10/05/2025
একটি খোলা চিঠি—সব বাঙালি মা-বাবার প্রতি
১। প্রিয় মায়েরা, ছেলেকে বিয়ে দেবেন না, বরং তাকে বিয়ে করার সুযোগ দিন। যেন সে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারে, সংসার শুরু করতে পারে, পূর্ণ একজন মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
২। আপনি ত্রিশ বছর সন্তানকে নিজের আদর্শে মানুষ করেছেন। যদি সে বিয়ের পর মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করে, তবে ভাবার সময় এসেছে—আপনার শিক্ষায়, আচরণে বা মূল্যবোধে কোথাও ভুল ছিল। নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোথায় শেখাতে ভুল হয়েছিল?
৩। সন্তানকে বিয়ে দেওয়ার পর তার জীবনের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিন। শাসন আর অধিকারের বেড়াজাল থেকে তাকে মুক্ত করুন।
৪। মনে রাখবেন, আপনি বাবা-মা হয়েছেন আপনার নিজের সিদ্ধান্তে। সন্তান সেই সিদ্ধান্তে কোনো অংশগ্রহণ করেনি। তাই তার প্রতি দায়িত্ব আপনারই। অধিকার নয়, দায়িত্ব—এই জায়গা থেকেই সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
৫। সন্তানদের লালন-পালনে যে কষ্ট, সেটা বাবা-মায়েরা ভালোই জানেন। তবে সেই কষ্টের গল্প সন্তানকে বারবার শোনাবেন না। তারা নিজের সন্তানদের জন্য এই কষ্টের পুনরাবৃত্তি করবে—এটাই জীবনচক্র।
৬। দাম্পত্য জীবনের কষ্ট যদি স্বামী না বোঝেন, তাহলে বাইরের কেউ কখনও বুঝবে না। সেই কষ্টগুলো লেখে রাখুন। কিছু পুরুষ বাইরে সাময়িক আনন্দ খোঁজে, ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু গৃহিণীরা সংসারে থেকে থেকে একসময় "বোঝা" হয়ে যান। বিশেষত পঞ্চাশের পর নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষ যত্ন দাবি করে। এই সময়ে মানসিক চাপ বেড়ে গেলে, দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
৭। আমার এক খালা একদিন বলেছিলেন, “জানিস, সাহিন যখন বউ নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে, আমার বুকটা ফেটে যায়।” মা হয়ে এভাবে সন্তানের চোখে হারানো ঠিক নয়। সন্তানকে তার নিজের মতো করে জীবন কাটাতে দিন।
৮। সন্তান বিয়ের পর তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে, একদিন আলাদা করে তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন। আলাপ করুন, কিন্তু নিজের মত চাপিয়ে দিয়ে সমাধান করতে যাবেন না।
৯। চল্লিশের পর নারী ও পুরুষ—উভয়েই শরীর ও মনকে নতুন করে যত্ন দিন। নিজেকে ভালোবাসুন।
১০। প্রিয় পুরুষেরা, স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়েছেন, সংসার সামলেছেন—তার সৌন্দর্য আগের মতো থাকবে না। তার পরিবর্তিত দেহের প্রশংসা করুন। কিংবা তাকে ফিট থাকতে সহায়তা করুন, জিমে ভর্তি করে দিন, উৎসাহ দিন। তাকে বলুন, “তোমায় এখনো দেখলেই মুগ্ধ হই।” এতে স্ত্রী মানসিক শান্তি পাবে, আর সংসারেও শান্তি আসবে।
১১। ছেলে-বউয়ের ঘরের দরজায় কান পাতবেন না। ওদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন।
১২। যদি সন্তানের কাছে কোনো কিছু প্রয়োজন হয়, অল্প কথায় বলুন, বোঝান। অধিকার ফলাতে যাবেন না।
১৩। সন্তানকে মানুষ করতে যেমন বাবা-মার কষ্ট হয়, সন্তানকেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ততটাই পরিশ্রম করতে হয়। তাদের স্বপ্নে সহায় হোন।
১৪। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন, স্বার্থ সন্তানের ঘাড়ে চাপাবেন না। তারা মানুষ, মেশিন নয়।
১৫। অনেক কিছুই আছে—ছেড়ে দিন। সন্তান যদি ভালোবাসে, সে নিজের দায়িত্ব ঠিকই পালন করবে। ভালোবাসার বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করবেন না। আর যদি আপনি সামর্থ্যবান হন, তাহলে তো একদমই নয়।
এই পৃথিবীর সব মানুষ যেন সম্মান ও ভালোবাসায় বাঁচতে পারে। মৃত্যুর পর শুধু কবরে ফুল নয়—জীবন থাকতেই ভালোবাসা হোক শ্রেষ্ঠ উপহার।
বি.দ্র.: এএসপি পলাশ সাহার অপমৃত্যু আমাদের পরিবারগুলোর ভাবনার ধরণকে নতুন করে গড়ে তুলবে বলে আশা করি।