22/07/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
মনে হচ্ছে আল্লাহ আমাকে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে রেখেছেন। জানি না কেন এই পরীক্ষা, তবে বিশ্বাস করি—আল্লাহ যা করেন, আমাদের ভালোর জন্যই করেন।
গত ১৩ তারিখে আমার তিন বছরের মেজো মেয়ে ভুল করে সেভেন আপ ভেবে একটি বোতল থেকে কেরোসিন খেয়ে ফেলে। বাসায় পিঁপড়ার জন্য কেরোসিন ব্যবহার করা হতো, আর সেটি ভুল করে সেভেন আপের বোতলে রাখা ছিল। আমি তখন ছাদে ছিলাম।
প্রথমে ওকে শুধু কাশতে দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো গলায় কিছু আটকে গেছে। পানি খাওয়ানোর পরও কাশি কমছিল না। পরে ওর মুখ থেকে কেরোসিনের গন্ধ পেয়ে বুঝতে পারলাম কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে। কিছুক্ষণ পর ও প্রচণ্ড বমি শুরু করে, আর বমি থেকেও কেরোসিনের তীব্র গন্ধ আসছিল।
ওর বাবা বাসায় ফিরতেই আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে সেখানে রাখেনি, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আলহামদুলিল্লাহ, তিন দিন চিকিৎসার পর ডাক্তাররা ছেড়ে দেন।
কিন্তু আমাদের পরীক্ষা তখনও শেষ হয়নি।
বাসায় আনার পর ১৭ তারিখ রাতে হঠাৎ করে আবার প্রচণ্ড বমি শুরু হলো। রাতভর কয়েকবার বমি করল। পরদিন থেকে বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা আর জ্বরও শুরু হয়ে গেল। এদিকে আমার নিজের পরীক্ষা। আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৬ তারিখের পরীক্ষাটি পিছিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৯ তারিখের পরীক্ষার আগে আমার মেয়ের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেল যে কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
১৮ তারিখ রাতে আবার ডাক্তার দেখাই। এক্স-রে করার পর রিপোর্টে জানা গেল, কেরোসিন ফুসফুসে চলে যাওয়ার কারণে লাং ইনফেকশন হয়েছে। ডাক্তার বললেন, এই সংক্রমণের কারণেই বমি, পাতলা পায়খানা ও জ্বর হচ্ছে। আরও বলেছিলেন, ওষুধে ভালো না হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
..আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অসীম রহমতে এখন আমার মেয়ের বমি, পাতলা পায়খানা ও জ্বর অনেকটাই কমেছে। কিন্তু আমি এখনও জানি না, আমার ছোট্ট মেয়েটা পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে কি না। ডাক্তার সাত দিন পর আবার এক্স-রে করতে বলেছেন। সেই রিপোর্ট দেখার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে ও পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে, নাকি আমাদের সামনে আরও কোনো পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
এখন ওর শরীর এতটাই দুর্বল যে আগে যে বাচ্চাটা সারাদিন দৌড়ে বেড়াত, এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করছে। একজন মা হিসেবে আমার বুকটা ভেঙে যায়, যখন ওকে এভাবে দেখি। নিজে