25/02/2026
সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে যা দেখলাম…
আজ আমি ঢাকার সেন্ট্রাল পশু হাসপাতালে গিয়েছিলাম আমার ৩০টা মুরগির জন্য রানীক্ষেত ভ্যাকসিন আর ১৭টা ছাগলের জন্য পিপিআর ভ্যাকসিন আনতে। খুব সাধারণ একটা প্রয়োজন—নিজের খামারের প্রাণীগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য।
কিন্তু সেখানে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো, সেটা সত্যিই হতাশাজনক।
প্রায় ২ ঘণ্টা ঘোরাঘুরি করার পর এক ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে দেখা হলো। আমি তাকে বললাম,
“আঙ্কেল, আমার ৩০টা মুরগি আর ১৭টা ছাগল আছে। ভ্যাকসিন কি এখানে পাওয়া যাবে?”
তিনি বললেন, “এখন তো হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। তবে চাইলে টাকা দিলে এনে দিতে পারবো।”
সরকারি হাসপাতালে এসে এমন কথা শুনে সত্যিই অবাক হলাম। এরপর ভেতরে আরেকজন ডাক্তারকেও জিজ্ঞেস করলাম—উনিও একই কথা বললেন।
শেষে আমি সরাসরি কাউন্টারে গেলাম। সেখানে একজন প্রথমে ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে কথা বললেন, পরে বললেন, “ভিতরে গিয়ে কাজলকে দেখেন।”
ভেতরে গিয়ে কাজল নামের একজনকে পেলাম। উনি বললেন ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে, কিন্তু দাম লাগবে ৬৫০ টাকা!
আমি বললাম,
“ভাই, আমি একজন ছাত্র মানুষ। রানীক্ষেত ভ্যাকসিনের দাম ২৫ টাকা আর পিপিআর ২৫০ টাকা—তাহলে ৬৫০ টাকা কিভাবে?”
উনি বললেন, “লাগলে নেন, না হলে বাদ দেন।”
শেষ পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছিল বলে নিতে বাধ্য হলাম। কিন্তু পুরো বিষয়টা খুব খারাপ লেগেছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে যদি সাধারণ একটা মুরগি–ছাগলের ভ্যাকসিনের জন্যও এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
আমরা তো এমন একটা সমাজ চাই, যেখানে সেবা পেতে ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।
যদি সত্যিই কর্তৃপক্ষ চায়, তাহলে এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব—শুধু দরকার আন্তরিকতা আর সঠিক নজরদারি।
আমরা শান্তিপূর্ণ, সৎ আর সুস্থ সমাজ চাই।
প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন হোক, খামারিরা সঠিক সেবা পাক—এই প্রত্যাশাই রইলো।