19/09/2026
#সে আমার চিরস্নিগ্ধা
#হুমায়রা জান্নাত হিমি
# পর্ব:২০
তুশিতারা গ্রাম থেকে এসেছে আজ ৭ দিন হলো। অথচ এই ৭ দিনে একবারের জন্যও অর্ণবের সাথে কথা হয়নি তুশিতার। হয়নি বললে ভুল হবে তুশিতা ইচ্ছে করেই অর্ণবের সাথে কথা বলছে না। যথেষ্ট ignore করে চলছে। সেদিনের ওই ঘটনার পর তুশিতা এখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি। গ্রাম থেকে ফিরার পর অর্নব অফিসের কাজে অনেক ব্যস্ত হয়ে গেছে। তাই সেও আর তুশিতার সাথে কথা বলতে পারে নি।তবে একটু আধটু চেষ্টা করেছে কথা বলার but পারে নি।
তুশিতারা বসে আছে ভার্সিটির চত্বরে। আলিশা,,তুশিতা,,রিফা ছাড়াও ওদের আরও দুই টা ফ্রেন্ড আজকে ওদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। তাদের নাম হলো মেঘা আর মিলন। মেঘা আর মিলন যমজ ভাই বোন।সবাই খাবার আর আড্ডায় মেতে আছে। তুশিতা হঠাৎ করে লক্ষ্য করলো রিফা কথা বলছে না। শুধু চুপচাপ বসে ওদের কথা শুনছে। তুশিতা এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছে গ্রাম থেকে ফিরার পর। কিন্তু এতো দিন কিছু জিজ্ঞেস করে নি। কিন্তু এখন তুশিতার মনে হচ্ছে ওকে জিজ্ঞাসা করতেই হবে যে ওর হয়েছে টা কি ।তাই তুশিতা হঠাৎ বললো ------
------ মিলন,,মেঘা তোরা বস। আমরা একটু আসছি।
বলেই রিফা আর আলিশা কে নিয়ে হাঁটা শুরু করলো।
তারপর ওরা গিয়ে বসলো একটা বেঞ্চে। তুশিতা রিফার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো ---
--- কি হয়েছে তোর?
--- আমার আবার কি হবে।
---উহু , কিছু তো একটা হয়েছে তোর । তাড়াতাড়ি বল ।
--- আরে আমার কিছু হয়নি।
আলিশা বললো ---
---- মিথ্যা বলবি না রিফা । গ্রাম থেকে ফিরার পর থেকে দেখছি তুই যেনো কেমন হয়ে গেছিস।বল কি হয়েছে?
--- হুম, তাড়াতাড়ি বল।( তুশিতা)
--- আসলে গ্রাম থেকে ফিরার পর আমার সেই ডাইরি টা খুঁজে পাচ্ছি না,,তাই একটু মন খারাপ।
আসলে রিফার একটা ডাইরি আছে। যাতে ও ওর জীবনের সব সুন্দর ঘটনাগুলো লিখে রাখা। তবে সেটা হারিয়ে যায় নি । ওদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই মিথ্যা কথা টা বললো।
--- পাগল নাকি তুই। এই সামান্য বিষয়ের জন্য তুই মন খারাপ করে বসে আছিস।( আলিশা)
---- থাক মন খারাপ করিস না। যা হবার তা হয়ে গেছে।( তুশিতা)
--- হুম।
----- চল এইবার যাই।
--- হুম।
এখন বাজে বিকাল সাড়ে চারটা। চৌকিদার বাড়িতে বসে আছে চৌকিদার বাড়ির বড় কর্তা তৌফিক চৌকিদার,,, তারেক চৌকিদার,,, আলতাফ আকন আর আসলাম তালুকদার।
তারা মূলত মিটিং বসিয়েছে তানজিম আর রিয়াদের বিয়ের ডেট ঠিক করার জন্য। অতঃপর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো সামনের মাসের ৫ তারিখ তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে। এবং ৪ তারিখ গায়ে হলুদ আর ৬ তারিখে রিসেপশন।
তুশিতারা তো খুশিতে শেষ। আবার বাড়িতে অনুষ্ঠান হবে । কতো মজা হবে ।
রাতের খাবার খেয়ে তুশিতা গেছে ছাদে। তুশিতার আবার ভয় কম । তাই রাতে একাই ছাদে যায়। এটা ও মাঝে মাঝেই করে । তুশিতা ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে গুন গুন করছে।
তখনি পেছন থেকে কেউ বলে উঠলো----
--- আরেকটু জোরে গা । ঠিক মতো শুনতে পাচ্ছি না।
তুশিতা পেছনে তাকিয়ে দেখে অর্নব দুই হাত পকেটে গুজে দাঁড়িয়ে আছে। তুশিতা ওকে দেখে ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো।
--- কিরে এই ভাবে হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?
--- আ আপনি এখানে....?
---- কেন আমার কি এখানে আসা নিষিদ্ধ।
--- না মানে
---- মানে.......
---- কিছু না।
বলে তুলিতা হাঁটা শুরু করলো নিচের উদ্দেশ্য । ঠিক তখনি অর্নব তুশিতার এক হাতের কব্জি ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
---- পালিয়ে বেড়াচ্ছিস কেন আমার থেকে?
---- পালাবো কেন।
----- তা হলে কি করছিস।
--- কিছু না,, ছাড়েন নিচে যাবো।
--- ছাড়বো না। পারলে ছাড়িয়ে নে।
--- দেখেন তেড়্যামো করবেন নাহ ।
---- তেড়্যামোর দেখেছিস কি । লিসেন,,, আমাকে আরেক বার ignore করার চেষ্টা করলে এমন কিছু করবো যাতে .......
--- যাতে ?.
--- সেটা না হয় ignore করলেই বুঝতে পারবি। So, be careful. যাহ।
তুশিতা অর্নবের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।তা দেখে অর্নব বললো
---- এভাবে হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন? আমার থেকে কিছুমিছু চাই বুঝি। চাইলে বলতে পাড়িস আমার আবার মন বড় । কি লাগবে নাকি?
--- আপনি বড্ড নির্লজ্জ অর্নব ভাই।
বলেই তুশিতা নিচে যাওয়া ধরলো। আর মনে মনে বললো
--- ইস কি ঢং । নিজে যাতা করবে আবার ignore করলে হুমকি দিবে। হু
তুশিতার যাবার পানে তাকিয়ে থেকে অর্নব বললো
---- আমি নির্লজ্জ,, বেহায়া,,, উন্মুক্ত,,, বড়াডবড়ি তোর জন্য। আমার সমস্ত কিছুতে শুধু তোর অধিকার। শুধু তোর।
তারপর অর্নব তাসিফ কে নিয়ে বেড়িয়ে গেল। আর তারপর ঠিক কত রাতে তারা বাড়ি ফিরলো তার কোনো ঠিক নেই। ওরা মাঝে মাঝেই এমন করে । অর্নব,,তাসিফ,, রিয়াদ আর আশিক মিলে কথায় যায় । তা কেউ জানে না।
চলবে.........
( যেহেতু আমি অনেক দিন গল্প দেই নি। সেহেতু টাইমিং টা অনেক এলোমেলো হয়ে গেছে। সবাই প্লিজ একটু মানিয়ে নিন। আর হ্যাঁ প্লিজ বেশি বেশি ভালোবাসা চাই। ) .......💝❤️🩹