13/06/2026
#কৃষ্ণরাত্রির_দুই_চাঁদ
#লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_ত্বোয়া
#পাঠ_৩
❌কপি করা নিষেধ❌
>>>>>>
সময় সর্বদা বহমান। সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। লিখতে লিখতে কেটে যায় আরো কিছুদিন। সকাল ছয়টা বাজে। বাহিরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতিকে আরো স্নিগ্ধ লাগছে।
আজ কথা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে। কারণ আজ তার ভার্সিটি নেই। তাই সে এখন মর্নিং ওয়ার্কে বের হবে। সাধারণত এত সকালে কথা ঘুম থেকে ওঠে না। আজ তার কিছু জরুরী প্রয়োজনে এত সকালে ঘুম থেকে ওঠা। সময় ৬:৩০ বাজে।কথা রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। পরনে তার টাউজার আর টি-শার্ট। চুলগুলো জুটি করা। কানে ব্লুটুথ। আর হাতে ফোন।চারদিক নিরব মাঝে মাঝে দু একজনের আনাগোনা রয়েছে। এজন্য এক ভিন্ন ঢাকা শহর। কথা আন মনে হেঁটে যাচ্ছে। হঠাৎ তার কারো সাথে ধাক্কা লাগে।বিরক্তি নিয়ে সামনে তাকায় কথা।সামনে উপস্থিত ব্যক্তিকে সে মোটেও এই সময় তার সামনে আসা করে। কথা মনে মনে বলে ওঠে,
- দুনিয়ায় আর মানুষ নাই। এর সাথেই ধাক্কা লাগা লাগলো। আজ পুরো দিনটাই খারাপ যাবে।
অভ্রর প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যে মর্নিং ওয়ার্ক একটা। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয় অভ্র। নিয়াম অনুসারে আজকেও হাঁটতে বের হয়েছে অভ্র।হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খাওয়ায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে অভ্র। সামনে তাকিয়ে কথাকে দেখে বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে 'চ' সূচক উচ্চারণ করে বলে,
- চোখ কৈ থাকে তোমার?
- আমার চোখ আমার সাথেই থাকে। আপনি মনে হয় আপনার চোখ বাসায় রেখে এসেছেন। তা না হলে এতো জায়গা থাকতে আমার সাথেই ধাক্কা লাগতে হলো।
- Don’t cross your limit.
- আমি আমার লিমিটেই আছি। আপনি আপনার লিমিট ক্রস করে এসে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছেন।
রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে যায় অভ্রর।সকাল সকাল এরকম একটা পরিস্থিতি মোটেও আশা করিনি অভ্র। তাদের কথার মাঝেই কথার ফোনে কারো কল আসে। কথা ফোনটা রিসিভ করে। কিন্তু থেকে ওপাশ কি বলে তা শোনা। তারপর কথা 'আসছি' বলে ফোন কেটে দেয়।অভ্র এখনো ওর দিকে চোখ মুখ-শক্ত করে তাকিয়ে আছে। কথা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। যাওয়ার সময় অপ্রত উদ্দেশ্য করে বলে যায়,
- পরের বার থেকে চোখ সাথে করে নিয়ে আসবেন। যাতে যার তার সাথে ধাক্কা না লাগে।
অভ্রর ইচ্ছা করে নিজের মাথায় নিজেই বারি মারতে।কেন যে তার কথার সাথে প্রতিবার দেখা হয়ে যায় বুঝতে পারে না সে।
একজন লোক বলে ওঠে,
- ম্যাম আপনার পেনড্রাইভ।
গম্ভীর মুখে পেনড্রাইভটি হাতে নেয় কথা। এই পেনড্রাইভ তার বিগত দু মাসের পরিশ্রমের ফল।কথা বলে,
- ঠিক আছে তুমি যাও।
প্রত্যুত্তরে লোকটি বলে,
-ওকে ম্যাম।
কথা পেনড্রাইভটি নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে নিশা সোফায় বসে আছে। কথা আশেপাশে তাকায়। আশেপাশে আপাতত কেউ নেই। কথা গম্ভীর মুখে নিশাকে জিজ্ঞেসা করে
- প্রত্যয় আসে নাই।
- রাস্তায় আছে। একটু পরেই চলে আসবে।
- হুম। উপরে আয়।
কথাটা বলে কথা উপরে নিজের রুমে চলে যায়।সাথে নিশাও যায়।তার কিছুক্ষণ পরেই ঘরে উপস্থিত হয় প্রত্যয়। তাদের এতো দিনের পরিশ্রম আজ সফল হয়েছে। তাই তিনজন আজ মহাখুশি। নিশা বলে ওঠে,
- এই খুশিতে একটা পার্টি তো দিতেই হয়।
নিশার কথায় প্রত্যয় সায় জানিয়ে বলে,
- ঠিক ঠিক।
কথা সাধারণত হাসে না। আর হাসলেও সবার সামনে না। কথা হাসি মুখে উত্তর দেয় ,
- অবশ্যই পার্টি তো হবেই।
এই কথা শোনার সাথে সাথে হৈ-হুল্লোড় শুরু করে দেয় প্রত্যয় আর নিশা। কথা তার বাবা সাফওয়ান চৌধুরীকে গিয়ে সব বলে। আর সব কথা শুনি সাফওয়ান চৌধুরী মহাখুশি হন আর পার্টির ব্যবস্থা শুরু করেন।
অভ্র গম্ভীর মুখে বসে আছে। তার সামনে ফারাবী। দুইজনই নিরব। হঠাৎ নিরবতা ভেঙে ফারাবী জিজ্ঞেস করে,
- পেনড্রাইভটা কে নিতে পারে?
অভ্র অন্য দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়,
- জানিনা। তবে যে নিয়েছে সে সাধারণ কেউ না।
ফারাবী বলে,
- তা ঠিক। এতো হাই সিকিউরিটি ভেঙে পেনড্রাইভটা আনা কোনো সাধারণ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।
অভ্র মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
চৌধুরী বাড়িতে আজ খুশির শেষ নেই। কারণ আজ চৌধুরী বাড়িতে এক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। সাফওয়ান চৌধুরী তার সকল ফ্রেন্ড ও আত্মীয় স্বজনদের ইনভাইট করেছেন এই পার্টিতে। সাথে আরও কিছু গেস্ট আসবে।
এই উপলক্ষে সবাই আজ শপিংয়ে যাবে। নিরব, নিশাদ,রোজা,রোদ সবাই রেডি হয়ে নিচে বসে আছে। কথা আসার পর তারা একসাথে বের হবে। কিন্তু কথার আসার নামই নেই। কিছুক্ষণ পর কথা আসে। পরনে জিন্স আর শর্ট কুর্তি। ফোনে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে আসে কথা নিচে নেমে কথা সকলের উদ্দেশ্য বলে ওঠে,
- চল চল এমনিতেই লেট হয়ে গেছে।
সকলে সম্মতি জানালেও নিরব বলে ওঠে,
- আপু তুমিই তো লেট করেছো।
ওর নাম নিরব হলেও ওর চরিত্র ওর নামের ঠিক বিপরীতটা। ভাই-বোনদের মধ্যে সব থেকে বেশি দুষ্টমি ও কথা বলে নিরব। নিরবের কথা শুনে কথা ঘুরে তাকায় ওর দিকে। কথার চাহনি দেখে নিরব চুপ হয়ে যায়।কথা হাসি মুখে জবাব দেয়,
- আচ্ছা সরি এবার চল।
কথা স্বভাবে একটু রাগি হলেও ভাই-বোনদের সাথে যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করে। তার খুব আদরের ভাই-বোন এরা। বাহিরে প্রত্যয় ও নিশা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওদের জন্য। ওরা মোট তিনটি গাড়ি নিয়েছে। ওরা কোনো ড্রাইভার নেয়নি। আজ ওরা নিজেরাই ড্রাইভ করবে। নিশার সাথে যাবে রোদ যাবে একটা গাড়িতে। প্রত্যয়ের সাথে নিরব যাবে একটা গাড়িতে। আর কথার সাথে রোজা ও নিশাদ যাবে একটা গাড়িতে। সকলে যে যার মতো গাড়িতে উঠে পড়ে। পর পর তিনটা গাড়ি এক সাথে বের হয়ে যায় চৌধুরী মহল থেকে।
চলবে......