24/08/2026
আমার সুগার একটু পর পর লো হয়ে যায়, তাই আমার চিনি খেলে কোন সমস্যা নেই।
এই ভুল ধারনায় ভুগে অনেকেই নিজের লিভারের বারোটা বাজান এবং পরবর্তী জীবনে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হন।
কিভাবে ব্যাপারটা ঘটে??
তিন কারনে আপনার ব্লাড গ্লুকোজ বারবার ড্রপ করতে পারে।
১)হাইপারইনসুলিনেমিয়া বা রক্তে অতিরিক্ত ইনসুলিনের উপস্থিতি। লম্বা সময় ধরে হাইপারইনসুলিনেমিয়া থাকলে অতিরিক্ত ইনসুলিন রক্ত থেকে গ্লুকোজ বারবার টেনে নিয়ে লিভারে পৌছে দেয়। ফলে সারাদিন ভরে বারবার গ্লুকোজ লেভেল ড্রপ করে। এই ধরনের রোগীর এভারেজ ব্লাড সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা বর্ডারলাইনে থাকে। কিন্তু ঘন ঘন না খেলেই দেখা যায় তার হাত পা কাপা শুরু হয়। জানলে অবাক হবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া প্রচুর ছাত্রছাত্রীদের এই সমস্যা আছে।
২)ক্রনিক স্ট্রেস ইন্ডিউসড হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এপিনেফ্রিন বা এড্রেনালিন হরমোন হচ্ছে আমাদের দুই প্রধান স্ট্রেস হরমোনের একটা, অপরটা হচ্ছে কর্টিসোল। এড্রেনালিন স্বল্পমেয়াদে গ্লুকোজ লেভেল বাড়িয়ে দেয়, কর্টিসোলের ব্যাপারটা ভিন্ন। কর্টিসোল লং রানে ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল বাড়াতেও পারে, আবার কমিয়েও ফেলতে পারে। গ্লুকোজ লেভেল বাড়বে না কমবে পুরো ব্যাপারটার বেশিরভাগই নির্ভর করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে কিনা তার ওপরে। কর্টিসোলের একশন এখানে বেশ জটিল, তাই আমি সহজ করে বোঝাই, ক্রনিক স্ট্রেসে থাকলে ঘনঘন গ্লুকোজ ড্রপ করে, ফলে আপনার ঘন ঘন খেতে ইচ্ছা হয়। এইটাকে পপ কালচারে বিঞ্জ ইটিং বলে।
৩)থাইমিন বা ভিটামিন বি১ ডেফিসিয়েন্সি। যেহেতু আমরা বেশিরভাগ রিফাইন্ড কার্ব খাই, আমাদের অধিকাংশেরই ভিটামিন বি-১ ডেফিসিয়েন্সি থাকে।
ভিটামিন বি-১ কম থাকলে এভারেজ গ্লুকোজ বাড়বে, গ্লুকোজ বাড়লে ইনসুলিন লেভেল বাড়বে। ফলে, ইনসুলিন বেড়ে গিয়ে আবার গ্লুকোজ ড্রপ করবে।
এই তিন মেকানিজমেই প্রধানত আমাদের রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়।
এখন, চিনি দিয়ে যদি আপনি লো ব্লাড গ্লুকোজ পুরন করতে যান, তাহলে এই তিনটা কারনের প্রতিটার অবস্থাই আগের চেয়েও খারাপ হবে। বাড়বে লিভার ও এড্রেনাল গ্ল্যান্ডের ওপর চাপ।
ফলে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
একারনে আমি বলি, গ্লুকোজ খেয়ে কখনোই লো ব্লাড গ্লুকোজের সমস্যা সমাধান করতে যাওয়া উচিত না।
তাহলে উপায় কি??
১)টাইম রেস্ট্রিক্টেড ইটিং। দিনে ১২ ঘন্টা খালি পেটে, ১২ ঘন্টা ভরা পেটে খাওয়া।
২)খাবারে যথেষ্ট ফাইবার ও ভিটামিন বি১ রাখা।। ফাইবারের বেস্ট সোর্স শাকসবজি আর নন রিফাইন্ড কার্ব।
৩)স্ট্রেস টলারেন্স বাড়ানো। এইটার জন্য আপনার অনেক কিছু লাগবে। সোডিয়ামসহ সবগুলা ইলেক্ট্রোলাইট এবং ভিটামিন বি থ্রি, বি ফাইভ।
এরচেয়েও কাজের হল, পজিটিভ থিংকিং করা এবং যে ধরনের স্ট্রেসে আপনার বেশিরভাগ সময় থাকতেই হয়, সেটাকে বুদ্ধি ও কৌশল দিয়ে মোকাবিলা করে টিকে থাকা শেখা। তখন স্ট্রেস টলারেন্স বেড়ে যাবে।
আরেকটা ট্রিক আছে।
বিশেষভাবে মেয়েদের একটু ভয় পেলেই সোডিয়াম+ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হয়। এরপর সেখান থেকে নানান ফিজিওলজিক্যাল একশন শেষে ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় লো ব্লাড গ্লুকোজ।
ব্লাড গ্লুকোজ লো থাকে এমন মানুষদের মধ্যে যাদের ব্লাড প্রেসার ধারাবাহিকভাবে কম থাকে, তারা পারটিকুলারলি আলাদাভাবে সোডিয়াম ইনটেইক করবেন। দিনে অন্তত এক্সট্রা হাফ টিস্পুন, তিন চার ভাগে ভাগ করে।
সবাইকে ধন্যবাদ।