03/01/2026
দুআর কবুলের কিছু কৌশল
দুআ কবুলের কার্যকরী পন্থা হচ্ছে, দুআর আদবকেতার দিকে লক্ষ্য রাখা। দুআ করার বেশ কিছু আদব রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করলে আপনার দুআও কবুল হতে পারে। এর মধ্যে অনেকগুলোই হয়ত আমরা জানি, কিন্তু কিছু আছে যেগুলো আমরা মিস করে ফেলি:
১) দুআয় আল্লাহর নিয়ামত ও নিজ গুনাহ স্বীকার করা। যেমনটা আমরা 'সায়্যিদুল ইস্তিগফার' দুআয় দেখতে পাই।
২) তিনবার দুআ করা। রাসুল (সা.) দুআয় তিনবার বলেছেন, ‘হে আল্লাহ, কুরাইশকে পাকড়াও করুন’। (বুখারি ২৯৩৪ ও মুসলিম ১৭৩৪)
৩) দুআয় আল্লাহর ভয়ে কাঁদা। নবীজি (সা.) একবার সূরা ইবরাহিমের ৩৬ এবং মায়েদার ১১৮ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তারপর দুহাত তুলে বললেন, ‘হে আল্লাহ,
আমার উম্মত, আমার উম্মত।’ এবং কেঁদে ফেললেন। তখন আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল আ.-কে বললেন, ‘মুহাম্মাদের কাছে যাও, তাকে জিজ্ঞেস কর—যদিও আল্লাহ সর্বজ্ঞ—কেন তিনি কাঁদছেন।’ জিবরাইল আ. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে প্রশ্নটি করলেন এবং রাসুল (সা.) কান্নার কারণ জানালেন। আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে জিবরাইল, মুহাম্মাদকে গিয়ে বল, ‘নিশ্চয় আমি উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব, এ ব্যাপারে তোমাকে অসম্মান করব না।’ (মুসলিম ২০২)
৪) দুআর আগে নেক আমল করে নেওয়া। যেমন—নামাজ, যাকাত, সদকা ইত্যাদি। নেক আমল বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। বান্দা যদি নামাজ পড়ে কিংবা সদকা করে আল্লাহর দরবারে কোনো দুআ করে, তবে তা কবুল হওয়ার অধিক আশা করা যায়।
৫) একাগ্রতার সঙ্গে দুআ করা। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর কাছে দুআ করো কবুলের বিশ্বাস নিয়ে এবং জেনে রাখো—আল্লাহ উদাসীন ও তামাশামগ্ন অন্তরের দুআ কবুল করেন না।’ (তিরমিজি ২৪৭৯)
৬) যথোপযুক্ত উপসংহারের মাধ্যমে দুআ শেষ করা। এটি দুআর ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। যেমন সন্তান চেয়ে দুআ করলে উপসংহারে আল্লাহ তায়ালার দানশীলতা-সূচক কোনো প্রশংসাবাক্য উল্লেখ করা।
© খালিদ বিন সুলাইমান আর-রাবয়ী