Tasfia &Towa story world

Tasfia &Towa story world story

 #কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ  #লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া  #পাঠ_৩❌কপি করা নিষেধ❌>>>>>>সময় সর্বদা বহমান। সময় কারো জন্য থেমে থা...
13/06/2026

#কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ
#লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া
#পাঠ_৩

❌কপি করা নিষেধ❌

>>>>>>

সময় সর্বদা বহমান। সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। লিখতে লিখতে কেটে যায় আরো কিছুদিন। সকাল ছয়টা বাজে। বাহিরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতিকে আরো স্নিগ্ধ লাগছে।

আজ কথা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে। কারণ আজ তার ভার্সিটি নেই। তাই সে এখন মর্নিং ওয়ার্কে বের হবে। সাধারণত এত সকালে কথা ঘুম থেকে ওঠে না। আজ তার কিছু জরুরী প্রয়োজনে এত সকালে ঘুম থেকে ওঠা। সময় ৬:৩০ বাজে।কথা রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। পরনে তার টাউজার আর টি-শার্ট। চুলগুলো জুটি করা। কানে ব্লুটুথ। আর হাতে ফোন।চারদিক নিরব মাঝে মাঝে দু একজনের আনাগোনা রয়েছে। এজন্য এক ভিন্ন ঢাকা শহর। কথা আন মনে হেঁটে যাচ্ছে। হঠাৎ তার কারো সাথে ধাক্কা লাগে।বিরক্তি নিয়ে সামনে তাকায় কথা।সামনে উপস্থিত ব্যক্তিকে সে মোটেও এই সময় তার সামনে আসা করে। কথা মনে মনে বলে ওঠে,
- দুনিয়ায় আর মানুষ নাই। এর সাথেই ধাক্কা লাগা লাগলো। আজ পুরো দিনটাই খারাপ যাবে।

অভ্রর প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যে মর্নিং ওয়ার্ক একটা। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয় অভ্র। নিয়াম অনুসারে আজকেও হাঁটতে বের হয়েছে অভ্র।হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খাওয়ায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে অভ্র। সামনে তাকিয়ে কথাকে দেখে বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে 'চ' সূচক উচ্চারণ করে বলে,
- চোখ কৈ থাকে তোমার?
- আমার চোখ আমার সাথেই থাকে। আপনি মনে হয় আপনার চোখ বাসায় রেখে এসেছেন। তা না হলে এতো জায়গা থাকতে আমার সাথেই ধাক্কা লাগতে হলো।
- Don’t cross your limit.
- আমি আমার লিমিটেই আছি। আপনি আপনার লিমিট ক্রস করে এসে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছেন।
রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে যায় অভ্রর।সকাল সকাল এরকম একটা পরিস্থিতি মোটেও আশা করিনি অভ্র। তাদের কথার মাঝেই কথার ফোনে কারো কল আসে। কথা ফোনটা রিসিভ করে। কিন্তু থেকে ওপাশ কি বলে তা শোনা। তারপর কথা 'আসছি' বলে ফোন কেটে দেয়।অভ্র এখনো ওর দিকে চোখ মুখ-শক্ত করে তাকিয়ে আছে। কথা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। যাওয়ার সময় অপ্রত উদ্দেশ্য করে বলে যায়,
- পরের বার থেকে চোখ সাথে করে নিয়ে আসবেন। যাতে যার তার সাথে ধাক্কা না লাগে।
অভ্রর ইচ্ছা করে নিজের মাথায় নিজেই বারি মারতে।কেন যে তার কথার সাথে প্রতিবার দেখা হয়ে যায় বুঝতে পারে না সে।
একজন লোক বলে ওঠে,
- ম্যাম আপনার পেনড্রাইভ।
গম্ভীর মুখে পেনড্রাইভটি হাতে নেয় কথা। এই পেনড্রাইভ তার বিগত দু মাসের পরিশ্রমের ফল।কথা বলে,
- ঠিক আছে তুমি যাও।
প্রত্যুত্তরে লোকটি বলে,
-ওকে ম্যাম।

কথা পেনড্রাইভটি নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে নিশা সোফায় বসে আছে। কথা আশেপাশে তাকায়। আশেপাশে আপাতত কেউ নেই। কথা গম্ভীর মুখে নিশাকে জিজ্ঞেসা করে
- প্রত্যয় আসে নাই।
- রাস্তায় আছে। একটু পরেই চলে আসবে।
- হুম। উপরে আয়।
কথাটা বলে কথা উপরে নিজের রুমে চলে যায়।সাথে নিশাও যায়।তার কিছুক্ষণ পরেই ঘরে উপস্থিত হয় প্রত্যয়। তাদের এতো দিনের পরিশ্রম আজ সফল হয়েছে। তাই তিনজন আজ মহাখুশি। নিশা বলে ওঠে,
- এই খুশিতে একটা পার্টি তো দিতেই হয়।
নিশার কথায় প্রত্যয় সায় জানিয়ে বলে,
- ঠিক ঠিক।
কথা সাধারণত হাসে না। আর হাসলেও সবার সামনে না। কথা হাসি মুখে উত্তর দেয় ,
- অবশ্যই পার্টি তো হবেই।
এই কথা শোনার সাথে সাথে হৈ-হুল্লোড় শুরু করে দেয় প্রত্যয় আর নিশা। কথা তার বাবা সাফওয়ান চৌধুরীকে গিয়ে সব বলে। আর সব কথা শুনি সাফওয়ান চৌধুরী মহাখুশি হন আর পার্টির ব্যবস্থা শুরু করেন।

অভ্র গম্ভীর মুখে বসে আছে। তার সামনে ফারাবী। দুইজনই নিরব। হঠাৎ নিরবতা ভেঙে ফারাবী জিজ্ঞেস করে,
- পেনড্রাইভটা কে নিতে পারে?
অভ্র অন্য দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়,
- জানিনা। তবে যে নিয়েছে সে সাধারণ কেউ না।
ফারাবী বলে,
- তা ঠিক। এতো হাই সিকিউরিটি ভেঙে পেনড্রাইভটা আনা কোনো সাধারণ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।
অভ্র মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।

চৌধুরী বাড়িতে আজ খুশির শেষ নেই। কারণ আজ চৌধুরী বাড়িতে এক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। সাফওয়ান চৌধুরী তার সকল ফ্রেন্ড ও আত্মীয় স্বজনদের ইনভাইট করেছেন এই পার্টিতে। সাথে আরও কিছু গেস্ট আসবে।
এই উপলক্ষে সবাই আজ শপিংয়ে যাবে। নিরব, নিশাদ,রোজা,রোদ সবাই রেডি হয়ে নিচে বসে আছে। কথা আসার পর তারা একসাথে বের হবে। কিন্তু কথার আসার নামই নেই। কিছুক্ষণ পর কথা আসে। পরনে জিন্স আর শর্ট কুর্তি। ফোনে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে আসে কথা নিচে নেমে কথা সকলের উদ্দেশ্য বলে ওঠে,
- চল চল এমনিতেই লেট হয়ে গেছে।
সকলে সম্মতি জানালেও নিরব বলে ওঠে,
- আপু তুমিই তো লেট করেছো।
ওর নাম নিরব হলেও ওর চরিত্র ওর নামের ঠিক বিপরীতটা। ভাই-বোনদের মধ্যে সব থেকে বেশি দুষ্টমি ও কথা বলে নিরব। নিরবের কথা শুনে কথা ঘুরে তাকায় ওর দিকে। কথার চাহনি দেখে নিরব চুপ হয়ে যায়।কথা হাসি মুখে জবাব দেয়,
- আচ্ছা সরি এবার চল।
কথা স্বভাবে একটু রাগি হলেও ভাই-বোনদের সাথে যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করে। তার খুব আদরের ভাই-বোন এরা। বাহিরে প্রত্যয় ও নিশা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওদের জন্য। ওরা মোট তিনটি গাড়ি নিয়েছে। ওরা কোনো ড্রাইভার নেয়নি। আজ ওরা নিজেরাই ড্রাইভ করবে। নিশার সাথে যাবে রোদ যাবে একটা গাড়িতে। প্রত্যয়ের সাথে নিরব যাবে একটা গাড়িতে। আর কথার সাথে রোজা ও নিশাদ যাবে একটা গাড়িতে। সকলে যে যার মতো গাড়িতে উঠে পড়ে। পর পর তিনটা গাড়ি এক সাথে বের হয়ে যায় চৌধুরী মহল থেকে।

চলবে......

 #কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ  #লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া  #পাঠ_২❌কপি করা নিষেধ❌>>>>>>আজ ভার্সিটির দ্বিতীয় দিন। কথা, নিশা, ও প...
12/06/2026

#কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ
#লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া
#পাঠ_২

❌কপি করা নিষেধ❌

>>>>>>

আজ ভার্সিটির দ্বিতীয় দিন। কথা, নিশা, ও প্রত্যয় তিনজন ক্যান্টিনে বসে আছে। নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। কখনো হাসছে আবার কখনো রাগ করছে। এভাবেই খুনশুটিতে মেতে আছে তিনজন।ঠিক সে সময় ভার্সিটির গেট দিয়ে প্রবেশ করে দুইটি কালো বাইক। সব মেয়েরা হাঁ করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। বাইক থেকে নামে অভ্র ও ফারাবী। অভ্র সোজা এসে দাঁড়ায় কথার সামনে। কথা কিছুটা অবাক হয়। সে এখন অভ্রকে তার সামনে মোটেও আশা করেনি অত্র বলে,
- কাল আপনি আমাকে যা বলেছেন তা মোটেও সত্যি ছিল না মিস "সিয়ারা চৌধুরী কথা"।আমি ঐসব বিষয় কিছুই জানতাম না। আর না আমার সেখানে কোন দোষ ছিল। সো বিনা অপরাধে আমাকে এতগুলো কথা শোনার জন্য সরি বলুন।
কথা স্মিত হাসে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অভ্রর চোখে চোখ রেখে বলে,
- একজন ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট রেগিং কি তা জানেনা বা বোঝেনা এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলছেন মিস্টার "আফনান শেখ অভ্র"।তাও আবার আপনার মতো একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টকে।আর রইল সরি বলার কথা। আমি যেখানে ভুলই করিনি সরি কেন বলবো।
এবার প্রচন্ড রেগে যায় অভ্র। তাও নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে বলে,
- ট্রাস্ট মি। আমাকে ওখানে মিথ্যা কথা বলে নেওয়া হয়েছে।
- আচ্ছা মানলাম আপনাকে ওখানে মিথ্যা কথা বলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু চোখ পেতে তো নেওয়া হয় নি। সব দেখার পরও আপনি কিছু বুঝেন নাই। এতটা অবুঝ না আপনি মিস্টার অভ্র।
কথাগুলো কিছুটা রেগে বলে কথা।
নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অভ্র বলে,
- আমি মোটেও এমন ছেলে নই মিস কথা।
কথা এবার নিজের বুকে আড়াআড়ি ভাবে হাত ভাঁজ করে আরো এক ধাপ সামনে এসে বলে,
- তা আপনি কেমন মানুষ? মিস্টার অভ্র।
- আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই আমি।
- তাহলে আমিও আপনাকে সরি বলতে বাধ্য নই।
কথাটা বলে সাথে সাথে স্থান ত্যাগ করে কথা।অভ্র রাগে সামনে টেবিলে থাকা ক্লাসটা আচার মারে।

আজ আবারো একবার সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে কথা। যেখানে ভার্সিটি কেউ অভ্র সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস পায় না। সেখানে তার চোখে চোখ রেখে কথাগুলো বলে গেল কথা। অনেকে এখনো হতবাক আর অনেকে অভ্র এই অবস্থা দেখে মিটিমিটিয়ে হাসছে।
আর এতক্ষণে ঘটে যাওয়ার সমস্ত বিষয় খেয়াল করছিল অমিহা। "সুশ্রী শেখ অমিহা"। অভ্রর একমাত্র ছোট বোন।সেও এই ভার্সিটিরতেই পড়ে। সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট সে। আজ প্রথমবার তার ভইকে কারও সাথে হারতে দেখলো সে। বিষয় বেশ ভালোই লাগলো তার কাছে।অমিহা মনে মনে বলে ওঠে,
- মেয়েটদ বেশ ইন্টারেস্টিং। মেয়েটার মধ্যে কিছু তো আছে। ভাইয়ের বউ হিসেবে খারাপ না। ভাবি হিসেবে আমার একেই লাগবে।আজকে বাসায় গিয়েই বাবাকে বলবো আমি।
ভার্সিটি শেষে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তিন ফ্রেন্ড। হঠাৎ প্রত্যয় বলে ওঠে,
-আরে ভাই প্রচুর ক্ষুধা লাগছে।পেটের মধ্যে ইদুর, মহিষ,হাতি, ঘোড়া সব দৌড়াইতাছে ক্ষুধায়।
প্রত্যয়ের কথায় সম্মতি জানিয়ে নিশাও বলে,
- ঠিক বলছোছ।আমারও সেম।চল আশেপাশে কোন রেস্টুরেন্টে যাই।
এবার কথা বলে ওঠে,
- ঠিক আছে। আজকে আমার পক্ষ থেকে ট্রিট।
কথাটা শুনে খুশিতে লাফিয়ে ওঠে প্রত্যয় আর নিশা।এরপর একটা রিকশায় উঠে পরে তিনজন। কিছুদূর যাওয়ার পর খেয়াল করে দুইজন ছেলে মিলে একটি মেয়েকে টিজ করছে। বিষয়টা ভালোভাবে খেয়াল করলে কথা বুঝতে পারে এটা আর কেউ না তারই বোন রোদ। রমজান চৌধুরীর বড় মেয়ে। এটা বোঝার সাথে সাথে রিকশা থামিয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়ে কথা ও নিশা। কলেজ ছুটি হওয়ার পর এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল রোদে। তখনই দুজন ছেলে তার সাথে বাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। চৌধুরী বাড়ির সকল মেয়েরাই সুন্দর।রোদের গায়ের রং হলুদ ফর্সা। দেখতে মাশাল্লাহ। দুইজন মেয়েকে যেতে দেখে রিকশা ওয়ালা প্রত্যয়ের উদ্দেশ্য বলে ওঠে,
- ভাইজান আপনে যাইবেন না। দুইটা মাইয়া পোলাগো লগে পারবো।
রিকশা ওয়ালার কথা শুনে প্রত্যয় উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করে। যেন সে খুব মজার কিছু শুনেছে। প্রত্যয় নিজের হাসিকে কোন মতে থামিয়ে বলে,
- আরে মামা ওই দুইটা মাইয়ারে দেখতে যতটা মাসুম আর নিষ্পাপ লাগে ততটা নিষ্পাপও ওরা না। আমার মত দশটা পোলারে উপরে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে ওই দুইটা মাইয়া।

কথা এসে সেই ছেলেগুলোর সামনে দাঁড়ায়।পাশে নিশা।কথা কে দেখে যেন রোদের দেহে প্রাণ ফিরে এলো। সে এক দৌড়ে কথার পেছনে এসে দাঁড়ায়। কথা একটা ছেলে দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,
- কি সমস্যা?
সেখানে উপস্থিত একটা ছিল বলে ওঠে,
- You are so hot darling.( ইয়ু আর সো হট ডার্লিং)।
আপনার ছেলেটি বলে,
- সমস্যা তো তুমি মেরি জান। এতক্ষণ একজন ছিল এখন তিনজন। তিনজনেই দেখতে পুরো আগুন।
কথাটা বলে খুব বাজে ভাবে হাসি দেয় ছেলে দুটো। তাদের হাসি দেখে কথা শরীর রাগে আগুনের মত দাও দাও করে জ্বলে ওঠে। তাও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে,
- ও তাই নাকি। আপনারা না বললে তো জানতামই না।
একজন ছেলে বলে ওঠে,
- রেট কতো তোর? এক রাতের জন্য।
আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারল না কথা। ছেলেটার বুক বরাবর লাথি মারে। ছেলেটা রাস্তায় পড়ে গেল।ছেলেটা আবার উঠতে নেবে ঠিক তখনই ছেলেটার এক হাত মোচড় দিয়ে মাথায় পারা দিয়ে রাস্তায় চেপে ধরে কথা। দাঁতে দাঁত পিছে বলে ওঠে,
- রেট তোর কলিজা। কুত্তার বাচ্চা।
অপর ছেলেটি কথার হাত স্পর্শ করবে ঠিক তখনিই পেছন থেকে নিশা ছেলেটির মাথা ধরে স্বজোড়ে রাস্তার দেয়ালের সাথে বাড়ি মারে। তৎক্ষণাৎ মাথা ফেটে রক্ত বেরাতে শুরু করে। আর কথা সেই ছেলেটির হাত এত জোরে মচোড় দিয়ে ধরে যে ছেলেটির হাত ভেঙে যায়। ছেলেদের কোনোমতে নিজেদের জীবন নিয়ে পালায়।

কথা এবার রাগী দৃষ্টিতে তাকায় রোদের দিকে।রোদ বৃষ্টি নত করে রেখেছে। তার যে এখন বকা শুনতে হবে তা তার ভালো করেই জানা। কথা এবার রাগী গলায় বলে ওঠে,
- গাড়ি কই তোর? একা বের হয়েছিস কেন?
চৌধুরী বাড়ির সকলেই গাড়ির সাথে চলাচল করে।শুধুমাত্র কথা ছাড়া। তার গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে ভালো লাগেনা।গাড়িতে চলাচল করতে দম বন্ধ লাগে। তাই সে গাড়ি ব্যবহার করে না। রোদ এবার ভীত কণ্ঠে বলে,
- আসলে আপু। তুমি সব সময় গাড়ি ছাড়া বের হও।তাই আজকে আমিও গাড়ি আনিনি।
কোথায় এবার উচ্চস্বরে বলে ওঠে,
- এত বড় হয়ে গেছিস এখন। নিজের আত্মরক্ষা করতে পারিস।আজকে আমি না আসলে কি হতো তোর ধারণা আছে।
কথাগুলো শুনে চুপসে গেল রোদ।কথা সে যথেষ্ট ভয় পায়। শুধু সে না বাড়ির সব ভাই- বোনেরাই কথাকে প্রচন্ড ভয় পায়। তার এই রাগি স্বভাবের কারণে। নিশা রোদের সামনে দাঁড়িয়ে থুঁতনি ধরে রোদের মাথা উঁচু করে রোদের গালে হাত দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,
- আর কখনো গাড়ি ছাড়া একা বের হবে না মনে থাকবে।
রোদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। নিশা রোদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়। কথা ড্রাইভারকে ফোন করে বলে গাড়ি নিয়ে আসার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে তাদের সামনে উপস্থিত হয়। রোদকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে কথা ও নিশায় গিয়ে রিকশায় বসে ও সেখান থেকে চলে যায়।

এতক্ষণে ঘটে যাওয়া সম্পূর্ণ ঘটনাটা পর্যবেক্ষণ করছিল পাশের চায়ের দোকানে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অভ্র ও ফারাবী
ফারাবী উত্তেজিত কন্ঠে বলে ওঠে,
- ভাই মেয়েরা ও এমন হতে পারে এদের না দেখলে বুঝতামই না।
ফারাবীর কথা শুনে অভ্র বলে ওঠে,
- হুম। মেয়েটার ব্যাপারে যা শুনেছিলাম তা একটুও মিথ্যা না। চৌধুরী কন্যার সাহস আছে বলতে হবে।
ফারাবী এবার অভ্রকে খোঁচা মেরে বলে ওঠে,
- সাহস তো আছেই। সাহস না থাকলে কি তোকে পরপর দুইদিন ওভাবে সাবান ছাড়া ধুইতে পারতো।
অভ্র এবার ফারাবীর দিকে এমন ভাবে তাকায় যেন তাকে খেয়ে ফেলবে।

আমিনা বাসায় এসে ভার্সিটির সব ঘটনা বলে তার বাবা "আনাফ শেখ" এর কাছে। তিনি একজন বিজনেসম্যান ও রাজনীতিবিদ।অভ্রর মা "অনিমা বেগম" সব কথা শুনে হাতবাগ প্রায়। অভ্রকেও কেউ কথা শোনাতে পারে।তাও আবার একজন মেয়ে। অপর বাবারা তিন ভাই-বোন।অভ্রর বড়ো ফুপি "আরিফা শেখ"। তার এক মেয়ে নাম 'নদী'।সে এখন একটি নামকরা কলেজের টিচার।অভ্রর আাবা মেঝ।তারপর অভ্রর ছোট ফুপি "মুনিরা শেখ"। তার এক ছেলে নাম 'মাহাদী'।বয়স মাত্র দুই বছর।
ঘটনাটা শোনার পর আনাফ শেখ বলেন। কথা তার বন্ধু সাফওয়ান চৌধুরীর মেয়ে।ছোটবেলায় তিনি একবার দেখেছিলেন কথাকে। যদিও সাফওয়ান চৌধুরীর সাথে তার এখনো প্রায় দেখা হয়।

বাসায় এসে কথা জানতে পারে তার ছোট আব্বুর বিয়ে ঠিক হয়েছে। কথা তার চাচাদের আব্বু বলে সম্বোধন করে। মেঝ চাচাকে মেঝ আব্বু, সেজো চাচাকে সেজো আব্বু, ছোট চাচাকে ছোট আব্বু বলে ডাকে। তাদের স্ত্রীদের মেঝ আম্মু ও সেজো আম্মু বলেই ডাকে।
আর তিন মাস পর রায়ান চৌধুরীর বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে। বাড়িতে উৎসব উৎসব ভাব। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। ছোটরা সবাই হইহুল্লা করছে বিয়ের শপিং করার জন্য।

চলবে........

14/04/2026
20/03/2026

Eid Mubarak ゚viralシfypシ゚viralシalシ

15/03/2026

হায় আফসোস। #উপন্যাস ゚viralシfypシ゚viralシalシ

 # কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ # লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া # পাঠ_১❌কপি করা নিষেধ ❌>>>>>>— দোস্ত আজকে নতুন একজন রেসার এসেছে। সে ...
07/02/2026

# কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ
# লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া
# পাঠ_১

❌কপি করা নিষেধ ❌

>>>>>>

— দোস্ত আজকে নতুন একজন রেসার এসেছে। সে নাকি আজ পর্যন্ত কোনো রেসে হারেনি।
হঠাৎ বলে ওঠে ফারাবি।
এবার ফোনের স্কিন থেকে চোখ সরায় অভ্র।
"আফনান শেখ অভ্র " শেখ বাড়ির একমাত্র ছেলে। বয়স পঁচিশ। ভার্সিটিতে পড়ে এবার ফাইনাল ইয়ার। গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা। লম্বা ছয় ফুট। সেট করা চুল। পরনে জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট। জীম করা বডি। ভার্সিটির সকল মেয়েদের ক্রাশ। ফারাবী অভ্রর বেস্ট ফ্রেন্ড।
ফারাবীর কথায় অভ্র জবাব দেয়।
- তো? আগে কখনো হারেনি আজ হারবে।
- বেডা সে একজন মেয়ে।
ফারাবীর কথায় সামন্য অবাক হয় অভ্র। বলে,
- ইন্টারেস্টিং। আ গার্ল,
এই কথা বলেই সামনে চোখ যায় অভ্রর। এক রমণী তার দিকেই হেঁটে আসছে। পরণে জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট
তার উপরে লেদার জেকেট।হাতে হেলমেট। দুধে আলতা গায়ের রং। পোনিটেল করা চুলগুলো কোমরের নিচ পর্যন্ত পরছে। ছাড়লে হয়তো হাঁটু পর্যন্ত পড়বে চুলগুলো। সবচেয়ে অদ্ভুত হলো তার চোখ। নীল চোখ মেয়েটির। অভ্র এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেয়েটির দিকে।কথা অভ্রর সামনে এসে চোখে চোখ রেখে বলে,
- রেস শুরু করা যাক।
কথার কথায় ঘোর কাটে অভ্রর। সে মাথা জাকিয়ে সম্মতি জানায়।
রেস শুরু হয়। অধিকাংশ লোকই অভ্রর পক্ষে। সবার মুখে একটাই নাম 'অভ্র' 'অভ্র' 'অভ্র'। রেস প্রায় শেষের
দিকে কথা এখনো অভ্রর থেকে অনেকটাই পিছনে। সাধারণ দৃষ্টিতে কথার হার নিশ্চিত। শেষ ট্রান এর পর রেস শেষ। কথা একটা মুচকি হাসি দেয় এর পর বাইকের সর্বোচ্চ স্প্রিট বাড়িয়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে কথার বাইক আগে চলে যায়। কথা ফাস্ট। এক মিনিটের জন্য সবাই স্তব্ধ। আজ প্রথম কোনো রেসে হারলো অভ্র। তাও আবার একজন মেয়ের কাছে। ভাবা যায়। বিষয়টা বেশ অপমান জনক লাগলো অভ্রর কাছে। রেস জিতার পর আর কোথাও পাওয়া গেল না কথাকে। অভ্র খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এই মেয়ের নাম "সিয়ারা চৌধুরী কথা"। চৌধুরী বাড়ির বড়ো কন্যা ও বাংলাদেশের টপ বিজনেস মেন " সাফওয়ান চৌধুরীর" একমাত্র সন্তান।
রাত বাজে একটা বাড়ির সবাই হল রুমে বসে আছে। "সাফওয়ান চৌধুরী", "সালমান চৌধুরী", "রমজান চৌধুরী"ও "রায়ান চৌধুরী" চার ভাই অনাব্রত ফোন দিয়ে যাচ্ছে কথাকে।কিন্তু ফোন বার বার সুইচ অফ বলছে। সাধারণত এমন কখনো হয় না। যত কিছুই হোক না কেন কথার ফোন কখনো বন্ধ থাকে না। "সালমান চৌধুরী" চৌধুরী বাড়ির মেজো ছেলে। তার স্ত্রী নীলা বেগম। তাদের দুই ছেলে। "নিরব ও নিশাদ"।নিরব ক্লাস টেনে ও নিশাত ক্লাস নাইনে পড়ে। সেজো ছেলে "রমজান চৌধুরি"। তারে স্ত্রীর নাম নুপুর। তার দুই মেয়ে। "রোজা ও রোদ"। রোজ এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী ও রোদ সে ক্লাস নাইনে পড়ে। "রমজান চৌধুরী" বাড়ির ছোট ছেলে। সে এখনো অবিবাহিত। কথার মা কিয়ানা মেয়ের চিন্তায় অস্থির। কিয়ানারও কথার মতো নীল চোখ। আসলে সে বিদেশী। সাফওয়ান চৌধুরী যখন পড়া-লেখার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন তখন তার কিয়ানার সঙ্গে দেখা হয়। তারপর বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কটা ভালোবাসায় রূপ নেয়। তারপর বিয়ে করে কিয়ানা সাফওয়ানের চৌধুরীর হাত ধরে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশে আসার এক বছর পর তাদের ঘর আলো করে কথা আসে। বাবা-মার খুব আদরের সন্তান কথা। তার জন্য পরে আর সন্তান নেয়নি তারা। রাত একটা বিশ বাজে বাড়িতে প্রবেশ করে কথা। সকলে দৌড়ে যায় কথার কাছে। সাফওয়ান চৌধুরী জিজ্ঞেসা করেন,
- কই ছিলে এতক্ষণ? ফোন বন্ধ কেন তোমার? জানো
আমরা কতো চিন্তা করছিলাম।
কথা বেশ ক্লান্ত। রেসের পর সোজা বাড়িতে চলে আসে সে। ফোনের চার্জ শেষ তাই বন্ধ হয়ে গেছে। কথা বলে,
- ফোনের চার্জ শেষ তাই বন্ধ হয়ে গেছে। আর আজকে আমার একটা রেস ছিল।
সাফওয়ান চৌধুরী রাগান্বিত হয়ে বলেন,
- তোমাকে কতো বার নিষেধ করছি এইসব রেস টেস বাদ দিতে। কেন আমার কোনো কথা শোনো না। জানো আমার কতো চিন্তা হচ্ছিল।
বাবার কথার কথা বুঝতে পারে সে রেগে আছে। তাই গিয়ে বাবাকে জরিয়ে ধরে বলল,
- সরি বাবা আর লেট হবে না। রাস্তায় বাইকের তেল শেষ হয়ে গিয়েছিলো তাই আসতে দেরি হয়েছে। সরি।
মেয়ের কান্ডে অবাক হয় না সাফওয়ান চৌধুরী। তার মেয়েটা এমনি। রাগী, বদ মেজাজী,খুব চঞ্চল যখন যা ইচ্ছে তাই করে। সাফওয়ান চৌধুরী বললেন,
- ঠিক আছে। এই কথাটা মনে থকে যেন।
এবার কিয়ানা চৌধুরী একটু রাগী স্বরে বলে ওঠেন,
- যা ইচ্ছে তাই করো তোমরা দুই বাপ-মেয়ে। মেয়ে যাই করে বাবা তাতেই সায় দেন। দিন দিন আরও বেশি ফাজিল হয়ে যাচ্ছে এই মেয়ে।
কথাটা বলে সে তাকায় কথার দিকে। কথা এখন বাবার পেছনে আশ্রয় নিয়েছে। সে যতই রাগী হোক, যতই সাহসী হোক মাকে সে ভাষণ ভয় পায়।
- কেউ কী বলবে এতক্ষণ কেউ একজন মেয়ের জন্য
অস্থির হয়ে যাচ্ছিল। কান্না করছিলো।
কথাটা একটু টিটকারি করে বললেন সাফওয়ান চৌধুরী। কথাটা শুনে কিয়ানা বেগম রাগে গট গট করে চলে গেলেন নিজের রুমে। হল রুমে উপস্থিত সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন।
কথা বলে,
- থ্যাংক ইউ বাবা! আবার একবার বাঁচালে আমায়।
কথাটা বলে সে নিজের রুমে চলে যায়। তারপর একে একে যে যার রুমে চলে যায়। কথা রুমে এসে শাওয়ার
নিয়ে একটা ঘুম দেয়। এরপর কেটে যায় এক সাপ্তাহ।আজ কথার ভার্সিটির প্রথম দিন। নিশা তাকে একের পর এক ফোন দিয়েই যাচ্ছে। নিশা বাংলাদেশের একজন নামকরা বিজনেস ম্যানের মেয়ে। প্রত্যয় ও নিশা কথার বেস্ট ফ্রেন্ড। প্রত্যয়ের বাবা একজন ডক্টর। নিশার ফোনে ঘুম ভাঙে কথার। সে রেডি হয়ে নিচে নামে। পরনে নীল রঙের টপস।কাধে ব্যাগ।ঠোঁটে শুধু লিপবমা দেওয়া ব্যাস রেডি সে। নিচে নেমে দেখে নিশা ও প্রত্যয় বসে আছে। কথাকে দেখে প্রত্যয় বল ওঠে,
- এসেছেন মহারানী ভিক্টোরিয়া বেশি তারাতারি হয়ে গেল না।
কথা রাগী চোখে তাকায় প্রত্যয়ের দিকে। চুপ হয়ে যায় প্রত্যয়। তিনজন বাইরপ যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় ঠিক তখনি পিছন থেকে কিয়ানা চৌধুরী বলে ওঠেন যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে তো যা।
- খাওয়ার টাইম নেইগো আন্টি। এমনেই তোমার মেয়ের জন্য দেরি হয়ে গেছে । বলে নিশা। নিশার কথায় কিয়ানা চৌধুরী বলেন,
- ঠিক আছে। সাবধানে যাস।
কথা বলে ওঠে,
- তোমার চিন্তা করতে হবেনা। সাবধানেই যাব আমরা।
এই বলে চলে যায় তিনজন।
তিনজনই বেশ মেধাবী স্টুডেন্ট। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে পা রাখতেই সকলে হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
নিশাও বেশ সুন্দরী। ফর্সা গায়ের রং। প্রত্যয়ও বেশ হ্যান্ডসাম। তখনি কথা খেয়াল করে কিছু স্টুডেন্ট লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। এবং তাদেরও সেখানে ডাকছে কিছু সিনিয়র। তারা তিনজন যায় সেদিকে। গিয়ে দাড়ায় পিছনে। দাড়ানোর পর বুঝতে পারে এখানে নিউ ইয়ারের স্টুডেন্টদের রেগিং করা হচ্ছে। এবং সেখানে অভ্রও উপস্থিত আছে। অভ্র এখানে আসতে চায়নি। তার এক ফ্রেন্ড জোর করে তাকে ও ফারাবীকে এখানে নিয়ে এসেছে। তাকে বলা হয়েছে নিউ ইয়ারের স্টুডেন্টদের কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেসা করা হবে আর কিছু না। অভ্রর বাবা একজন বিজনেস ম্যান পাশাপাশি রাজনীতিবিদও। তাই তার ক্ষমতা অনেক বেশি। বাবা রাজনীতিবিদ হওয়ায় অভ্রও রাজনীতির সাথে অনেক জড়িয়ে আছে। তাই ভার্সিটির অন্য ছেলেরা তার ক্ষমতা ব্যবহার করে এখানে রেগিং করছে। যা সম্পর্কে অভ্র অবগত নয়। সবার পিছন থেকে কেউ একজন জাজালো কন্ঠে বলে ওঠে,
- এখানে কী টিসিপির পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
স্টুডেন্টদের রেগিং করতে থাকা সুমন বলে ওঠে,
- মানে
পেছন থেকে সামনে আসে কথা ও বলে ল
আমরা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি কেন?
সুমন ভাব নিয়ে বলে,
- এই মেয়ে তোমার সাহস তো কম না
কথা সামান্য হাসি দিয়ে বলে,
- আমি জানি আমার সাহস অনেক বেশি, আপনার বলতে হবে না।
কিছুটা বিব্রত হয় সুমন। তবে তা প্রকাশ না করে অভ্রর দিকে ইশারা করে বলে,
- তুমি জানো ও কে? ওর সামনে এভাবে কথা বললে কী হতে পারে জানো?
কথা একবার তাকায় অভ্রর দিকে যে এখন তার দিকেই তাকিয়ে আছে। কথা তাকাতেই চোখাচোখি হয় দুজনের। কথা চোখ সরিয়ে নিয়ে সুমন নামের ছেলেটিকে বলে –
- কেন সে জানেনা সে কে।
- এই মেয়ে–
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই কথা সুমনকে থামিয়ে দিয়ে বলে–
- অন্যের পাওয়ারে চলা বাদ দেন। নিজের কিছু থাকলে তা নিয়ে চলেন।আর কয়দিন অন্যের চামচামি করবেন বলেন তো।
সুমন রাগে কথাকে বলে,
- সিনিয়রদের কীভাবে সন্মান করতে হয় তা তোমার পরিবার শেখায় নি।
পরিবার নিয়ে কথা বলায় কথা এবার রেগে যায় এবং বলে–
- আমার পরিবার আমায় শিখিয়েছে যে সন্মান দিতে জানে সে সন্মান নিতেও জানে। কোনো অমানুষকে সন্মান দেওয়া আমার পরিবার আমাকে শিখায়নি।
কথাটা বলেই কথা সেখানে উপস্থিত বাকি ছাত্র -ছাত্রীদের দিকে তাকায়। ও বলে,
- যে যার ক্লাসে যান।
সকলে হতভম্ব যেখানে অভ্রর ভয়ে তারা একটা কথা বলতে পারে না। সেখানে এই মেয়ে কীভাবে তাকে অপমান করলো। ভাবা যায়।কথার কথায় সকলে যে যার ক্লাসে চলে যায়।পিছনে দাড়িয়ে তাকা সুমন সহ বাকি যারা রেগিং করছিলো তারা সবাই রাগে ফুসতে থাকে। কথার এই ব্যাবহারে।
কথাও সেখান থেকে যাওয়ার জন্য দুপা বাড়ায় পরক্ষণেই অবার পেছনে ফিরে চলে আসে। এবং অভ্রর সামনে যায়। এতক্ষণে সব কিছু বুঝতে পেরেছে অভ্র। এরপর খুব রাগ হচ্ছে ঐ ছেলেগুলোর উপর। ছেলেগুলোকে কিছু বলতেই যাবে তখন কথা এসে অভ্রর সামনে এসে দাড়ায় এবং তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে –
- শেখ বাড়ির একমাত্র ছেলে "আফনান শেখ অভ্র " যে রেগিংও করে তাতো জানা ছিল না। তা শেখ বাড়ির ছেলেরা বুঝি এমন হয়। না শুধু আপনিই এমন।
কথাটা বলে সেখান থেকে চলে যায় কথা। পিছনে ফেলে যায় রাগে ফুসতে থাকা অভ্রকে। কারণ সে মোটেও এমন না। সে তো এই সব কিছুই জানতো না। তাকে তো মিথ্যা কথা বলে এখানে আনা হয়েছে।

চলবে.......

Address

Gazipur
Dhaka
KUNIA

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tasfia &Towa story world posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category