29/06/2026
ায়াবেটিসকে অবহেলা করলে এটি ধীরে ধীরে শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে নিচের জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে:
ডায়াবেটিস অবহেলা করলে যে মারাত্মক জটিলতা হতে পারে
১. হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২. স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৩. কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে, এমনকি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হতে পারে।
৪. চোখের রেটিনার ক্ষতি (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি) হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে।
৫. স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি) হওয়ায় হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা অনুভূতি কমে যেতে পারে।
৬. পায়ে ক্ষত বা আলসার তৈরি হতে পারে, যা সহজে শুকায় না।
৭. সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে, কারণ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।
৮. পা পচে যাওয়ার (গ্যাংগ্রিন) ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ কেটে ফেলতে হতে পারে।
৯. উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সমস্যা বেড়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
১০. যৌন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন এবং নারীদের কিছু যৌন ও সংক্রমণজনিত সমস্যা।
১১. দাঁত ও মাড়ির রোগ বেশি হতে পারে।
১২. লিভারে চর্বি জমা (ফ্যাটি লিভার) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
১৩. ত্বকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১৪. স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রভাবিত হতে পারে।
১৫. ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (বিশেষত টাইপ–১) বা হাইপারসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক স্টেট (বিশেষত টাইপ–২) এর মতো জরুরি অবস্থা তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
মনে রাখবেন
ডায়াবেটিস মানেই এসব জটিলতা হবেই—এমন নয়। রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে এসব জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ: ভয় পাওয়ার জন্য নয়, সচেতন থাকার জন্য এসব তথ্য জানা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
যোগাযোগ করুনঃ 01906-833385