05/09/2024
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি চাকুরে মাসুদ পারভেজ। ছোট পরিবার নিয়ে তাঁর বসবাস। আগে কখনো তিন হাজার টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিলের পেছনে ব্যয় করতে হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে প্রতি মাসে তাঁকে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।
কোনো মাসে আবার আট থেকে ৯ হাজার টাকাও রিচার্জ করতে হয়েছে। বিষয়টি বিতরণ কম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডে (ডিপিডিসি) একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাননি। মাসুদের মতো এমন অস্বাভাবিক বিলের কবলে দেশের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। বিদ্যুতের পেছনে এ বাড়তি ব্যয় করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন তাঁরা।
বিতরণ কম্পানিগুলোর দাবি, গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি বিল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকের ব্যয় বেড়েছে। প্রি-পেইড মিটার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। ভোগান্তি কমানোর কথা বলে চালু করা বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার এখন অনেক গ্রাহকের কাছে আতঙ্কের নাম।
এ প্রি-পেইড মিটারের বেসামাল বিদ্যুৎ বিলে টালমাটাল গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে টাকা বেশি কাটা হচ্ছে। বেশ কয়েক মাস ধরে মিটারে রিচার্জ করলে টাকা থাকছে না, বাড়তি টাকা কেটে নিচ্ছে কম্পানিগুলো। প্রতিবার প্রি-পেইড মিটারে তিন হাজার টাকা রিচার্জে দুই হাজার ৬০০ টাকা থাকে। মুহূর্তেই তিন হাজার টাকার মধ্যে ৪০০ টাকা নাই হয়ে যায়। যতবারই রিচার্জ করা হয় ততবারই টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, বিতরণ পর্যায়ে গ্রাহককে ডিমান্ড চার্জ, মোট বিলের ৫ শতাংশ বিলম্ব মাসুল (বিলম্বে বিল পরিশোধ) এবং ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হয়। বিইআরসির অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর কোনো ধরনের চার্জ বা অর্থ আরোপ করার ক্ষমতা নেই বিতরণ কম্পানির। অথচ দেশের ছয় বিতরণ কম্পানি এমন সব খাতে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে, যাতে বিইআরসির অনুমোদন নেই।
রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই কম্পানি ডিপিডিসি এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) একাধিক প্রি-পেইড গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যুতের এ বাড়তি বিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার ডিপিডিসির গ্রাহক শাহ জামাল জানান, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে তাঁর প্রি-পেইড মিটারে খরচ হয় যথাক্রমে ১২০০ ও ১৪০০ টাকা। মে ও জুন মাসে তাঁর প্রায় দ্বিগুণ খরচ হয়। অথচ এই চার মাস বিদ্যুতের ব্যবহার একই রকম ছিল বলে দাবি তাঁর।
রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকার ডেসকোর গ্রাহক রিপন তালুকদার বলেন, ‘আগে আমার দেড় হাজার টাকা রিচার্জে এক মাস ভালোভাবেই চালানো যেত। এখন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা রিচার্জ করেও মাস শেষ হচ্ছে না।’
জানতে চাইলে ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী (এসঅ্যান্ডডি অপারেশন) মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘নিয়মের বাইরে আমরা কোনো বাড়তি টাকা নিইনি। প্রচণ্ড গরমের কারণে গ্রাহকরা বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়িয়েছে। বেশি ব্যবহারের কারণে এক ইউনিটের জন্য গ্রাহক শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, তখন বিলও বেশি আসছে। বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া, স্ল্যাব পুনর্বিন্যাস ও গরমে ব্যবহার বাড়ায় গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেশি হচ্ছে। ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত আবাসিকে প্রতি ইউনিট ৮ টাকার মতো, ৪০১ ইউনিট হলে তা সাড়ে ১২ টাকার ওপরে চলে যায়। মূলত এ কারণে গ্রাহকের বেশি টাকা কাটা যায়, অনেক সময় গ্রাহকরা বিষয়টি না বুঝে অভিযোগ দেন।’
সংবাদ বুলেটিন