19/12/2024
যেসব মানুষ Sorry বলতে জানেন না বা যাদের মধ্যে ভুল স্বীকার করার প্রবৃত্তি থাকে না তাদের পার্টনারের মেন্টাল হেল্থ কখনোই ভালো থাকা সম্ভব নয়। ছেলে বা মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। যারা ভাবেন তারা শুধুমাত্র খারাপের প্রত্যুত্তরেই খারাপ বলেন অন্যথা নিজের থেকে বলেন না তারা এই অহম বোধ নিয়ে নিজের পার্টনারকে আজীবন ভালোবাসায় বেঁধে রাখতে পারবেন না। একটু একটু করে একদিন চিরতরে হারাবেন।
একসঙ্গে থাকাটা শুধুমাত্র শারিরীক নয় বরং প্রচন্ড মানসিক সংযোগের মধ্যে শারিরীক ঘনিষ্টতা বড্ড সামান্যই! কখনো তাকে আঘাত দিয়ে “দুঃখিত” এই সহানুভূতিশীল হওয়াটা খুব জরুরী। একটা সম্পর্ক শুধুমাত্র বিছানা, সন্তান আর রান্নাঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অথবা নিয়ম করে ফোন করা দেখা করা গিফ্ট দেওয়ার মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। সম্পর্ক হচ্ছে আপনার Priority, Responsibility, Care, Attention সবকিছুর মিশ্রণ।
আপনি ভুলের পর ভুল করে, কটু কথা বলে, শব্দের আঘাত করে পরের দিন যদি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ করে থাকেন তবে বিশ্বাস করুন, এর মধ্যে বেশিদিন স্বাভাবিকত্ব থাকবে না। পশুরাও নিজেরা নিজেদেরকে মানায়, রাগ বা অভিমান ভাঙায় অন্তত চেষ্টা করে। কেন জানেন? তারা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে।
আপনি যদি ভাবেন হঠাৎ করে আবার স্বাভাবিক আচরণটাই সব, তাতেই আপনার দায়িত্ব পালন হয়ে যায়, তবে আপনি ভ্রমে আছেন। আপনার পার্টনারের মধ্যে আপনার প্রতি যে অনীহা, উদাসীনতা, হতাশা এবং বিরক্তির পাহাড় তৈরি হচ্ছে তার উচ্চতা সম্পর্কে আপনার ধারণাও নেই!
অস্বাভাবিক আর স্বাভাবিক আচরণের মাঝে একটা ফ্রেজ থাকে। সেটা হল নিয়ন্ত্রণ। ভুল স্বীকার করা; অভিমান- অভিযোগ খন্ডনের চেষ্টা করা বা সহানুভূতিশীল হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। এই ফ্রেজটা আপনি যত বেশি জাম্প করবেন, জানবেন অতীতগুলো জমা হতে থাকছে। হয়ত সে আপনার সাথে আছে; কিন্ত ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবে আপনার চোখে সে ভালোবাসা দেখতে ভুলে যাবে। রোজকার শব্দ প্রয়োগে যে আপনি ক্ষত করেছেন সেখানে কোনো প্রলেপ না দিলে সেটা একদিন দগদগে হয়ে যাবে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে যা হয়ত আপনিও চাননি কিন্তু করেছেন।
তাই ভালোবাসলে কিছু শব্দ বন্ধের দ্বায়িত্ব নিতে হয়। নিয়ম মাফিক এক ছাদের তলায় থাকা অথবা নিয়ম মাফিক সবকিছু করাটাই একমাত্র ভালোবাসার প্রতি দায়িত্ব পালন নয়!