sujan

sujan Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from sujan, Grocers, Dhaka.

সফলতা অর্জনের জন্য অনেক ধৈর্য্য ধরে থাকতে হয়।সততা, আন্তরিকতা, মানবিকতা, বিশ্বাস হল মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা কখনো অর্থের মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না।কেবলমাত্র মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতিশীল আর ভালো বাসার মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

সোনার নীরবতায় বেবিসোনা আজকাল খুব চুপচাপ থাকে।মানুষের সামনে হাসে, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে, সবার সঙ্গে কথা বলে—কিন্তু ...
02/10/2026

সোনার নীরবতায় বেবি
সোনা আজকাল খুব চুপচাপ থাকে।
মানুষের সামনে হাসে, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে, সবার সঙ্গে কথা বলে—কিন্তু একা হলেই তার পৃথিবীটা যেন অন্যরকম হয়ে যায়।
একাকীত্বের মুহূর্তগুলোতে বারবার একজনের কথাই মনে পড়ে—
বেবি।
সোনা জানে না, বেবি আজ তাকে মনে করছে কি না।
কিন্তু সোনা?
সে এখনো বেবিকে ভুলতে পারেনি।
দিনের ব্যস্ততার মাঝে হয়তো নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায়। কিন্তু রাত নামলে, চারপাশ যখন শান্ত হয়ে যায়, তখন মনের ভেতর জমে থাকা স্মৃতিগুলো যেন একে একে দরজায় এসে দাঁড়ায়।
সোনা তখন নিজের মনকে বলে—
—বেবি, তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কতটা মিস করি?
কেউ উত্তর দেয় না।
সোনা আবার নিজেই বলে—
—তুমি তো জানো না। জানার কথাও নয়। কারণ আমি তো তোমাকে আর কিছু বলি না।
একটু থেমে সোনা জানালার বাইরে তাকায়।
তারপর ধীরে ধীরে বলে—
—আমি চুপ করে আছি বলে কি তুমি ভাবো, আমি তোমাকে ভুলে গেছি?
না বেবি।
আমি ভুলিনি।
শুধু আগের মতো বলতে পারি না।
আগে তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্য কত অজুহাত খুঁজতাম। তোমার একটা ছোট্ট কথাতেও কত আনন্দ পেতাম। তুমি একটু চুপ করলেই ভাবতাম, তোমার কী হয়েছে।
আর এখন?
এখন তোমার কথা মনে পড়লেও চুপ করে থাকি।
কারণ কিছু কথা মানুষকে বলা যায় না।
কিছু অনুভূতি শুধু নিজের ভেতরেই রাখতে হয়।
সোনা মাঝে মাঝে পুরোনো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবে।
বেবির হাসি মনে পড়ে।
বেবির কথা বলার ধরন মনে পড়ে।
বেবির সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলো মনে পড়ে।
তখন সোনা নিজের মনকে প্রশ্ন করে—
—এত কিছু পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন বেবিকে মনে পড়ে?
মনের ভেতর থেকে উত্তর আসে—
—কারণ কিছু মানুষকে শুধু জীবন থেকে দূরে রাখা যায়, মন থেকে নয়।
সোনা মৃদু হেসে বলে,
—তাহলে কি আমি এখনও বেবিকে ভালোবাসি?
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সে নিজেই উত্তর দেয়—
—হয়তো ভালোবাসি। হয়তো সেই ভালোবাসার নাম এখন শুধু স্মৃতি।
তারপর সোনা মাথা নিচু করে বসে থাকে।
তার চোখের সামনে কোনো মানুষ নেই।
তবুও সে বেবির সঙ্গে কথা বলতে থাকে।
—বেবি, তুমি যদি কোনোদিন জানতে, আমি তোমাকে কতটা মিস করি, তাহলে হয়তো অবাক হতে।
তুমি হয়তো ভাবো, আমি চুপ হয়ে গেছি মানেই আমার মনে আর কিছু নেই।
কিন্তু তুমি জানো না—
আমার এই নীরবতার ভেতরেই তোমার জন্য কত কথা জমে আছে।
তোমাকে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে।
বলতে ইচ্ছে করে—
"বেবি, আমি তোমাকে ভুলিনি।"
কিন্তু বলা হয় না।
কারণ এখন সোনা বুঝে গেছে, সব অনুভূতির উত্তর পাওয়ার জন্য সেগুলো প্রকাশ করতে হয় না।
কখনো কখনো ভালোবাসা মানে শুধু কাউকে মনে রাখা।
দূর থেকে তার ভালো থাকা কামনা করা।
আর নিজের কষ্টটাকে নিজের কাছেই রেখে দেওয়া।
সোনা জানে না ভবিষ্যতে বেবির সঙ্গে তার আর কোনো কথা হবে কি না।
জানে না বেবি কোনোদিন তার নীরবতার অর্থ বুঝবে কি না।
শুধু এটুকু জানে—
বেবি তার জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যেটা সে চাইলেও পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারে না।
কারণ কিছু স্মৃতি মুছে যায় না।
সময় শুধু তাদের সঙ্গে বেঁচে থাকতে শেখায়।
রাত আরও গভীর হয়।
সোনা শেষবারের মতো নিজের মনকে বলে—
—বেবি, তুমি হয়তো জানো না আমি তোমাকে কতটা মিস করি। তুমি হয়তো আমার নীরবতার অর্থও বুঝতে পারোনি।
কিন্তু একটা কথা সত্যি—
আমি চুপ আছি বলে আমার অনুভূতিগুলো শেষ হয়ে যায়নি।
শুধু আমি এখন আর সেগুলো কাউকে বোঝাতে চাই না।
তুমি ভালো থেকো।
আর যদি কোনোদিন হঠাৎ আমার কথা মনে পড়ে—
তাহলে শুধু এটুকু মনে রেখো,
কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে হারিয়েও তোমার স্মৃতিগুলোকে নিজের হৃদয়ের খুব গভীরে রেখে দিয়েছিল।
তারপর সোনা চোখ বন্ধ করে।
ঘরটা আবার নীরব হয়ে যায়।
কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেও বেবির নামটা তার মনের ভেতর খুব আস্তে আস্তে বাজতে থাকে—

08/09/2026

রাত অনেক গভীর।

চারপাশের সবাই ঘুমিয়ে গেছে। শহরের ব্যস্ততা থেমে গেছে। জানালার বাইরে নীরব রাত, দূরে কোথাও দু-একটা গাড়ির শব্দ।

কিন্তু সোনার চোখে ঘুম নেই।

বিছানায় চুপচাপ শুয়ে সোনা ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

তার মুখে কোনো কথা নেই।

কিন্তু বুকের ভেতর যেন হাজারো প্রশ্নের ভিড়।

একটা প্রশ্ন বারবার ফিরে আসছে—

“বেবি আমাকে এতটা কষ্ট কীভাবে দিতে পারল?”

সোনা চোখ বন্ধ করল।

আর চোখ বন্ধ করতেই বেবির মুখটা ভেসে উঠল।

সেই হাসি...

সেই কণ্ঠ...

সেই পুরোনো কথাগুলো...

সবকিছু যেন আবার সামনে এসে দাঁড়াল।

সোনা ধীরে ধীরে বলল—

সোনা: “বেবি... তোকে ভুলতে চাই। সত্যিই চাই। কিন্তু কেন জানি না, যতবার তোকে ভুলতে যাই, ততবারই তুই আরও বেশি মনে পড়িস।”

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর সোনা নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।

সোনা: “তোর ওপর আমার কত রাগ... কত অভিমান... কত অভিযোগ... কখনো কখনো মনে হয়, তোর নামটাও আর শুনতে চাই না।”

সোনা একটু থামল।

চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে ফেলল।

সোনা: “কিন্তু তারপরও... কেন জানি তোর কথাই মনে পড়ে।”

এটাই ছিল সোনার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

যে মানুষটাকে নিয়ে তার এত রাগ, সেই মানুষটাকেই সে সবচেয়ে বেশি মনে করে।

যে মানুষ তাকে ভেঙে দিয়েছে, তার স্মৃতিই আবার তাকে টেনে নিয়ে যায় পুরোনো দিনগুলোর কাছে।

---

একদিন সোনা আর বেবির পৃথিবীটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

সোনা ভেবেছিল—

এই মানুষটাই হয়তো তার জীবনের শেষ মানুষ।

বেবির সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল।

কত কথা...

কত পরিকল্পনা...

কত ছোট ছোট ইচ্ছে...

সবকিছুর মাঝেই ছিল বেবি।

সোনা কখনো ভাবেনি, একদিন সেই বেবিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

একদিন সোনা বেবিকে বলেছিল—

সোনা: “বেবি, জানিস? আমি তোর কাছে খুব বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই, তুই সত্যি থাকিস। আমার সঙ্গে অভিনয় করিস না।”

বেবি তখন চুপ করে ছিল।

সোনা আবার বলেছিল—

সোনা: “মানুষের জীবনে টাকা-পয়সা, ভালো-মন্দ অনেক কিছু আসবে যাবে। কিন্তু বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে সেটা আর আগের মতো হয় না।”

সোনা জানত না—

একদিন তার নিজের কথাগুলোই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে।

---

সময় চলে গেল।

বেবি বদলে গেল।

সোনার কাছে মনে হলো, যে মানুষটাকে সে এতটা আপন ভেবেছিল, সেই মানুষটাই ধীরে ধীরে তাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

কথা কমে গেল।

অজুহাত বাড়তে লাগল।

আগের মায়া যেন কোথায় হারিয়ে গেল।

সোনা বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে।

সে বারবার নিজেকে প্রশ্ন করত—

“আমি কি কোনো ভুল করেছি?”

কিন্তু উত্তর পেত না।

এক রাতে সোনা বেবিকে ফোন করেছিল।

ফোনের ওপাশে বেবির কণ্ঠ খুব ঠান্ডা।

সোনা: “বেবি, একটু কথা বলবি?”

বেবি: “এখন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।”

সোনা: “কী হয়েছে? আমার ওপর রাগ করেছিস?”

বেবি: “কিছু হয়নি।”

সোনা: “তাহলে তুই এমন করছিস কেন?”

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর বেবি বলল—

বেবি: “সবকিছু আগের মতো থাকে না, সোনা।”

এই কথাটা সোনার বুকের ভেতর কোথায় যেন আটকে গেল।

সোনা: “মানে?”

বেবি আর কিছু বলল না।

ফোন কেটে গেল।

সোনা অনেকক্ষণ ফোনটা হাতে নিয়ে বসে রইল।

তারপর নিজের মনেই বলল—

সোনা: “সবকিছু আগের মতো থাকে না... কিন্তু আমি তো আগের মতোই ছিলাম বেবি।”

---

তারপর এল সেই দিন—

যে দিন সোনার বিশ্বাসটা ভেঙে গেল।

সোনা জানতে পারল, বেবি তার জীবনে আর নেই।

বেবি অন্য একজনকে বেছে নিয়েছে।

সোনার কাছে খবরটা পৌঁছানোর পর সে কিছুক্ষণ একদম চুপ হয়ে গেল।

কেউ যদি তখন তাকে জিজ্ঞেস করত—

“কী হয়েছে?”

সে হয়তো শুধু বলত—

“কিছু না।”

কিন্তু সেই “কিছু না”-এর ভেতরে ছিল অসংখ্য না বলা কথা।

ছিল প্রশ্ন।

ছিল অভিমান।

ছিল ভালোবাসা।

ছিল রাগ।

ছিল হতাশা।

আর ছিল একটা গভীর বিশ্বাসভঙ্গ।

সোনা মনে মনে বলল—

সোনা: “তুই চলে গেলি... ঠিক আছে। কিন্তু আমার সঙ্গে এতদিন যে স্বপ্নগুলো দেখালি, সেগুলোর কী হবে?”

---

তারপর থেকে সোনা বদলে গেল।

বাইরে থেকে অবশ্য কেউ বুঝতে পারল না।

বন্ধুদের সঙ্গে সে হাসে।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে।

কাজ করে।

মানুষের সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে।

কেউ হাসির গল্প করলে সোনাও হাসে।

কেউ মজা করলে সেও মজা করে।

কেউ জিজ্ঞেস করলে—

“কেমন আছিস?”

সোনা হাসিমুখে বলে—

“ভালো আছি।”

কিন্তু রাত হলেই সেই হাসিটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

ঘরের দরজা বন্ধ হলে সোনা আবার নিজের ভেতরের মানুষটার সামনে দাঁড়ায়।

সেই মানুষটা ক্লান্ত।

সেই মানুষটা প্রশ্নে ভরা।

সেই মানুষটা শুধু জানতে চায়—

“কেন?”

---

একদিন সোনার একজন কাছের বন্ধু তাকে বলল—

বন্ধু: “তুই সবার সামনে এত হাসিস কীভাবে?”

সোনা হেসে বলল—

সোনা: “হাসতে তো টাকা লাগে না।”

বন্ধু একটু অবাক হয়ে তাকাল।

বন্ধু: “তুই সত্যিই ভালো আছিস?”

সোনা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর বলল—

সোনা: “মানুষ সব কথা সবাইকে বলতে পারে না।”

বন্ধু বলল—

“আমাকে বলতে পারিস।”

সোনা মৃদু হাসল।

সোনা: “কিছু কষ্ট আছে, যেগুলো মুখে বললে মানুষ শুধু গল্প শুনবে। কিন্তু যে মানুষটা কষ্টটা অনুভব করেছে, সে জানে এর ওজন কত।”

বন্ধুটি আর কিছু বলল না।

কারণ সোনার চোখে তখন অনেক কথা ছিল।

---

সোনা বেবির ওপর রাগ করে।

অনেক রাগ।

কখনো কখনো মনে হয়—

“বেবি, তুই এতটা স্বার্থপর কীভাবে হতে পারলি?”

আবার কখনো মনে হয়—

“তুই আমাকে এত মিথ্যা আশা দেখালি কেন?”

কখনো মনে হয়—

“আমার বিশ্বাস নিয়ে খেললি কেন?”

আর কখনো মনে হয়—

“আমার ভালোবাসাটা কি এতটাই মূল্যহীন ছিল?”

এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর সোনা পায় না।

তবুও বেবির কথা মনে পড়ে।

এটাই সোনার সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

রাগ করে—

তবুও মনে পড়ে।

অভিমান করে—

তবুও মনে পড়ে।

ঘৃণা করতে চায়—

তবুও পুরোনো ভালোবাসা এসে তাকে থামিয়ে দেয়।

ভুলে যেতে চায়—

তবুও স্মৃতিগুলো ফিরে আসে।

---

এক রাতে সোনা পুরোনো কিছু ছবি দেখতে বসেছিল।

একটার পর একটা ছবি।

বেবির হাসিমুখ।

পুরোনো দিনের স্মৃতি।

একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত।

সোনা ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল—

সোনা: “তুই জানিস বেবি, এই ছবিগুলো এখন আমার কাছে সুখের না। এগুলো আমার কাছে প্রশ্ন।”

সে একটা ছবি বন্ধ করে দিল।

সোনা: “কারণ আমি জানি না, তখন তুই সত্যি ছিলি, নাকি আমিই সবকিছু সত্যি ভেবেছিলাম।”

সোনা আবার বলল—

“আমি তোকে যতটা সত্যি ভেবেছিলাম, তুই যদি তার অর্ধেকও সত্যি হতে... তাহলে হয়তো আজ আমাদের গল্পটা অন্যরকম হতো।”

---

কখনো কখনো সোনা নিজের ওপরও রাগ করে।

নিজেকে বলে—

“আমি কেন এত বিশ্বাস করেছিলাম?”

“কেন এতটা ভালোবেসেছিলাম?”

“কেন বুঝতে পারিনি?”

কিন্তু তারপরই তার ভেতর থেকে আরেকটা কণ্ঠ বলে—

“ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়, সোনা।”

সোনা চুপ করে যায়।

হয়তো সত্যিই ভালোবাসা তার ভুল ছিল না।

ভুল ছিল শুধু ভুল মানুষকে নিজের পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটা দিয়ে দেওয়া।

---

দিন যেতে থাকে।

সোনা ধীরে ধীরে একটা জিনিস বুঝতে শুরু করে।

সব মানুষকে নিজের মতো ভাবা যায় না।

সব হাসি সত্যি হয় না।

সব প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত থাকে না।

আর সব ভালোবাসা সমান হয় না।

কেউ ভালোবাসে হৃদয় দিয়ে।

আবার কেউ ভালোবাসার নাম করে নিজের স্বার্থ খোঁজে।

সোনা তখন নিজের মনকে বলল—

সোনা: “আমি বেবিকে ভুলতে পারছি না—এটা সত্যি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাকে সারাজীবন এই কষ্টের মধ্যেই থাকতে হবে।”

সে জানে—

ভুলে যাওয়া মানে স্মৃতিগুলো মুছে ফেলা নয়।

ভুলে যাওয়া মানে কখনো কখনো সেই স্মৃতিগুলোর সঙ্গে শান্তিতে বাঁচতে শেখা।

---

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সোনা নিজেকে বলল—

সোনা: “তুই অনেক কেঁদেছিস। অনেক সহ্য করেছিস। এবার একটু নিজের জন্য বাঁচ।”

তারপর কিছুক্ষণ নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল।

সোনা: “বেবি তোর জীবনের একটা অধ্যায় ছিল। পুরো জীবন না।”

সোনা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“যে মানুষটা তোকে হারিয়ে শান্তিতে আছে, তার জন্য তুই নিজের শান্তি হারিয়ে ফেলবি কেন?”

এই কথাটা বলার পর সোনা প্রথমবার নিজের কাছে একটু শক্ত হলো।

---

তবুও...

আজও কখনো গভীর রাতে বেবির কথা মনে পড়ে।

আজও কোনো পরিচিত গান শুনলে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে।

আজও কোনো জায়গায় গেলে মনে হয়—

“এখানে তো একদিন বেবির সঙ্গে কথা বলেছিলাম।”

আজও কখনো ফোন হাতে নিয়ে মনে হয়—

“একবার যদি কথা বলতাম...”

কিন্তু সোনা ফোনটা রেখে দেয়।

কারণ সে বুঝেছে—

সব কথা আবার শুরু করতে হয় না।

কিছু গল্প শেষ হয়ে গেলেও তাদের শিক্ষা থেকে যায়।

---

সোনা আজও বেবিকে ভালোবাসে কি না—

সে নিজেও জানে না।

হয়তো ভালোবাসার একটা অংশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

কিন্তু সেই ভালোবাসার পাশে এখন একটা বড় শিক্ষা দাঁড়িয়ে আছে।

নিজেকে হারিয়ে কাউকে ভালোবাসা যায় না।

সোনা ধীরে ধীরে নিজের জীবনটা আবার গুছিয়ে নিতে শুরু করল।

সব কষ্ট একদিনে শেষ হয়নি।

সব স্মৃতি একদিনে মুছে যায়নি।

কিন্তু প্রতিদিন সে নিজেকে একটু একটু করে সামলাতে শিখল।

আর এক রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—

সোনা: “বেবি, তুই আমার জীবনে যে কষ্ট রেখে গেছিস, সেটা হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি ভুলব না। কিন্তু আমি চাই না সেই কষ্ট আমার পুরো জীবনটাকে নিয়ন্ত্রণ করুক।”

সে একটু থামল।

সোনা: “তোর প্রতি আমার রাগ আছে। অভিমান আছে। অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু তার থেকেও বড় একটা ইচ্ছে আছে—আমি আবার নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।”

তার চোখে পানি ছিল।

কিন্তু এবার সেই পানির সঙ্গে একটা দৃঢ়তাও ছিল।

সোনা শেষবারের মতো বলল—

“তুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটা ছিলি। আবার সবচেয়ে কঠিন শিক্ষাটাও তুই দিয়েছিস। আমি তোকে ভুলতে না পারলেও... একদিন তোকে মনে পড়লেও আর ভেঙে পড়ব না।”

বাইরে তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে।

রাত শেষ হচ্ছে।

সোনার জীবনেও হয়তো ধীরে ধীরে একটা নতুন সকাল আসছে।

বেবি ফিরে আসবে কি না—

সোনা জানে না।

বেবি কখনো তার কষ্ট বুঝবে কি না—

সেটাও জানে না।

কিন্তু একটা জিনিস সোনা বুঝে গেছে—

কেউ তাকে ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু তার পুরো জীবনটাকে শেষ করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

আর তাই সোনা আজও হাসে।

হয়তো সেই হাসির আড়ালে কিছু ব্যথা আছে।

কিন্তু সেই হাসির ভেতরেই এখন একটা নতুন প্রতিজ্ঞাও আছে—

“যে আমাকে হারিয়েছে, তার জন্য আমি নিজেকে আর হারাব না।”

02/09/2026

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ — সত্যের পথে সোনার নতুন যাত্রা
রাত অনেক গভীর।
চারপাশ নিস্তব্ধ। জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে সোনা চুপচাপ বসে আছে। তার চোখের সামনে কত স্মৃতি ভেসে উঠছে—কিছু ভালো, কিছু কষ্টের, কিছু এমন স্মৃতি, যেগুলো চাইলেও হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না।
কিছু মানুষ জীবনে আসে ভালোবাসার নাম করে। বিশ্বাসের কথা বলে। আপন হয়ে ওঠে। তারপর একদিন তাদের আচরণই মানুষকে শিখিয়ে দেয়—সবাইকে হৃদয়ের দরজা খুলে আপন করে নেওয়া যায় না।
সোনা জানে, যে মানুষ তাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকে হয়তো সারাজীবন মনে পড়বে। কোনো পরিচিত শব্দ, কোনো পুরোনো স্মৃতি, কোনো নিরিবিলি রাত—হঠাৎ করেই সেই মানুষটির কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু আজ সোনা নিজের কাছে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সে আর সেই মানুষটির সঙ্গে যুদ্ধ করবে না।
সে যুদ্ধ করবে নিজের ভেতরের দুর্বলতার সঙ্গে।
কারণ সোনা বুঝে গেছে, কাউকে ভুলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো তাকে ঘৃণা করা নয়; বরং নিজের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেখানে সেই মানুষটির জন্য আর নিজের শান্তি নষ্ট করার প্রয়োজন হবে না।
সোনা ধীরে ধীরে নিজের মনকে বলল,
“হ্যাঁ, আমি তোমাকে মনে রাখব। কারণ তুমি আমার জীবনের একটা অধ্যায়। কিন্তু তোমাকে মনে রাখা আর তোমার জন্য সারাজীবন কষ্ট পাওয়া—দুটো এক জিনিস নয়।”
তার চোখে পানি চলে এলো।
কিন্তু এবার সেই পানি তাকে দুর্বল করল না।
বরং মনে হলো, এতদিন ধরে জমে থাকা কিছু ভার যেন ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাচ্ছে।
সোনা মনে মনে বলল,
“যে আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তার বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। সময়ের বিচার সময়ই করবে। আমি শুধু চাই, আমার নিজের বিবেকের কাছে যেন কোনোদিন ছোট না হই।”
এই কথাটা ভাবতেই তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শান্তি নেমে এলো।
সোনা জানত, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যা বলে খুব সহজে পার পেয়ে যায়।
কেউ অভিনয় করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।
কেউ নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের অনুভূতিকে ব্যবহার করে।
কেউ আবার নিজের ভুল স্বীকার না করে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়।
এসব দেখে সোনার মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হতো।
সে ভাবত,
“মানুষ কীভাবে এত সহজে অন্য একজন মানুষের বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে?”
কিন্তু এখন সে আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চায় না।
কারণ সে বুঝেছে—সব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি নয়।
কিছু মানুষকে বুঝতে গিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করার চেয়ে তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।
সোনা নিজেকে বলল,
“আমি তাদের মতো হব না।”
এই একটি বাক্যই যেন তার ভেতরে নতুন শক্তি তৈরি করল।
“কেউ আমার সঙ্গে অন্যায় করলেও আমি অন্যায়কে নিজের চরিত্র বানাব না। কেউ মিথ্যা বললেও আমি মিথ্যাবাদী হব না। কেউ বিশ্বাস ভাঙলেও আমি বিশ্বাসের মূল্য ভুলব না। কেউ অভিনয় করলেও আমি অভিনয় করে কাউকে ঠকাব না।”
তারপর সে একটু থামল।
“কারণ অন্যের চরিত্র আমার হাতে নেই। কিন্তু আমার চরিত্র আমার হাতে।”
দিনগুলো সহজ ছিল না।
কখনো সকালে ঘুম থেকে উঠে সোনার মন ভার হয়ে থাকত।
কখনো কোনো কারণ ছাড়াই পুরোনো কথা মনে পড়ত।
কখনো মনে হতো, এত কষ্ট কেন তার জীবনে এলো?
কিন্তু প্রতিবারই সে নিজেকে একটা কথা মনে করিয়ে দিত—
“আমাকে থেমে গেলে চলবে না।”
জীবন কারও জন্য থেমে থাকে না।
যে চলে গেছে, সে নিজের জীবনে এগিয়ে গেছে।
তাহলে সোনা কেন নিজের জীবনকে একই জায়গায় আটকে রাখবে?
সে জানে, কিছু স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না।
তাই সে স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা না করে স্মৃতির সঙ্গে বাঁচতে শিখতে শুরু করল।
আগে কোনো স্মৃতি তাকে ভেঙে দিত।
এখন সে নিজেকে বলে,
“এটা আমার অতীত। এটা আমার বর্তমান নয়।”
আগে কোনো পুরোনো কথা তাকে সারাদিন কষ্ট দিত।
এখন সে বলে,
“আমি সেই সময়ের মানুষ নই। আমি আজকের মানুষ। আমার সামনে এখনও অনেক পথ বাকি।”
একদিন সোনা আয়নার সামনে দাঁড়াল।
অনেকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“সোনা, তুমি অনেক কিছু হারিয়েছ। কিন্তু তুমি এখনও তোমাকে হারাওনি।”
কথাটা বলেই তার চোখ ভিজে গেল।
সে আবার বলল,
“তোমার মন কষ্ট পেয়েছে। তোমার বিশ্বাস ভেঙেছে। তোমার অনেক স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তোমার সততা এখনও আছে। তোমার বিবেক এখনও আছে। তোমার মানবিকতা এখনও আছে।”
“তাহলে তুমি হেরে গেলে কীভাবে?”
এই প্রশ্নের উত্তর তার নিজের কাছেই ছিল।
সে জানত—
মানুষের কাছে জয় মানে কখনো টাকা, কখনো সম্মান, কখনো সম্পর্ক।
কিন্তু সোনার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় জয় হলো—
নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকা।
সোনা সিদ্ধান্ত নিল, যে মানুষ তাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে নিয়ে সে আর কারও সামনে কিছু বলবে না।
প্রতিশোধের কথা বলবে না।
অপমানের উত্তর অপমান দিয়ে দেবে না।
কারণ সে বুঝেছে, কাউকে ছোট করতে গিয়ে নিজের মনকেও ছোট করা হয়।
তবে এর মানে এই নয় যে অন্যায়কে অন্যায় বলা যাবে না।
যেখানে কাউকে মানুষ করার মতো কথা বলা দরকার, সেখানে সত্য কথা বলা দরকার।
কিন্তু সেই কথা হবে সংশোধনের জন্য, প্রতিশোধের জন্য নয়।
সোনা বলল,
“মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু ভুল বুঝতে পারা এবং ভুল থেকে ফিরে আসতে চাওয়াই মানুষের সৌন্দর্য। কেউ যদি অন্যায় করে, তাকে সত্য কথা বলা দরকার। কিন্তু তার অন্যায়ের কারণে নিজের হৃদয়ে বিষ জমিয়ে রাখা ঠিক নয়।”
তারপর সে আরও বলল,
“আমি কাউকে ঘৃণা করে নিজের জীবন কাটাতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার জীবন আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাক যেখানে একদিন পিছনে তাকিয়ে বলতে পারি—আমি কষ্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু কষ্ট আমাকে খারাপ মানুষ বানাতে পারেনি।”
সোনার জীবনে এখন নতুন একটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এই যুদ্ধ কোনো মানুষের বিরুদ্ধে নয়।
এই যুদ্ধ—
অতীতের সঙ্গে।
এই যুদ্ধ—
নিজের হতাশার সঙ্গে।
এই যুদ্ধ—
অতিরিক্ত চিন্তার সঙ্গে।
এই যুদ্ধ—
বারবার একই স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে।
প্রতিদিন সে নিজেকে একটু একটু করে বোঝায়।
“আজ যদি মন খারাপ হয়, হোক। কিন্তু আমি আজকের দিনটা নষ্ট করব না।”
“আজ যদি পুরোনো কথা মনে পড়ে, পড়ুক। কিন্তু আমি নিজের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেব না।”
“আজ যদি একা লাগে, লাগুক। কিন্তু আমি নিজের প্রতি অন্যায় করব না।”
এভাবেই সোনা বুঝতে শুরু করল—
মনকে শান্ত করা মানে সব কষ্ট ভুলে যাওয়া নয়।
মনকে শান্ত করা মানে কষ্ট থাকার পরও নিজের জীবনকে সামনে নিয়ে যাওয়া।
এক সন্ধ্যায় সোনা আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করল।
“হে ভগবান, আমি জানি না আমার ভবিষ্যতে কী আছে। আমি জানি না আমার জীবনে আর কত পরীক্ষা আসবে। কিন্তু আমাকে একটা জিনিস দিও—সঠিক পথে থাকার শক্তি।”
“যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের নিয়ে আমার হৃদয়ে যেন সারাজীবন আগুন না জ্বলে।”
“আমাকে এমন শক্তি দিও, যেন অন্যায় দেখলে সত্য বলতে পারি, কিন্তু প্রতিহিংসাপরায়ণ না হই।”
“আমাকে এমন মন দিও, যেন কষ্ট পেলেও কাউকে অকারণে কষ্ট না দিই।”
“আমাকে এমন বিবেক দিও, যেন একদিন পৃথিবীর সবাই আমাকে ভুল বুঝলেও আমি নিজের কাছে বলতে পারি—আমি অন্যায় করিনি।”
সোনা চোখ বন্ধ করল।
তারপর মনে হলো, বুকের ভেতরের অস্থিরতা একটু একটু করে কমছে।
সময় চলে যেতে লাগল।
দিনের পর দিন।
মাসের পর মাস।
সোনা বুঝতে পারল, জীবনের সব কষ্ট একদিনে শেষ হয় না।
কিছু কষ্ট সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ছোট হয়।
যে স্মৃতি একসময় প্রতিদিন কাঁদাত, একদিন সেই স্মৃতি শুধু মনে পড়ে—কিন্তু আর আগের মতো ভেঙে দেয় না।
সোনা তখন বুঝবে,
“আমি তাকে ভুলিনি। আমি শুধু তার কারণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করেছি।”
এটাই হবে তার সত্যিকারের মুক্তি।
সে জানে, হয়তো কোনোদিন হঠাৎ সেই মানুষটির কথা মনে পড়বে।
হয়তো পুরোনো কোনো কথা মনে পড়ে বুকটা ভার হয়ে যাবে।
কিন্তু সে তখন নিজেকে বলবে,
“থামো। অতীতকে সম্মান করো, কিন্তু বর্তমানকে নষ্ট করো না।”
একদিন সোনা নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকাবে।
দেখবে—
সে কেঁদেছিল।
সে ভেঙে পড়েছিল।
সে অনেক রাত ঘুমাতে পারেনি।
সে অনেক প্রশ্নের উত্তর পায়নি।
তবুও সে থামেনি।
সে তার মানবিকতা হারায়নি।
সে তার সততা বিক্রি করেনি।
সে প্রতারণার জবাবে প্রতারণা শেখেনি।
সে অন্যায়ের জবাবে অন্যায়কে নিজের পরিচয় বানায়নি।
সেদিন সোনা নিজের কাঁধে নিজেই হাত রেখে বলবে,
“তুমি পেরেছ।”
“তুমি কষ্ট পেয়েও মানুষ হয়ে থেকেছ।”
“তুমি অন্যের ভুলের কারণে নিজের চরিত্র বদলাওনি।”
“এটাই তোমার জয়।”
সোনা এখন জানে—
সবাই তাকে বুঝবে না।
সবাই তার ভালোবাসার মূল্য দেবে না।
সবাই তার সততার সম্মান করবে না।
সবাই তার নীরবতার অর্থ বুঝবে না।
কিন্তু তাতে তার কিছু যায় আসে না।
কারণ জীবনের শেষ বিচারে মানুষের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলো তার নিজের বিবেক।
আর সোনা চায়, সেই বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে যেন কোনোদিন চোখ নামিয়ে ফেলতে না হয়।
তাই সে সামনে তাকাল।
পেছনে পড়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে আর নিজের পায়ের শিকল বানাল না।
সে মনে মনে বলল—
“যে গেছে, সে আমার জীবনের একটা অধ্যায়। কিন্তু আমার পুরো জীবন নয়।”
“যে আমাকে কষ্ট দিয়েছে, সে আমার অতীত। আমার ভবিষ্যৎ নয়।”
“যে আমাকে ভেঙেছে, তার কারণে আমি নিজেকে আর ভাঙতে দেব না।”
“আমি কষ্টকে সঙ্গে নিয়েই সামনে হাঁটব।”
“আমি যতটুকু পারি ভালো থাকব।”
“আমি সত্যের পথে থাকব।”
“আমি আমার মানবিকতা ধরে রাখব।”
“আর আমার জীবনের বিচার আমি প্রতিশোধ দিয়ে নয়, আমার কাজ দিয়ে করব।”
রাত তখন আরও গভীর হয়েছে।
জানালার পাশে বসে থাকা সোনা এবার উঠে দাঁড়াল।
তার চোখে এখনও পুরোনো স্মৃতির ছায়া আছে।
কিন্তু সেই চোখে এবার একটা নতুন দৃঢ়তাও আছে।
সে জানে—
আগামীকালও হয়তো কঠিন হবে।
তারপরের দিনও কঠিন হতে পারে।
কিন্তু প্রতিটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়েই তাকে নিজের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
কারণ জীবন তাকে শুধু কষ্ট দেওয়ার জন্য দেয়নি।
জীবন তাকে শিখিয়েছে—
কে সত্যিকারের আপন,
কে শুধু অভিনয় করে,
কাকে বিশ্বাস করতে হয়,
কখন দূরে সরে যেতে হয়,
আর সবচেয়ে বড় কথা—
নিজেকে কখনো হারিয়ে ফেলা যাবে না।
সোনা শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
“হে ভগবান, আমার পথ সহজ করে দিও—এটা চাই না। বরং পথ যত কঠিনই হোক, সেই পথ সৎভাবে হাঁটার শক্তি দিও।”
“আমার মনকে শান্ত করো।”
“আমার বিবেককে জাগ্রত রাখো।”
“আমাকে অন্যায় থেকে দূরে রেখো।”
“আর আমার কষ্টগুলোকে এমন শিক্ষা বানিয়ে দিও, যেন একদিন এই কষ্টের জন্যও আমি কৃতজ্ঞ হতে পারি।”
তারপর সোনা ধীরে ধীরে ঘরের আলো নিভিয়ে দিল।
অন্ধকার ঘর।
নীরব রাত।
কিন্তু তার ভেতরে এবার একটা আলো জ্বলছে।
সেই আলোর নাম—
সততা।
সেই আলোর নাম—
মানবিকতা।
সেই আলোর নাম—
নিজের প্রতি সম্মান।
আর সেই আলোই তাকে সামনে নিয়ে যাবে।
যতদিন জীবন আছে, ততদিন পথ চলা আছে।
কিছু মানুষ মনে থাকবে।
কিছু স্মৃতি মাঝে মাঝে ফিরে আসবে।
কিছু কষ্ট হয়তো পুরোপুরি কখনোই মুছে যাবে না।
তবুও সোনা থামবে না।
কারণ সে অবশেষে বুঝেছে—
অতীতকে বদলানো যায় না, কিন্তু অতীতের পর নিজের ভবিষ্যৎটা কেমন হবে—সেটা অনেকটাই নিজের হাতে।
আর সোনা এবার নিজের ভবিষ্যৎকে বেছে নিয়েছে।
প্রতিশোধ নয়।
ঘৃণা নয়।
অন্যায় নয়।
বরং—
সত্য, সততা, মানবিকতা আর নিজের বিবেকের পথে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
এটাই হবে সোনার নতুন জীবন।
এটাই হবে তার নিজের সঙ্গে জয়ী হওয়ার গল্প। sujan

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ — সত্যের পথে সোনার নতুন যাত্রারাত অনেক গভীর।চারপাশ নিস্তব্ধ। জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে...
01/09/2026

নিজের সঙ্গে যুদ্ধ — সত্যের পথে সোনার নতুন যাত্রা

রাত অনেক গভীর।

চারপাশ নিস্তব্ধ। জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে সোনা চুপচাপ বসে আছে। তার চোখের সামনে কত স্মৃতি ভেসে উঠছে—কিছু ভালো, কিছু কষ্টের, কিছু এমন স্মৃতি, যেগুলো চাইলেও হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না।

কিছু মানুষ জীবনে আসে ভালোবাসার নাম করে। বিশ্বাসের কথা বলে। আপন হয়ে ওঠে। তারপর একদিন তাদের আচরণই মানুষকে শিখিয়ে দেয়—সবাইকে হৃদয়ের দরজা খুলে আপন করে নেওয়া যায় না।

সোনা জানে, যে মানুষ তাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকে হয়তো সারাজীবন মনে পড়বে। কোনো পরিচিত শব্দ, কোনো পুরোনো স্মৃতি, কোনো নিরিবিলি রাত—হঠাৎ করেই সেই মানুষটির কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

কিন্তু আজ সোনা নিজের কাছে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সে আর সেই মানুষটির সঙ্গে যুদ্ধ করবে না।

সে যুদ্ধ করবে নিজের ভেতরের দুর্বলতার সঙ্গে।

কারণ সোনা বুঝে গেছে, কাউকে ভুলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো তাকে ঘৃণা করা নয়; বরং নিজের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেখানে সেই মানুষটির জন্য আর নিজের শান্তি নষ্ট করার প্রয়োজন হবে না।

সোনা ধীরে ধীরে নিজের মনকে বলল,

“হ্যাঁ, আমি তোমাকে মনে রাখব। কারণ তুমি আমার জীবনের একটা অধ্যায়। কিন্তু তোমাকে মনে রাখা আর তোমার জন্য সারাজীবন কষ্ট পাওয়া—দুটো এক জিনিস নয়।”

তার চোখে পানি চলে এলো।

কিন্তু এবার সেই পানি তাকে দুর্বল করল না।

বরং মনে হলো, এতদিন ধরে জমে থাকা কিছু ভার যেন ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাচ্ছে।

সোনা মনে মনে বলল,

“যে আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তার বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। সময়ের বিচার সময়ই করবে। আমি শুধু চাই, আমার নিজের বিবেকের কাছে যেন কোনোদিন ছোট না হই।”

এই কথাটা ভাবতেই তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শান্তি নেমে এলো।

---

সোনা জানত, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যা বলে খুব সহজে পার পেয়ে যায়।

কেউ অভিনয় করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।

কেউ নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের অনুভূতিকে ব্যবহার করে।

কেউ আবার নিজের ভুল স্বীকার না করে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়।

এসব দেখে সোনার মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হতো।

সে ভাবত,

“মানুষ কীভাবে এত সহজে অন্য একজন মানুষের বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে?”

কিন্তু এখন সে আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চায় না।

কারণ সে বুঝেছে—সব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি নয়।

কিছু মানুষকে বুঝতে গিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করার চেয়ে তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।

সোনা নিজেকে বলল,

“আমি তাদের মতো হব না।”

এই একটি বাক্যই যেন তার ভেতরে নতুন শক্তি তৈরি করল।

“কেউ আমার সঙ্গে অন্যায় করলেও আমি অন্যায়কে নিজের চরিত্র বানাব না। কেউ মিথ্যা বললেও আমি মিথ্যাবাদী হব না। কেউ বিশ্বাস ভাঙলেও আমি বিশ্বাসের মূল্য ভুলব না। কেউ অভিনয় করলেও আমি অভিনয় করে কাউকে ঠকাব না।”

তারপর সে একটু থামল।

“কারণ অন্যের চরিত্র আমার হাতে নেই। কিন্তু আমার চরিত্র আমার হাতে।”

---

দিনগুলো সহজ ছিল না।

কখনো সকালে ঘুম থেকে উঠে সোনার মন ভার হয়ে থাকত।

কখনো কোনো কারণ ছাড়াই পুরোনো কথা মনে পড়ত।

কখনো মনে হতো, এত কষ্ট কেন তার জীবনে এলো?

কিন্তু প্রতিবারই সে নিজেকে একটা কথা মনে করিয়ে দিত—

“আমাকে থেমে গেলে চলবে না।”

জীবন কারও জন্য থেমে থাকে না।

যে চলে গেছে, সে নিজের জীবনে এগিয়ে গেছে।

তাহলে সোনা কেন নিজের জীবনকে একই জায়গায় আটকে রাখবে?

সে জানে, কিছু স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না।

তাই সে স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা না করে স্মৃতির সঙ্গে বাঁচতে শিখতে শুরু করল।

আগে কোনো স্মৃতি তাকে ভেঙে দিত।

এখন সে নিজেকে বলে,

“এটা আমার অতীত। এটা আমার বর্তমান নয়।”

আগে কোনো পুরোনো কথা তাকে সারাদিন কষ্ট দিত।

এখন সে বলে,

“আমি সেই সময়ের মানুষ নই। আমি আজকের মানুষ। আমার সামনে এখনও অনেক পথ বাকি।”

---

একদিন সোনা আয়নার সামনে দাঁড়াল।

অনেকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে বলল,

“সোনা, তুমি অনেক কিছু হারিয়েছ। কিন্তু তুমি এখনও তোমাকে হারাওনি।”

কথাটা বলেই তার চোখ ভিজে গেল।

সে আবার বলল,

“তোমার মন কষ্ট পেয়েছে। তোমার বিশ্বাস ভেঙেছে। তোমার অনেক স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তোমার সততা এখনও আছে। তোমার বিবেক এখনও আছে। তোমার মানবিকতা এখনও আছে।”

“তাহলে তুমি হেরে গেলে কীভাবে?”

এই প্রশ্নের উত্তর তার নিজের কাছেই ছিল।

সে জানত—

মানুষের কাছে জয় মানে কখনো টাকা, কখনো সম্মান, কখনো সম্পর্ক।

কিন্তু সোনার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় জয় হলো—

নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকা।

---

সোনা সিদ্ধান্ত নিল, যে মানুষ তাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে নিয়ে সে আর কারও সামনে কিছু বলবে না।

প্রতিশোধের কথা বলবে না।

অপমানের উত্তর অপমান দিয়ে দেবে না।

কারণ সে বুঝেছে, কাউকে ছোট করতে গিয়ে নিজের মনকেও ছোট করা হয়।

তবে এর মানে এই নয় যে অন্যায়কে অন্যায় বলা যাবে না।

যেখানে কাউকে মানুষ করার মতো কথা বলা দরকার, সেখানে সত্য কথা বলা দরকার।

কিন্তু সেই কথা হবে সংশোধনের জন্য, প্রতিশোধের জন্য নয়।

সোনা বলল,

“মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু ভুল বুঝতে পারা এবং ভুল থেকে ফিরে আসতে চাওয়াই মানুষের সৌন্দর্য। কেউ যদি অন্যায় করে, তাকে সত্য কথা বলা দরকার। কিন্তু তার অন্যায়ের কারণে নিজের হৃদয়ে বিষ জমিয়ে রাখা ঠিক নয়।”

তারপর সে আরও বলল,

“আমি কাউকে ঘৃণা করে নিজের জীবন কাটাতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার জীবন আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাক যেখানে একদিন পিছনে তাকিয়ে বলতে পারি—আমি কষ্ট পেয়েছিলাম, কিন্তু কষ্ট আমাকে খারাপ মানুষ বানাতে পারেনি।”

---

সোনার জীবনে এখন নতুন একটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

এই যুদ্ধ কোনো মানুষের বিরুদ্ধে নয়।

এই যুদ্ধ—

অতীতের সঙ্গে।

এই যুদ্ধ—

নিজের হতাশার সঙ্গে।

এই যুদ্ধ—

অতিরিক্ত চিন্তার সঙ্গে।

এই যুদ্ধ—

বারবার একই স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে।

প্রতিদিন সে নিজেকে একটু একটু করে বোঝায়।

“আজ যদি মন খারাপ হয়, হোক। কিন্তু আমি আজকের দিনটা নষ্ট করব না।”

“আজ যদি পুরোনো কথা মনে পড়ে, পড়ুক। কিন্তু আমি নিজের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেব না।”

“আজ যদি একা লাগে, লাগুক। কিন্তু আমি নিজের প্রতি অন্যায় করব না।”

এভাবেই সোনা বুঝতে শুরু করল—

মনকে শান্ত করা মানে সব কষ্ট ভুলে যাওয়া নয়।

মনকে শান্ত করা মানে কষ্ট থাকার পরও নিজের জীবনকে সামনে নিয়ে যাওয়া।

---

এক সন্ধ্যায় সোনা আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করল।

“হে ভগবান, আমি জানি না আমার ভবিষ্যতে কী আছে। আমি জানি না আমার জীবনে আর কত পরীক্ষা আসবে। কিন্তু আমাকে একটা জিনিস দিও—সঠিক পথে থাকার শক্তি।”

“যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের নিয়ে আমার হৃদয়ে যেন সারাজীবন আগুন না জ্বলে।”

“আমাকে এমন শক্তি দিও, যেন অন্যায় দেখলে সত্য বলতে পারি, কিন্তু প্রতিহিংসাপরায়ণ না হই।”

“আমাকে এমন মন দিও, যেন কষ্ট পেলেও কাউকে অকারণে কষ্ট না দিই।”

“আমাকে এমন বিবেক দিও, যেন একদিন পৃথিবীর সবাই আমাকে ভুল বুঝলেও আমি নিজের কাছে বলতে পারি—আমি অন্যায় করিনি।”

সোনা চোখ বন্ধ করল।

তারপর মনে হলো, বুকের ভেতরের অস্থিরতা একটু একটু করে কমছে।

---

সময় চলে যেতে লাগল।

দিনের পর দিন।

মাসের পর মাস।

সোনা বুঝতে পারল, জীবনের সব কষ্ট একদিনে শেষ হয় না।

কিছু কষ্ট সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ছোট হয়।

যে স্মৃতি একসময় প্রতিদিন কাঁদাত, একদিন সেই স্মৃতি শুধু মনে পড়ে—কিন্তু আর আগের মতো ভেঙে দেয় না।

সোনা তখন বুঝবে,

“আমি তাকে ভুলিনি। আমি শুধু তার কারণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করেছি।”

এটাই হবে তার সত্যিকারের মুক্তি।

সে জানে, হয়তো কোনোদিন হঠাৎ সেই মানুষটির কথা মনে পড়বে।

হয়তো পুরোনো কোনো কথা মনে পড়ে বুকটা ভার হয়ে যাবে।

কিন্তু সে তখন নিজেকে বলবে,

“থামো। অতীতকে সম্মান করো, কিন্তু বর্তমানকে নষ্ট করো না।”

---

একদিন সোনা নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকাবে।

দেখবে—

সে কেঁদেছিল।

সে ভেঙে পড়েছিল।

সে অনেক রাত ঘুমাতে পারেনি।

সে অনেক প্রশ্নের উত্তর পায়নি।

তবুও সে থামেনি।

সে তার মানবিকতা হারায়নি।

সে তার সততা বিক্রি করেনি।

সে প্রতারণার জবাবে প্রতারণা শেখেনি।

সে অন্যায়ের জবাবে অন্যায়কে নিজের পরিচয় বানায়নি।

সেদিন সোনা নিজের কাঁধে নিজেই হাত রেখে বলবে,

“তুমি পেরেছ।”

“তুমি কষ্ট পেয়েও মানুষ হয়ে থেকেছ।”

“তুমি অন্যের ভুলের কারণে নিজের চরিত্র বদলাওনি।”

“এটাই তোমার জয়।”

---

সোনা এখন জানে—

সবাই তাকে বুঝবে না।

সবাই তার ভালোবাসার মূল্য দেবে না।

সবাই তার সততার সম্মান করবে না।

সবাই তার নীরবতার অর্থ বুঝবে না।

কিন্তু তাতে তার কিছু যায় আসে না।

কারণ জীবনের শেষ বিচারে মানুষের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলো তার নিজের বিবেক।

আর সোনা চায়, সেই বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে যেন কোনোদিন চোখ নামিয়ে ফেলতে না হয়।

তাই সে সামনে তাকাল।

পেছনে পড়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে আর নিজের পায়ের শিকল বানাল না।

সে মনে মনে বলল—

“যে গেছে, সে আমার জীবনের একটা অধ্যায়। কিন্তু আমার পুরো জীবন নয়।”

“যে আমাকে কষ্ট দিয়েছে, সে আমার অতীত। আমার ভবিষ্যৎ নয়।”

“যে আমাকে ভেঙেছে, তার কারণে আমি নিজেকে আর ভাঙতে দেব না।”

“আমি কষ্টকে সঙ্গে নিয়েই সামনে হাঁটব।”

“আমি যতটুকু পারি ভালো থাকব।”

“আমি সত্যের পথে থাকব।”

“আমি আমার মানবিকতা ধরে রাখব।”

“আর আমার জীবনের বিচার আমি প্রতিশোধ দিয়ে নয়, আমার কাজ দিয়ে করব।”

---

রাত তখন আরও গভীর হয়েছে।

জানালার পাশে বসে থাকা সোনা এবার উঠে দাঁড়াল।

তার চোখে এখনও পুরোনো স্মৃতির ছায়া আছে।

কিন্তু সেই চোখে এবার একটা নতুন দৃঢ়তাও আছে।

সে জানে—

আগামীকালও হয়তো কঠিন হবে।

তারপরের দিনও কঠিন হতে পারে।

কিন্তু প্রতিটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়েই তাকে নিজের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ জীবন তাকে শুধু কষ্ট দেওয়ার জন্য দেয়নি।

জীবন তাকে শিখিয়েছে—

কে সত্যিকারের আপন,

কে শুধু অভিনয় করে,

কাকে বিশ্বাস করতে হয়,

কখন দূরে সরে যেতে হয়,

আর সবচেয়ে বড় কথা—

নিজেকে কখনো হারিয়ে ফেলা যাবে না।

সোনা শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,

“হে ভগবান, আমার পথ সহজ করে দিও—এটা চাই না। বরং পথ যত কঠিনই হোক, সেই পথ সৎভাবে হাঁটার শক্তি দিও।”

“আমার মনকে শান্ত করো।”

“আমার বিবেককে জাগ্রত রাখো।”

“আমাকে অন্যায় থেকে দূরে রেখো।”

“আর আমার কষ্টগুলোকে এমন শিক্ষা বানিয়ে দিও, যেন একদিন এই কষ্টের জন্যও আমি কৃতজ্ঞ হতে পারি।”

তারপর সোনা ধীরে ধীরে ঘরের আলো নিভিয়ে দিল।

অন্ধকার ঘর।

নীরব রাত।

কিন্তু তার ভেতরে এবার একটা আলো জ্বলছে।

সেই আলোর নাম—

সততা।

সেই আলোর নাম—

মানবিকতা।

সেই আলোর নাম—

নিজের প্রতি সম্মান।

আর সেই আলোই তাকে সামনে নিয়ে যাবে।

যতদিন জীবন আছে, ততদিন পথ চলা আছে।

কিছু মানুষ মনে থাকবে।

কিছু স্মৃতি মাঝে মাঝে ফিরে আসবে।

কিছু কষ্ট হয়তো পুরোপুরি কখনোই মুছে যাবে না।

তবুও সোনা থামবে না।

কারণ সে অবশেষে বুঝেছে—

অতীতকে বদলানো যায় না, কিন্তু অতীতের পর নিজের ভবিষ্যৎটা কেমন হবে—সেটা অনেকটাই নিজের হাতে।

আর সোনা এবার নিজের ভবিষ্যৎকে বেছে নিয়েছে।

প্রতিশোধ নয়।

ঘৃণা নয়।

অন্যায় নয়।

বরং—

সত্য, সততা, মানবিকতা আর নিজের বিবেকের পথে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

এটাই হবে সোনার নতুন জীবন।

এটাই হবে তার নিজের সঙ্গে জয়ী হওয়ার গল্প।

যারা মানুষের হৃদয় ভাঙে, তারা হয়তো জিতে যায়—কিন্তু একজন সৎ মানুষের গল্প কখনো শেষ হয় নারাত অনেক গভীর।চারপাশের পৃথিবী ঘ...
31/08/2026

যারা মানুষের হৃদয় ভাঙে, তারা হয়তো জিতে যায়—কিন্তু একজন সৎ মানুষের গল্প কখনো শেষ হয় না
রাত অনেক গভীর।
চারপাশের পৃথিবী ঘুমিয়ে আছে। জানালার বাইরে নীরব আকাশ, দূরে দু-একটা বাতির আলো, আর ঘরের ভেতর একা বসে আছে সোনা।
তার চোখে ঘুম নেই।
মনে শান্তি নেই।
শুধু একের পর এক মানুষের মুখ ভেসে উঠছে।
কেউ মিথ্যা বলেছে।
কেউ বিশ্বাসের অভিনয় করেছে।
কেউ ভালোবাসার নামে কাছে এসে স্বার্থের সময় দূরে সরে গেছে।
কেউ আবার এমনভাবে কথা বলেছে, যেন সোনা তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। অথচ সময় বদলাতেই সেই কথাগুলো যেন কখনো বলা হয়নি।
সোনা চোখ বন্ধ করল।
কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই স্মৃতিগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সে নিজেকেই প্রশ্ন করল—
“মানুষ কীভাবে পারে?”
“কীভাবে একজন মানুষ আরেকজনের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারে?”
“কীভাবে কেউ এত সহজে মিথ্যা বলতে পারে?”
“কীভাবে স্বার্থের জন্য মানুষের ভালোবাসা, মায়া, আন্তরিকতা আর বিশ্বাসকে পায়ের নিচে ফেলে দিতে পারে?”
কোনো উত্তর পেল না সোনা।
শুধু বুকের ভেতর একটা ভারী শূন্যতা অনুভব করল।
সোনা কখনো নিখুঁত মানুষ হওয়ার দাবি করেনি।
কিন্তু একটা জিনিস সে সবসময় চেষ্টা করেছে—
সত্যি থাকতে।
যাকে ভালোবাসবে, মন থেকে ভালোবাসবে।
যাকে বিশ্বাস করবে, বিশ্বাস দিয়ে করবে।
কাউকে আপন করলে তার বিপদে পাশে থাকবে।
কারও চোখে জল দেখলে নিজের কষ্ট ভুলে তার পাশে দাঁড়াবে।
কারও প্রতি মায়া জন্মালে সেই মায়াকে স্বার্থের হিসাব দিয়ে মাপবে না।
কিন্তু পৃথিবী তাকে বারবার একটা কঠিন শিক্ষা দিয়েছে—
সব মানুষ একই নয়।
কেউ তোমার ভালোবাসাকে ভালোবাসা হিসেবে নেবে।
আবার কেউ তোমার ভালোবাসাকেই তোমার দুর্বলতা মনে করবে।
কেউ তোমার সততাকে সম্মান করবে।
আবার কেউ তোমার সরলতাকে ব্যবহার করবে।
কেউ তোমার নীরবতাকে বুঝবে।
আবার কেউ ভাববে—
“ও তো কিছু বলবে না।”
আর সেই মানুষগুলোই ধীরে ধীরে সোনার ভেতরের শান্ত মানুষটাকে ভেঙে দিতে লাগল।
একদিন সোনা ভাবত—
“মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবে।”
“সত্যি কথা বললে মানুষও সত্যি বলবে।”
“বিশ্বাস করলে বিশ্বাসের মর্যাদা পাওয়া যাবে।”
কিন্তু অভিজ্ঞতা তাকে অন্যরকম একটা পৃথিবী দেখাল।
সে দেখল, কিছু মানুষ মুখে এক কথা বলে, মনে আরেকটা রাখে।
কিছু মানুষ সামনে হাসে, পেছনে আঘাত করে।
কিছু মানুষ প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সুবিধা শেষ হয়ে গেলে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য থাকে না।
আর কিছু মানুষ এমন অভিনয় করে, যেন তাদের হৃদয়ে তোমার জন্য পৃথিবীর সবটুকু মায়া জমে আছে।
কিন্তু সময় এলে বোঝা যায়—
সেটা ছিল শুধু অভিনয়।
সোনা এসব বুঝতে বুঝতে একসময় ক্লান্ত হয়ে গেল।
সে ভাবল—
“আমি কি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করি?”
“নাকি আমি নিজেই খুব বেশি ভালো হয়ে থাকার চেষ্টা করি?”
“আমি কি একটু স্বার্থপর হলে এত কষ্ট পেতাম?”
“আমি যদি মানুষের মতো মানুষ না হয়ে শুধু নিজের কথা ভাবতাম, তাহলে কি আজ এতটা ভেঙে পড়তাম?”
প্রশ্নগুলো তার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকল।
কিন্তু উত্তর যেন কোথাও নেই।
এক রাতে সোনা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকাল।
চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ।
মুখে কোনো হাসি নেই।
সে ধীরে ধীরে বলল—
“আমি তো কাউকে ঠকাতে চাইনি।”
“আমি তো কারও ক্ষতি চাইনি।”
“আমি তো শুধু সত্যি থাকতে চেয়েছিলাম।”
তার চোখ ভিজে উঠল।
“তাহলে কেন আমার সততাই বারবার আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়?”
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সে আবার বলল—
“কেন আমার মায়া আমাকে কষ্ট দেয়?”
“কেন আমার ভালোবাসা আমাকে দুর্বল করে?”
“কেন আমার মানবিকতাকে মানুষ সুযোগ হিসেবে দেখে?”
কথাগুলো বলার মতো কেউ ছিল না।
ঘরটা নীরব।
দেয়ালগুলোও যেন তার কষ্টের উত্তর দিতে পারল না।
সোনা তখন বুঝতে শুরু করল—
সবচেয়ে বড় কষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা নয়।
সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো—
যাকে বিশ্বাস করেছিলে, তার আসল রূপ বুঝতে তোমার এত দেরি হয়ে যাওয়া।
তুমি যার জন্য নিজের সময় দিয়েছ,
যার জন্য নিজের শান্তি বিসর্জন দিয়েছ,
যার ভুল ক্ষমা করেছ,
যার কথাকে সত্যি ভেবেছ,
একদিন যখন বুঝতে পারো সেই মানুষটি তোমার বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়নি—
তখন শুধু মানুষটাকে হারানোর কষ্ট হয় না।
নিজের সেই সরল বিশ্বাসটাকেও হারানোর কষ্ট হয়।
সোনা সেই কষ্টই অনুভব করছিল।
সে ভাবছিল—
“আমি কি আবার কাউকে বিশ্বাস করতে পারব?”
“আবার কি কাউকে নিজের মনের কথা বলতে পারব?”
“আবার কি কাউকে আপন ভাবতে পারব?”
তার ভেতর থেকে একটা উত্তর আসছিল—
“না।”
আরেকটা কণ্ঠ বলছিল—
“সবাই তো এক নয়।”
কিন্তু আহত হৃদয় যুক্তি শুনতে চায় না।
আহত হৃদয় শুধু নিজের ব্যথাটাই অনুভব করে।
দিন যেতে লাগল।
সোনা মানুষের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিল।
যে মানুষ আগে অন্যের দুঃখ শুনত, সে এখন নিজের দুঃখ নিয়েই চুপ হয়ে থাকত।
যে মানুষ আগে সহজে হাসত, সে এখন হাসলেও সেই হাসির ভেতরে একটা ক্লান্তি লুকিয়ে থাকত।
কেউ জিজ্ঞেস করলে—
“কী হয়েছে?”
সে শুধু বলত—
“কিছু না।”
কিন্তু সেই “কিছু না”-এর ভেতরে কত কথা জমে ছিল, কেউ জানত না।
তার ভেতরে তখন একটা যুদ্ধ চলছিল।
একদিকে ছিল—
সততা।
মানবিকতা।
মায়া।
ভালোবাসা।
ক্ষমা।
অন্যদিকে ছিল—
অভিমান।
অবিশ্বাস।
রাগ।
হতাশা।
আর মানুষের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আস্থা।
সোনা কখনো কখনো ভাবত—
“হয়তো আমাকেও বদলে যেতে হবে।”
“হয়তো আর কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।”
“হয়তো মায়া-মমতা নিয়ে বাঁচলে এই পৃথিবীতে টিকে থাকা কঠিন।”
কিন্তু তারপর তার ভেতরের ভালো মানুষটা তাকে থামিয়ে দিত।
বলত—
“কয়েকজন খারাপ মানুষের কারণে তুমি নিজেকে খারাপ করে ফেলবে?”
সোনা চুপ হয়ে যেত।
কারণ সে জানত—
এটাই সত্যি।
একদিন বিকেলে সোনা নদীর ধারে বসেছিল।
নদীর পানি ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছিল।
সে পানির দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল।
তারপর মনে হলো—
নদী তো কাউকে জিজ্ঞেস করে না, কে তাকে সম্মান করল আর কে করল না।
সে শুধু নিজের পথে বয়ে চলে।
সোনা হঠাৎ বুঝতে পারল—
তার জীবনও এমন হতে হবে।
কেউ তাকে বুঝুক বা না বুঝুক,
কেউ তার সততার মূল্য দিক বা না দিক,
কেউ তার ভালোবাসাকে সম্মান করুক বা না করুক—
তার নিজের চরিত্রের মূল্য তাকে নিজেকেই ধরে রাখতে হবে।
কারণ অন্য কেউ তার সততা নষ্ট করতে পারে না—
যদি সে নিজে সেটা ছেড়ে না দেয়।
অন্য কেউ তার মানবিকতা কেড়ে নিতে পারে না—
যদি সে নিজে তা হারিয়ে না ফেলে।
অন্য কেউ তার ভালোবাসার মূল্য না দিলেও—
তার ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যায় না।
সোনা আকাশের দিকে তাকাল।
তার মনে হলো—
“যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচার আমার হাতে নেই।”
“সময়ের বিচার আছে।”
“জীবনের হিসাব আছে।”
“আর সৃষ্টিকর্তার বিচার তো আছেই।”
তাই সে আর কারও শাস্তির অপেক্ষায় নিজের জীবন আটকে রাখতে চাইল না।
সে বুঝল—
কারও পতন দেখার অপেক্ষায় বসে থাকা মানে নিজের জীবনটাকেও সেই মানুষের সঙ্গে বেঁধে রাখা।
যে মানুষ তাকে কষ্ট দিয়েছে, সে যদি আজ সুখে থাকে কিংবা না থাকে—
সোনার নিজের জীবন থেমে থাকা উচিত নয়।
কারণ সবচেয়ে বড় উত্তর প্রতিশোধ নয়।
সবচেয়ে বড় উত্তর হলো—
নিজেকে আবার গড়ে তোলা।
সোনা সেদিন নিজের কাছে একটা প্রতিজ্ঞা করল।
“আমি আর কারও মিথ্যার কারণে নিজের সত্যকে নষ্ট করব না।”
“কেউ আমার বিশ্বাস ভাঙলে আমি শিক্ষা নেব, কিন্তু বিশ্বাস করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারাব না।”
“কেউ আমার ভালোবাসার মূল্য না দিলে আমি ভালোবাসাকে ঘৃণা করব না।”
“কেউ আমার মানবিকতার সুযোগ নিলে আমি মানবিক হওয়া বন্ধ করব না।”
“তবে এবার থেকে কাকে কতটা কাছে আনব, সেটা বুঝে সিদ্ধান্ত নেব।”
কারণ ভালো মানুষ হওয়া আর সবাইকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা এক জিনিস নয়।
মায়া থাকা আর নিজের সম্মান হারিয়ে ফেলা এক জিনিস নয়।
ভালোবাসা আর নিজের জীবন থামিয়ে দেওয়া এক জিনিস নয়।
ক্ষমা করা আর বারবার একই আঘাত গ্রহণ করা এক জিনিস নয়।
সোনা এই পার্থক্যটা বুঝতে শিখল।
কয়েক মাস পর সোনাকে আগের মতো দেখা গেল না।
সে আর প্রতিদিন পুরোনো স্মৃতির মধ্যে ডুবে থাকত না।
তার কষ্ট পুরোপুরি চলে যায়নি।
কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়া এত সহজ নয়।
কিছু কথা মুছে ফেলা যায় না।
কিছু বিশ্বাসঘাতকতার দাগ অনেকদিন থেকে যায়।
কিন্তু সোনা শিখে গেল—
দাগ থাকা মানেই জীবন থেমে থাকা নয়।
ব্যথা থাকা মানেই মানুষ শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
কখনো কখনো ভাঙা মানুষই সবচেয়ে গভীর সত্য বুঝতে পারে।
সোনা বুঝল—
মানুষের আসল পরিচয় তার কথায় নয়,
তার আচরণে।
তার প্রতিশ্রুতিতে নয়,
তার দায়িত্ববোধে।
তার অভিনয়ে নয়,
তার সত্যিকারের সময়ে।
আর ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মুখের কথা নয়—
কঠিন সময়ে পাশে থাকা।
এক রাতে সোনা আবার সেই পুরোনো আয়নার সামনে দাঁড়াল।
কিন্তু এবার তার চোখে আগের মতো অসহায়ত্ব ছিল না।
সে নিজের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
বলল—
“তুমি অনেক কেঁদেছ।”
“অনেক বিশ্বাস করেছ।”
“অনেক ক্ষমা করেছ।”
“অনেকবার ভেঙেছ।”
“তবুও তুমি খারাপ হয়ে যাওনি।”
তারপর ধীরে ধীরে বলল—
“এটাই তোমার জয়।”
সোনা বুঝতে পারল—
যারা তাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল, তারা হয়তো তার জীবনের অনেকটা সময় নিয়ে গেছে।
কিন্তু তার বিবেক পুরোপুরি কেড়ে নিতে পারেনি।
তার মানবিকতা পুরোপুরি মুছে দিতে পারেনি।
তার ভালোবাসার ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি।
কারণ সোনা এখনও জানে—
সৎ থাকা দুর্বলতা নয়।
মানবিক হওয়া বোকামি নয়।
ভালোবাসা অপরাধ নয়।
ক্ষমা করা পরাজয় নয়।
তবে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করাও জরুরি।
সেদিন রাতের আকাশে চাঁদ ছিল।
সোনা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—
“যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের জন্য আমি আর নিজের জীবন নষ্ট করব না।”
“তাদের বিচার সময়ের হাতে।”
“আমার বিচার আমার কাজের মধ্যে।”
“আমি জানি, আমার প্রতিটি কান্নার সাক্ষী ছিল আমার বিবেক।”
“আমি জানি, আমি কাউকে ঠকাতে চাইনি।”
“আমি জানি, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সত্যি ছিলাম।”
“তাই আজ থেকে আমি তাদের নয়—নিজেকে নিয়ে বাঁচব।”
তার চোখে তখনও একটু জল ছিল।
কিন্তু সেই জল আগের মতো অসহায়তার ছিল না।
সেটা ছিল দীর্ঘ কষ্টের পর জন্ম নেওয়া এক ধরনের উপলব্ধির জল।
সোনা জানত—
জীবনে কিছু মানুষ আসে শিক্ষা হয়ে।
কিছু মানুষ আসে সতর্কতা হয়ে।
কিছু মানুষ আসে আমাদের হৃদয় ভাঙতে।
আর কিছু মানুষ আসে আমাদের শেখাতে—
কাকে ভালোবাসতে হয়, কাকে বিশ্বাস করতে হয়, আর কোথায় নিজের সীমা টেনে দিতে হয়।
সবশেষে সোনা শুধু একটা কথাই মনে রাখল—
“কেউ তোমার সততার মূল্য না দিলেও তুমি অসৎ হয়ো না।
কেউ তোমার ভালোবাসাকে আঘাত করলেও তুমি ভালোবাসাকে ঘৃণা করো না।
কেউ তোমার মানবিকতাকে দুর্বলতা ভাবলেও তুমি মানবিকতা হারিয়ো না।
কারণ অন্যের অন্যায় তোমার চরিত্রের পরিচয় নয়—তোমার প্রতিক্রিয়াই তোমার পরিচয়।”
আর সেদিন থেকে সোনা অপেক্ষা করা বন্ধ করল—
কে কখন শাস্তি পাবে তার জন্য নয়,
বরং নিজের জীবনে আবার শান্তি ফিরে আসার জন্য।
কারণ সে অবশেষে বুঝেছিল—
কখনো কখনো সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ হলো প্রতিশোধ না নিয়ে নিজের জীবনটাকে সুন্দর করে তোলা।
যে মানুষগুলো তাকে কাঁদিয়েছিল, তারা হয়তো তার অতীত।
কিন্তু তার ভবিষ্যৎ?
সেটা এখনও তার নিজের হাতে।
আর সেই ভবিষ্যতের প্রথম পাতায় সোনা লিখল—
“আমি ভেঙেছি, কিন্তু শেষ হয়ে যাইনি।
আমি কেঁদেছি, কিন্তু ভালোবাসতে ভুলিনি।
আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি, কিন্তু নিজে বিশ্বাসঘাতক হইনি।
এটাই আমার সত্য।
এটাই আমার শক্তি।”

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when sujan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category