28/09/2024
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং বিষয়ক A-Z আলোচনা..
A গ্রুপ = "শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত উলামা পরিষদ" (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সিরাতুন্নবী মাহফিল আয়োজক) ।
B গ্রুপ = দক্ষিণ হবিগঞ্জ আহলে সুন্নাত ঐক্য পরিষদ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সিরাতুন্নবী মাহফিল প্রতিরোধ কমিটি) ।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং হল একটি সরকারি মাঠ (যে মাঠে দল মত নির্বিশেষে সকলের'ই মাহফিল, সভা, সেমিনার সহ সব ধরনের যৌক্তিক এবং শালীন আয়োজন করার অধিকার রয়েছে) হওয়া সত্বেও পৈত্রিক সম্পত্তির মত (বা জবরদখল করে) এই মাঠ এককভাবে প্রায় দেড় যুগ ধরে ব্যবহার করে আসছে ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পতন হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দলীয় নেতাদের সহযোগিতায় তথাকথিত সুন্নি নামধারী বেদআতিরা।
৫ আগস্ট-এর পরে এই দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে বলে বাংলাদেশী জাতি তা মেনে নিয়েছে। সকলের একটাই দাবি এই দেশে আর চলবে না কোনো জুলুম, অত্যাচার, জবর দখল এবং অযৌক্তিক বৈষম্য ।
এর'ই প্রেক্ষিতে সকলেই নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য নবী পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনী শীর্ষক আলোচনা মাহফিল সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলনের মাধ্যমে এই মাঠে ইসলামিক আয়োজন শুরু করতে যাচ্ছিল "শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত উলামা পরিষদ"।
কিন্তু শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং জবর দখলকারী B-গ্রুপ এই পবিত্র সীরাতুন্নবী মাহফিলে বাধা প্রদান করার জন্য "দক্ষিণ হবিগঞ্জ আহলে সুন্নাত ঐক্য পরিষদ" নামে সিরাতুন্নবী মাহফিল প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন। এবং তারা সীরাতুন্নবী মাহফিল বান্চাল করার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জামে মসজিদ দখলের মিথ্যা অভিযোগ তুলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাবাসীকে মর্মাহত করেছেন। এবং উগ্রপন্থী কিছু মানুষকে উস্কে দিয়ে এলাকার শান্ত সৃষ্ট পরিবেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন। অথচ রেলওয়ে জামে মসজিদ দখলের কোনো চিন্তাই A-গ্রুপের ছিল না । এবং B-গ্রুপ মিথ্যা দাবি তুলেছে যে, বিগত ৪০ বছর যাবত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং তাদের দখলে রয়েছে। অথচ মাত্র ২০০৪ সালে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং স্বীকৃতি পায়। এইভাবে তারা ধাপে ধাপে মিথ্যা অভিযোগ তুলে লজ্জিত হয়েছেন।
সর্বসাধারণ এলাকার মুরুব্বী কর্তৃক জানা যায় যে, মসজিদ দখলের এই প্রোপাগান্ডা করার মূল কারণ হলো তাদের অন্তরে অবৈধভাবে দখলকৃত মসজিদ হারাবার ভয়। কারণ, এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন দেওবন্দী মাসলাকের আহলে হক একদল মুত্তাকী পরহেজগার আল্লাহর বান্দাগন। এবং আল্লামা তাফাজ্জল হক (মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জী রহ. ) এই মসজিদে পবিত্র কুরআনের ধারাবাহিক তাফসিরও করেছেন। আল্লামা আশরাফ আলী (তালুকহড়াই হুজুর রহ.) এই মসজিদে ইমামতিও করেছেন। এই ইতিহাস আজকে না ই বা বললাম। পরবর্তীতে আহলে হক, দেওবন্দীদের কাছ থেকে তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামার ভয় দেখিয়ে এই মসজিদ দখল করে নিয়েছিল তথাকথিত সুন্নি নামধারী বেদআতিরা।
সর্বশেষ, তারা শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জামে মসজিদ অবৈধভাবে তাদের দখলে রাখার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর নবীজির পবিত্র সীরাতুন্নবী মাহফিল বানচালের চেষ্টা চালিয়েছিল । অথচ B-গ্রুপ A-গ্রুপের কাছে কমিটমেন্ট করেছিল যে, ১৪ সেপ্টেম্বর মিলাদুন্নবী মাহফিল তাদেরকে করতে দিলে সীরাতুন্নবী মাহফিলে তারা বাধা প্রদান করবে না। কিন্তু ১৪ তারিখ জশনে জুলুস এবং মাহফিলের পরেই গেইট থেকে তাদের ব্যানার নামিয়ে ফেলেছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে আবার সীরাতুন্নবী মাহফিল বান্চাল করার জন্য পাল্টা তারিখ করে তারা একে একে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (অবৈধভাবে) মাহফিল করবে বলে তারা প্রচার করা শুরু করে দেয়। এবং সেই পুরনো ১৪ সেপ্টেম্বরের মেয়াদহীন ব্যানার আবার নতুন করে গেইটে টানিয়ে দেয়। অথচ A-গ্রুপ ২৮ তারিখে মাহফিল সফল করার জন্য ব্যানার, পেস্টুন, লিফলেট, পোস্টার, দাওয়াত, এবং বক্তাদের সিডিউল সবকিছুই আঞ্জাম দিয়ে রেখেছিলেন। এবং ২৮ তারিখের ব্যাপারে আরো একমাস আগেই A-গ্রুপ প্রশাসনের অবগতি পত্রের রিসিভ কপি নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু B-গ্রুপ ২৬ তারিখে মাজার ভাঙ্গার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের নামে ২৮ তারিখ পর্যন্ত এই মাঠ দখল করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছিল ।
এর আগে A-গ্রুপ ও B-গ্রুপের রক্তারক্তির সম্ভাবনা দেখে ইউএনও মহোদয় উভয় পক্ষকে সালিশের জন্য ডেকেছিলেন । সালিশে কোনো চূড়ান্ত সমাধান না পেয়ে ডিসি সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালিশ শেষ করে দেন। পরবর্তীতে ২৬ তারিখে ডিসি মহোদয়ের কাছে যাওয়া হলে ডিসি মহোদয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মাঠে ২৬-২৯ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে দেন। ২৬ তারিখে দুপুর তিনটায় ডিসি সাহেবের সাথে সাক্ষাতের সময় তারা মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন । শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিং-এ ১৪৪ ধারা জারি হওয়ার পর তারা সেখানে মানববন্ধন করতে আসলে সেনাবাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তারা মাঠ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে যারা মাঠ দখল করে রেখেছিলেন তাদের পলায়ন দেখে শায়েস্তাগঞ্জবাসী বলেছেন এটা আহলে হক দেওবন্দী মাসলাকের বিজয়। আলহামদু-লিল্লাহ।
ডিসি মহোদয়ের সাথে সাক্ষাতের পরে ডিসি মহোদয় উভয়পক্ষকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে, আমাদেরকে একটু স্পেইস দেন ! পরবর্তীতে আপনারা উভয়পক্ষ এখানে মাহফিল করবেন, আমাদেরকে দাওয়াত দিবেন, আমরাও মাহফিলে উপস্থিত থাকবো, আমি নিজেও শেখানো উপস্থিত থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
পরবর্তীতে আহলে হক দেওবন্দী মাসলাকের অনুসারী "শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নত উলামা পরিষদ-এর নেতৃত্বে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বাসীর দাবি অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, রেলওয়ে পার্কিংয়ে আমাদের কাঙ্খিত সীরাত মাহফিলের আগে তাদের আর কোনো ধরনের মাহফিল এখানে করতে দেওয়া হবে না।ইনশাআল্লাহ।।
কপি