11/06/2026
পাকিস্তানের অন্যতম সেরা নিউরোলজিস্ট প্লেনে ভ্রমণ করছেন। তার এপয়েনমেন্ট পাওয়া অনেক কঠিন। কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।
প্লেনে জার্নির সময় হঠাৎ আবহাওয়া প্রতিকূলে চলে যায়। বজ্রপাত শুরু হয়, ভারী বর্ষণ শুরু হয়। প্লেনটি একটি নিকটবর্তী এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে। প্লেনে সামান্য সমস্যা হয়েছে, ঠিক হতে সময় লাগবে।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, “কতো সময় লাগবে?” বলা হলো ৩ ঘণ্টা।
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এই ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা না করে একটি কার/ট্যাক্সি ভাড়া করে তার গন্তব্যের দিকে রওনা হবেন।
গাড়িতে করে রওনা হলেন। রাস্তায় গিয়ে দেখলেন অবস্থা ভয়াবহ। গাছ পড়ে আছে, গাড়ি চালানো যাবে না। অপরিচিত একটি এলাকায় এমন এক বিপদে পড়েছেন কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।
আশেপাশে বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে না। গাড়ি থেকে নেমে বাড়ি খুঁজতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে একটি বাড়ি পেয়েও গেলেন।
দরজায় কড়া নাড়লে একজন বৃদ্ধা বের হলেন। তাদেরকে বসতে দিলেন। বাইরে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। তার থাকার কথা একটি কনফারেন্সে, এখন আছেন অচেনা জায়গায় এক বৃদ্ধার কুঁড়েঘরে! তবুও এই অবস্থায় সামান্য আশ্রয় পেয়ে ডাক্তার বেশ খুশি। তিনি নামাজ পড়লেন।
খেয়াল করলেন বৃদ্ধা কিছুক্ষণ পর পর এক কিশোরের যত্ন নিচ্ছেন।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, “এ কে? কী হয়েছে তার?”
বৃদ্ধা বললেন, “এ আমার নাতি। তার মা-বাবা মারা গেছেন। আমিই তার দেখাশোনা করি। সে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কিছুই হচ্ছে না। সব ডাক্তারই শেষমেশ বলেছেন একজন বড়ো ডাক্তার দেখাতে হবে। কিন্তু, বড়ো ডাক্তারকে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না! আমরা এপয়েনমেন্ট নিয়েছি। ৬ মাস পর সেই ডাক্তার দেখাতে হবে।”
ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে বৃদ্ধার কথা শুনছেন।
বৃদ্ধা বললেন, “কিন্তু, এই অবস্থায় আমি কী করি এই এতিম বাচ্চাকে নিয়ে? কীভাবে ৬ মাস কাটবে সেই ডাক্তারের অপেক্ষায়? আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দু’আ করে যাচ্ছি- আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিন, আল্লাহ আপনি চাইলে সবই সম্ভব।”
ডাক্তারের দয়া হলো। তিনি বললেন, “আচ্ছা, সেই ডাক্তারের নাম বলুন, আমি দেখি চেষ্টা করে তার এপয়েনমেন্ট নিতে পারি কিনা!”
বৃদ্ধা বললেন, “উনার নাম ডাক্তার ইশান।”
বৃদ্ধার মুখে ডাক্তারের নাম শুনে ডাক্তারের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো!
তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে বললেন, “আল্লাহ আপনার দু’আ কবুল করেছেন। যেই ডাক্তারের এপয়েনমেন্টের জন্য ৬ মাস ধরে আপনি অপেক্ষা করছেন, এই ঝড়ের রাতে সেই ডাক্তার আপনার ঘরে হাজির!”
ডাক্তার ইশান বুঝতে পারলেন হঠাৎ করে এই ঝড়-বৃষ্টি, প্লেন নষ্ট হওয়া, গাড়ি নষ্ট হয়ে অপরিচিত এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়া এমনি এমনি হয়নি; আল্লাহর প্ল্যানের অংশ। আল্লাহ একজন বৃদ্ধা নারীর দু’আ কবুলের জন্য এসব কিছু ঘটিয়েছেন।
তিনি দু’আর গুরুত্ব বুঝতে পারলেন। আল্লাহ যখন চান, তখন তিনি কীভাবে সেটা ঘটাবেন মানুষ বুঝতেই পারবে না।
ডাক্তার ইশানের উসীলায় বৃদ্ধার নাতির চিকিৎসা করানো হয়।