21/01/2026
🚨 টেকনাফে নবী হোসেন গ্রুপের অস্ত্র ও মাদক সন্ত্রাস, সংকটে সীমান্ত নিরাপত্তা
কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তভিত্তিক অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের উপকূল, দুর্গম পাহাড়, নাফ নদী, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও মিয়ানমার সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা এই এলাকাকে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের আদর্শ করিডোরে পরিণত করেছে।
এই বাস্তবতায় নবী হোসেন গ্রুপ এখন টেকনাফ সীমান্তের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ভয়ংকর সশস্ত্র চক্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্থানীয়ভাবে তারা "আরকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)" নামেও পরিচিত। মুখে রোহিঙ্গাদের কথা বললেও নবী হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রুপ সাগর ও পাহাড়জুড়ে ইয়াবা পাচার, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মানবপাচার এবং সশস্ত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
গভীর রাতে মিয়ানমার উপকূল থেকে ট্রলার ও স্পিডবোটে ইয়াবার বড় চালান এনে স্থানীয় দালাল ও অসাধু জেলেদের সহায়তায় খালাস করা হয়; পরে সেগুলো পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুত করে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক সশস্ত্র ঘাঁটি, যেখানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রাখা হয় এবং যা নিরাপদ আশ্রয় ও চলাচলের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের পর সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে নবী হোসেন গ্রুপ সীমান্তভিত্তিক একটি সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং ক্যাম্পের কিছু রোহিঙ্গা যুবককে আরাকান স্বাধীনতার মিথ্যা কথা বলে নিজেদের কার্যক্রমে যুক্ত করে।
এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা, সাগরপথ বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়; অস্বীকৃতি জানালে হুমকি, মারধর ও অপহরণের শিকার হতে হয়।
ভয়ের পরিবেশের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না। মাদক রুট ও এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে একাধিকবার গুলিবিনিময়ে জড়িয়ে পড়ে এই গ্রুপ যা পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে স্থায়ী ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
নবী হোসেন গ্রুপ আজ আর কেবল একটি স্থানীয় অপরাধচক্র নয়; এটি বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি। টেকনাফের সাগর ও পাহাড় কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যা মাদক ও অস্ত্রের আন্তর্জাতিক রুটকে আরও শক্তিশালী করছে।
এই সশস্ত্র চক্রের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও জেলেরা যারা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছে। সীমান্ত রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবী হোসেন গ্রুপকে দ্রুত, সমন্বিত ও কঠোর অভিযানের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া এখন রাষ্ট্রের কাছে সীমান্তবাসীর দাবি।