30/08/2026
যে বিষ আমাদের গোটা প্রজন্মকে নীরবে খেয়েছে, আর যে উদ্যোগ তা থামিয়েছে!
বাংলাদেশের প্রতিটি রান্নাঘরে হলুদ একটি আবশ্যক উপাদান। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, এই মশলার উজ্জ্বল রং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে? আশির দশকে এক বন্যায় হলুদের ফসল নষ্ট হওয়ার পর বাজারে ফ্যাকাশে রঙের হলুদ বিক্রি কমে যায়। আর ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে ব্যবসায়ীরা খুঁজে বের করে লেড ক্রোমেট—একটি সস্তা, উজ্জ্বল রাসায়নিক যা মূলত শিল্পকারখানায় ব্যবহার হয়। এরপর প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এই সীসা মিশ্রিত হলুদ আমরা খেয়ে এসেছি, আমাদের অজান্তেই ।
গবেষণা যা চমকে দিয়েছে
২০১৪ সালে স্ট্যানফোর্ডের গবেষক জেনা ফরসিথ এবং আইসিডিডিআরবি দেখতে পান, বাংলাদেশের গ্রামীণ গর্ভবতী নারী ও শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি। উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করেন, এই সীসা আসছে আমাদের রান্নাঘরের হলুদ থেকে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, লেড ক্রোমেট মেশানো হলুদে সীসার মাত্রা বাংলাদেশের আইনি সীমার পাঁচশ গুণ পর্যন্ত ছিল! আর এই সীসাই শিশুদের বুদ্ধি পরীক্ষায় তিন থেকে পাঁচ পয়েন্ট কম পেতে সাহায্য করেছে। এই হারানো বুদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ছয় শতাংশ ।
প্রশাসন যা করেছে
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এই তথ্য প্রকাশের পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান জানান, তারা আইসিডিডিআরবি'র লেড ক্রোমেট ডিটেক্টর মেশিন নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা জরিমানা ও তিন বছরের জেলের বিধান রয়েছে ।
সাফল্যের গল্প
দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে মাত্র দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে সীসাযুক্ত হলুদের পরিমাণ ৪৭ শতাংশ থেকে কমে শূন্যে নেমে এসেছে। হলুদ কারখানার শ্রমিকদের রক্তে সীসার মাত্রা কমেছে ৩০ শতাংশ। এই ক্যাম্পেইনের সাফল্য এখন অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশের জন্য উদাহরণ ।
আমাদের এখন কী করা উচিত?
১. বাজারের প্যাকেটজাত বা খোলা হলুদের পরিবর্তে আস্ত হলুদ কিনে নিজেরাই গুঁড়ো করুন ।
২. অতি উজ্জ্বল রঙের হলুদ কেনা থেকে বিরত থাকুন।
৩. খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।
৪. প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও বিটিভিকে অনুরোধ, তারা যেন এই বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আমাদের প্রতিটি সচেতন পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মের বুদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষা করবে। আমরা যেন আর না খাই 'সীসার বিষ'—এই প্রতিজ্ঞা আজই করতে হবে।
Collected