12/07/2026
কিছু কথা বলতে চেয়েও পারি না।
কিন্তু চট্টগ্রামের এই খারাপ সময়ে এবার কেন যেন কেউ জোর দিয়ে এগিয়ে আসতে পারছে না। এর পেছনে আমাদের নিজেদের নোংরা মানসিকতাই অনেকটা দায়ী।
২০২৪ সালের বন্যায় নিজের সবটুকু দিয়ে ফেনী ও নোয়াখালী গিয়েছিলাম। পানি কেনার মতো টাকাও তখন আমাদের ছিল না। তাই পুরোনো বোতল কিনে প্রায় ১০ হাজার বোতল পানি নিজেরাই বোতলজাত করি। নিজের টাকা আর পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে কিছু সহযোগিতা নিয়ে প্রায় দুই ট্রাক ত্রাণ নিয়ে যাই।
অফিসের সব ছেলেদেরও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম ত্রাণের কাজে। তখন একবারও ভাবিনি বিজনেসের কী ক্ষতি হবে। শুধু মনে হয়েছিল, আগে মানুষ।
তারপরও আমি কখনো ফেসবুকে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে ফান্ড চাইনি। কারণ একটা জবাবদিহিতার ব্যাপার আছে। যতটুকু পেরেছি নিজেরা করেছি, আর পরিচিতদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সারারাত ওয়াসা থেকে খালি বোতলে পানি ভরেছি।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছিল গাড়ি নিয়ে। কোনো ট্রাকই যেতে চাইছিল না। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে স্টেডফাস্ট থেকে দুইটা ট্রাকের ব্যবস্থা করি।
আলহামদুলিল্লাহ, দুই দিন সেখানে ছিলাম। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অল্প হলেও কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছিলাম।
কিন্তু ফিরে আসার পর শুরু হলো আসল নোংরামি।
কত মানুষ কত কথা বলেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কেউ বলেছে ফুটেজখোর, কেউ বলেছে ভিউ ব্যবসায়ী, কেউ বলেছে ইমোশনাল ব্যবসা করছি। আরও কত কী!
অনেকেই ভাবছে টাকা কামাইছি অনেক, অথচ আমি ফান্ডিং ই করিনি কখনো।
একবার চিন্তা করে দেখেন… একটা ছেলে নিজের ব্যবসা বাদ দিয়ে, নিজের টাকা খরচ করে, কারও কাছ থেকে এক টাকাও না তুলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গেল। তারপরও তাকে এসব শুনতে হলো। এমনকি এর প্রভাব আমার ব্যবসার ওপরও পড়েছিল।
তাহলে সেই জায়গায় অন্য যারা সেলিব্রিটি, তারা কীভাবে সাহস পাবে?
তাদের তো নিজের টাকা দিয়ে সব করা সম্ভব হয় না। তাদের শক্তি হলো তাদের ফলোয়ার। সেই ফলোয়ারদের কাছ থেকে টাকা তুলে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
কিন্তু সেই জায়গাতেও যদি আমরা শুধু নোংরামি করি, তাহলে তারা সামনে এগোবে কীভাবে?
যাই হোক, ভালো কাজ করতে গেলে সমালোচনা হবেই। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না।
আমি নিজেও সহ্য করতে পারছি না যে একটা বন্যায় একটা জেলার ৪০/৫০ জন মানুষ মারা গেল, অথচ আমরা যেন খুব স্বাভাবিক হয়ে বসে আছি। কেউ তেমন কথা বলছে না, কেউ এগিয়ে আসছে না।
এটা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না।
যাই হোক, এত কিছু লিখতে চাইনি। কিন্তু এসব আমি সহ্য করতে পারি না।
ইনশাআল্লাহ, আবারও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব নিজে গিয়ে হোক, অথবা অন্য কোনোভাবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন।
আমীন।