ।
এই সবকিছুর পর যদি বলেন,
“৫৫/৬৫ টাকার মধ্যেই দিতে হবে”,
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কোন জায়গাটা বাদ দেব?
উপকরণ কমাব?
পরিমাণ কমাব?
মান কমাব?
নাকি যিনি রান্না করছেন, তার শ্রমের মূল্য বাদ দেব?
ভালো খাবারের একটা বাস্তব খরচ আছে।
আমি কম দামে খাবার দিতে চাই না, বিষয়টা তা নয়।
আমি চাই, যে খাবারটা দেব, সেটা যেন খেয়ে মানুষ বলতে পারে, হ্যাঁ, টাকাটা সার্থক হয়েছে।
কারণ শুধু কম দাম দিয়ে একটা মিল বিক্রি করাই লক্ষ্য নয়।
মান ঠিক রেখে, সম্মানজনকভাবে ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখাও জরুরি।
তাই ৫৫/৬৫ টাকার মিল অসম্ভব বলার আগে আবেগ দিয়ে নয়, একবার কাগজ-কলম নিয়ে পুরো হিসাবটা করে দেখুন।
তারপর সিদ্ধান্ত নিন, এই বাজারে ৫৫/৬৫ টাকায় আসলে কী ধরনের খাবার দেওয়া সম্ভব।
আপনার হিসাব কী বলে?
৫৫/৬৫ টাকায় একটি মানসম্মত পূর্ণ মিল দেওয়া সম্ভব, নাকি কোথাও না কোথাও আপস করতেই হবে?