July 36 Unity Minds

July 36 Unity Minds Justice for all

27/09/2026

বিম্পির ভিতর
কু ** লীগ আছে না নাই ?
আছে !
তাইলে আগে তাদের ধর !

26/09/2026

একটা ভিডিও আমরা প্রায়ই দেখি। এক মা চিৎকার কইরা কইতেছেন—“রাক্ষসীর বিরুদ্ধে লড়েছে আমার সন্তান। আমি গর্বিত, আমি গর্বিত…”
(ভিডিও কমেন্টে)

সেই মা-ই এই ফাহমিন জাফরের মা।

১৮ জুলাই। উত্তরায় একটা মার্কেটের সিঁড়িতে হাসিনার পুলিশ ফাহমিন জাফরকে গুলি কইরা ফালাইয়া দেয় (ছবিতে দেখতেছেন)। গুলিতে ঝাঁঝরা হইয়া যায় তার বুক, মুখ, চোখ।

বের হওয়ার আগে ফাহমিন মারে কইছিল—
“মা, আমি যদি মারা যাই, হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমার লাশ রাস্তাতেই রাইখো।”

একটা ছেলে মারে এই কথা কইয়া ঘর থাইকা বাইর হইছিল। আর মা—সন্তান হারাইয়া কইতেছেন,
“আমি গর্বিত।”

19/09/2026

শহীদ জীবনী-৯ :শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর: একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প

“আমি মারা গেলে আমার লাশটা রাজপথে রেখে দিও। দাবি আদায় হওয়ার পর দেশ শান্ত হলে আমার লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো।”

মায়ের কাছে বুক কাঁপানো এই কথাগুলো বলেই ১৮ জুলাই ২০২৪ সকালে আন্দোলনের উদ্দেশে বেরিয়েছিল ১৮ বছরের তরুণ শেখ ফাহমিন জাফর। সে জানত, রাজপথের এই আন্দোলনে ঝুঁকি আছে, মৃত্যুও আসতে পারে। তবু মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল সে—এই আশায় যে সফল হয়ে আবার ঘরে ফিরবে। কে জানত, সেটিই হবে মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা।

শেখ ফাহমিন জাফরের জন্ম ২০০৬ সালের ১০ জুলাই রাজশাহীতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাইয়ের তারাটিয়া গ্রামে। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হয় টঙ্গী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল ছেলে ডাক্তার হবে, কিন্তু ফাহমিনের স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ছেলের ভালো পড়াশোনার জন্য মা কাজী লুলুল মাখমিন রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন।

ছেলের পড়াশোনার জন্য মায়ের ত্যাগ :ফাহমিনের ভালো পড়াশোনার জন্য তাঁর মা কাজী লুলুল মাখমিন রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় এসেছিলেন।

মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যতের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে?ছেলের পড়াশোনা ভালো হবে, ছেলে বড় হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—এই স্বপ্নেই মা নতুন শহরে এসে সংসার গড়েছিলেন।

ঢাকার ব্যস্ত শহরে তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাঁর সন্তানরা।ছেলের পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুম, পরীক্ষা—সবকিছু নিয়েই ছিল তাঁর ব্যস্ততা।একজন মা যে কত স্বপ্ন সন্তানের মধ্যে রেখে দেন, তার হিসাব হয় না।

ফাহমিনের মায়েরও ছিল তেমনই অসংখ্য স্বপ্ন।তিনি হয়তো কল্পনা করেছিলেন—একদিন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে।একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে।একদিন মাকে গর্ব করে বলবে“মা, তোমার কষ্ট বৃথা যায়নি।”

ফাহমিন শুধু পড়াশোনাতেই মেধাবী ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকত, দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবিতা লিখত। ঘরে সাজানো ছিল ম্যাথ অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান মেলার পুরস্কার। তার নেতৃত্বে কলেজের বিজ্ঞান ক্লাবও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল ছেলেটি।

কিন্তু ১৮ জুলাই দুপুরে উত্তরার আজমপুরে বদলে গেল সেই ভবিষ্যৎ।

১৮ জুলাই: বের হওয়ার আগে মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিল ফাহমিন। ১৮ জুলাই ২০২৪। বৃহস্পতিবার। সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফাহমিন।বের হওয়ার সময় মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।বলেছিলেন, যেন আন্দোলনে সফল হয়ে ঘরে ফিরতে পারেন।মায়ের বুকের ভেতর তখন অজানা এক আশঙ্কা কেঁপে উঠেছিল।
একজন মা কখনো কখনো এমন কিছু অনুভব করেন, যার কোনো যুক্তি থাকে না।তবু তিনি ছেলেকে আটকাননি।

উত্তরার আজমপুরে সেই ভয়াবহ দুপুর। দুপুরের দিকে ফাহমিন ছিলেন উত্তরার আজমপুর এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।সেসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা করছিল।এর মধ্যেই গুলি চালায় পুলিশ

ফাহমিন গুলিবিদ্ধ হন।তাঁর ঘাড়, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা বা স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে বলে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়।

তারপর—একটি তরতাজা শরীর লুটিয়ে পড়ে উত্তরার একটি ভবনের সিঁড়িতে।সে সময় তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর।মাত্র ১৮!
যে বয়সে একটি ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

সিঁড়িতে পড়ে ছিল ফাহমিনের দেহ ,গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ফাহমিন দীর্ঘ সময় আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন বলে স্বজনদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আহত ফাহমিন তখন সিঁড়িতে পড়ে ছিলেন।শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।সময় চলে যাচ্ছিল।প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।কিন্তু সেই মুহূর্তগুলোই যেন তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল।

যারা তাঁকে উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন, তারাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়।

স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরতাজা ছেলেটিকে দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও ব্যথিত হয়েছিলেন। সামান্য আগে যদি তাকে হাসপাতালে আনা যেত—এই আক্ষেপই যেন আরও ভারী করে তুলেছিল ফাহমিনের মৃত্যুকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শেষ হয়ে গেল একটি জীবনের সমস্ত সম্ভাবনা।

এদিকে বিকেল গড়িয়ে প্রায় তিনটা। মা লুলুল মাখমিন তখনও অপেক্ষা করছিলেন ছেলেদের দুপুরের খাবারের জন্য। হঠাৎ খবর এলো, ফাহমিন হাসপাতালে। সংবাদবাহকের সঙ্গে ছুটে গেলেন তিনি। হাসপাতালে গিয়ে দেখলেন তাঁর আদরের সন্তান নিথর, রক্তাক্ত। সেই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা।

জ্ঞান ফেরার পর মা ছেলের মরদেহ নিয়ে রওনা হন নওগাঁর আত্রাইয়ের দিকে।সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ফাহমিনকে।যে ছেলে একদিন নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তাকে ফিরিয়ে আনা হলো নিথর অবস্থায়।

যে ছেলে মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে বলেছিল, সফল হয়ে ফিরে আসবে—সে ফিরল।কিন্তু নিজের পায়ে নয়।একটি কাফনের ভেতর।

ফাহমিনের মা আজও তাঁর ছেলের শেষ কথাগুলো ভুলতে পারেন না।"আমি মারা গেলে আমার লাশটা রাজপথে রেখে দিও…”
একজন মায়ের কাছে এই কথা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়।এটি তাঁর সন্তানের শেষ ইচ্ছা।এটি তাঁর বুকের মধ্যে জমে থাকা সবচেয়ে ভারী স্মৃতি।

ছেলেটি তখন হয়তো জানত না, তাঁর কথাগুলো এত দ্রুত সত্যি হয়ে যাবে।মা হয়তো ভাবেননি, একদিন সত্যিই তাঁকে ছেলের লাশ নিয়ে রাজপথ থেকে ফিরতে হবে।

কিন্তু জীবন কখনো কখনো এমন নির্মম বাস্তবতা সামনে দাঁড় করায়, যার জন্য মানুষ কোনোভাবেই প্রস্তুত থাকে না।

ফাহমিন শুধু একজন শহীদ নন, তিনি একটি অসমাপ্ত গল্প।ফাহমিনের গল্প শুধু মৃত্যুর গল্প নয়।এটি একজন মেধাবী তরুণের গল্প।একজন মায়ের ত্যাগের গল্প।একজন বাবার স্বপ্নের গল্প।একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চাওয়া কিশোরের গল্প।

একজন কবিতা লেখা তরুণের গল্প।

ফাহমিন আর কোনোদিন ফিরবে না মায়ের কাছে। ফিরবে না সেই ঘরে, যেখানে তার পুরস্কারগুলো সাজানো ছিল; ফিরবে না সেই স্বপ্নের পথে, যেখানে অপেক্ষা করছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ভবিষ্যৎ।

19/09/2026
19/09/2026

জুলাই যোদ্ধাদের এখন আমলীগের সাথে এক হয়ে এই জামাত, বিম্পি, এনসিপির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নাম উচিত । জুলাই ২৪ শে এত রক্তের বিনিময় গণতন্ত্র এলো কিন্তু এরা দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এক হতে পারে না !

18/09/2026

শহীদ জীবনী-০৮ :- শহীদ ফারহান ফাইয়াজ

যে ছেলেটি সবাইকে গর্বিত করে চলে গেল। “একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এমন জীবন গড়ো, যাতে মৃত্যুর পর মানুষ তোমাকে মনে রাখে।”

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বায়োতে কথাগুলো লিখেছিলেন মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া—সবার প্রিয় ফারহান ফাইয়াজ। হয়তো কথাগুলো তিনি লিখেছিলেন জীবনের একেবারে সাধারণ একটি সত্যকে মনে রেখে। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই কথাগুলোই তাঁর নিজের জীবনের গল্প হয়ে দাঁড়াবে!

ফারহান চলে গেছেন খুব অল্প বয়সেই। এমন এক বয়সে, যখন একজন তরুণের সামনে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন, সম্ভাবনা, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। তাঁরও ছিল। ছিল দেশকে নিয়ে স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, গবেষণা করার স্বপ্ন। দেশের বাইরে গিয়ে জ্ঞান অর্জন করে একদিন দেশে ফিরে এসে মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাঁর।

কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্নগুলো আর পূর্ণ হলো না।

মাত্র কয়েক বছর পর যে ছেলেটি নিজের গাড়ি চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে লং ড্রাইভে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, যে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে রাত আটটা-নয়টা বাজিয়ে ফেলত, যে বোনের হাতের ফিশ ফ্রাই খেতে ভালোবাসত—সেই ছেলেটিই একদিন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রইল রাজপথে।
তারপর থেকে একটি পরিবারে আর আগের মতো কোনো দিন আসেনি।

ছোটবেলা থেকেই আলাদা ছিল ফারহান।ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একজন মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি কলেজের আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছেন। ২০২৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

সহপাঠীদের স্মৃতিতে ফারহান শুধু একজন ভালো ছাত্র ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রাণচঞ্চল, বন্ধুবৎসল এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একজন তরুণ।

পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তাঁর ছিল সক্রিয় উপস্থিতি। কলেজের বিভিন্ন ক্লাব ও অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। নতুন কিছু শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথাও বন্ধুদের সঙ্গে বলতেন। তবে সেই স্বপ্নের শেষ গন্তব্য হিসেবে নিজের দেশকেই ভাবতেন তিনি।

বন্ধুদের ভাষায়, ফারহান এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের চারপাশের মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন খুব সহজেই।
‘ধলা’—বন্ধুদের কাছে ভালোবাসার একটি নাম ,ফারহানের সহপাঠী ওয়াকিফ ফাহমিদের স্মৃতিতে ফারহান যেন এখনও জীবন্ত।ছোটবেলা থেকেই তাদের পরিচয়। একসঙ্গে কোচিং, একই কলেজে ভর্তি, এরপর বন্ধুত্ব আরও গভীর হওয়া। গল্প, আড্ডা, ঘোরাঘুরি—কত শত স্মৃতি যে জমে ছিল তাদের!

ফারহানের পোশাক আর চুলের স্টাইল ছিল একটু আলাদা। নিজের সাজগোজ নিয়েও তাঁর মধ্যে ছিল স্বতন্ত্রতা। মাঝেমধ্যে বন্ধুর কাছে এসে মজা করে বলতেন—

“মামা দ্যাখ, আমি কালো হয়ে গেছি না?”সেই থেকেই বন্ধুদের কাছে তাঁর ডাকনাম হয়ে যায়—‘ধলা’।
নামটি হয়তো শুনতে মজার। কিন্তু সেই নামের ভেতরে লুকিয়ে আছে একদল বন্ধুর অসংখ্য হাসি, আড্ডা আর কৈশোরের স্মৃতি।
আজ সেই বন্ধুরাই যখন তাঁকে মনে করেন, তখন হয়তো সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এই ভেবে—আর কোনো দিন কেউ তাকে ‘ধলা’ বলে ডাকবে না।

চাঁদ দেখার সেই রাত ,ফারহানের জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোই আজ তাঁর বন্ধুদের কাছে অমূল্য স্মৃতি।

একবার কলেজের একটি ফেস্টে টেলিস্কোপ আনা হয়েছিল চাঁদ দেখানোর জন্য। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফারহান।

কোচিং করার কথা ছিল। কিন্তু ফারহান বন্ধুকে বললেন, চলো চাঁদ দেখাব।বন্ধুও শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চলে গেলেন।

সেই রাতে হয়তো তারা ভাবেনি, জীবনের কোনো একদিন এই ছোট্ট ঘটনাটিও এত বড় স্মৃতি হয়ে উঠবে।বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়া, বসুন্ধরার টগি ফান ওয়ার্ল্ডে ঘুরতে যাওয়া, হঠাৎ করে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করা—ফারহানের ছিল এমনই প্রাণবন্ত জীবন।

বন্ধুদের প্রায়ই বলতেন“চল মামা, এখানে যাই। চল ওখানে যাই।”

কত জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল!কত গল্প বাকি ছিলকত পথ একসঙ্গে হাঁটার কথা ছিল!কিন্তু জীবন কখনো কখনো মানুষের পরিকল্পনার চেয়েও নির্মমভাবে নিজের শেষ অধ্যায় লিখে দেয়।

সহপাঠীদের বর্ণনায় ফারহানের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল। সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং জুনিয়রদের প্রতি স্নেহশীল ছিলেন তিনি।জুনিয়রদের কাছেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল।

তিনি শুধু নিজের পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন না; বিভিন্ন সামাজিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও অংশ নিতেন। কয়েক দিন আগে টেন মিনিট স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় তিনি তাঁর কলেজের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

একজন তরুণ হিসেবে তাঁর সামনে তখনও পড়ে ছিল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলো।এই বয়সে মানুষ সাধারণত নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করে।ফারহানও ভাবছিলেন।কিন্ত নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর আগ্রহ ছিল।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ শহীদ হন।

এই আন্দোলনের সময় ফারহানও রাজপথে ছিলেন বলে পরিবার ও সহপাঠীদের বর্ণনায় জানা যায়।১৮ জুলাই ছিল সেই ভয়াবহ দিন।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় তখন উত্তেজনা তীব্র। রাস্তায় সংঘর্ষ, গুলির শব্দ, আতঙ্ক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল ভয়ংকর।

ফারহানও সেদিন কয়েকজন সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাস্তায় বের হয়েছিলেন।

পরিবার ও স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, সামনে ছিলো পুলিশ এবং আওয়ামী স ন্ত্রাসী বাহিনি। সংঘর্ষের মধ্যে অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর বুক ও মুখে গুলি লাগে।দুপুরের দিকে তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পরিবারে পৌঁছায়।

বন্ধুরা তাঁকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।কিন্তু হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় ফারহানের জীবনের পথচলা।যে বুকের ভেতর ছিল হাজার স্বপ্ন, সেই বুকেই গুলি।যে মুখে ছিল হাসি, সেই মুখেই রক্ত।

যে ছেলেটি কিছুদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে লং ড্রাইভে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল, সে আর কখনো গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে পারল না।

ফারহান ফাইয়াজ আর ফিরলেন না।একটি পরিবারের পৃথিবী থেমে গেল। একজন তরুণের মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না। সঙ্গে নিয়ে যায় একটি পরিবারের অসংখ্য স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যতের আনন্দ।

ফারহানের পরিবারও সেই নির্মম শূন্যতার মধ্যে পড়ে যায়।তাঁর মা সন্তানের জিনিসপত্র দেখলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।যে ঘরে একসময় ফারহানের কণ্ঠ শোনা যেত, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা।

যে ঘরে তাঁর পড়ার বই ছিল, সেখানে বইগুলো পড়ে আছে—কিন্তু বইয়ের মালিক নেই।যে জামাকাপড়গুলো হয়তো মা যত্ন করে গুছিয়ে রাখতেন, সেগুলো আজও আছে। শুধু ফারহান নেই।

একজন মায়ের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য সম্ভবত সন্তানের কবর।

সেই কবরের সামনে দাঁড়িয়ে একজন মা কীভাবে মেনে নেবেন যে সন্তানকে তিনি এতদিন বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলেন, সে আর কোনো দিন দরজা দিয়ে ঢুকবে না?

আর কোনো দিন বলবে না “মা, খেতে দাও।”“আমি এখন কার জন্য ফিশ ফ্রাই বানাবো?”

ফারহানের ছোট বোন সায়ীমা ইসলাম দশম শ্রেণির ছাত্রী ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।সায়ীমা ফিশ ফ্রাই বানাতেন। আর সেটি ছিল ফারহানের খুব পছন্দের খাবার।

একটি ছোট বাক্য।কিন্তু এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন একটি বোনের পুরো পৃথিবীর কান্না জমে আছে।ফিশ ফ্রাই হয়তো এখনও বানানো সম্ভব।কিন্তু সেই খাবারটি খাওয়ার জন্য যে ভাইটি বসে থাকত, সে তো আর নেই।

ছেলের জন্মদিন ছিল ১২ সেপ্টেম্বর।বাবার সঙ্গে পরিকল্পনা হয়েছিল—এবার ফারহান নিজেই গাড়ি চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। বাবা রাজিও হয়েছিলেন।

কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তব হয়নি।ছেলের জন্মদিন এলো।কিন্তু ছেলে এলো না।বাবার স্মৃতিতে হয়তো এখনও সেই পরিকল্পনাটি রয়ে গেছে—গাড়ি, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, হাসি-আনন্দ।

ফারহানের খালা ফারজানা মুনমুনের বর্ণনায়, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়ার সময় ফারহান গুলিবিদ্ধ হন।তাঁর প্রশ্ন আজও কানে বাজে—

“নিরপরাধ, নিরস্ত্র আমার এতটুকু বাচ্চার বুক তাক করে পুলিশ গুলি চালাল; এতটুকু হাত কাঁপল না?”এটি একজন শোকাহত স্বজনের প্রশ্ন।

বন্ধু ওয়াকিফ বলেন, ১৫ জুলাই ,ফারহান ও ওয়াকিফের শেষ দেখা হয়েছিল ১৫ জুলাই। দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে তারা একসঙ্গে গল্প করতে করতে বাসায় ফিরেছিলেন।কে জানত, সেটিই হবে তাদের শেষ দেখা?

পরদিন ১৬ জুলাই আন্দোলনে ওয়াকিফ গিয়েছিলেন।তাঁর একটি পোস্টে ফারহান মন্তব্য করেছিলেন—

“Proud of you.”

বন্ধু ওয়াকিফের কাছে তখন কথাটি ছিল বন্ধুর প্রতি বন্ধুর স্বাভাবিক ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রকাশ।কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই কথাটির অর্থ যেন বদলে গেল।

ফারহান নিজেই আর নেই।বন্ধুটি আজও বেঁচে আছেন তাঁর স্মৃতি নিয়ে।আর সেই স্মৃতির ভেতর থেকে যেন ফিরে আসে ফারহানের সেই ছোট্ট মন্তব্য—“Proud of you.”

ওয়াকিফের ভাষায়, কে জানত—শেষ পর্যন্ত ফারহানই তাঁদের সবাইকে ‘প্রাউড’ করে চলে যাবে!

ফারহান চেয়েছিলেন পড়াশোনা শেষ করে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে।চেয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে।চেয়েছিলেন গবেষণা করতে।চেয়েছিলেন জ্ঞান অর্জন করে একদিন দেশে ফিরে দেশের জন্য কিছু করতে।
এই স্বপ্নগুলো কোনো অসাধারণ স্বপ্ন ছিল না।

হাজারো তরুণের মতোই তাঁরও ছিল সুন্দর একটি ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা।কিন্তু ফারহানের স্বপ্নের বিশেষত্ব ছিল—তিনি শুধু নিজের জন্য ভাবতেন না। দেশকে ভালোবাসার কথা বলতেন। নিজের অর্জিত জ্ঞান একদিন দেশের মানুষের কাজে লাগানোর কথা ভাবতেন।

জীবন তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি।ফারহান কি সত্যিই চলে গেছেন?এক অর্থে ফারহান চলে গেছেন।তাঁর কণ্ঠ আর শোনা যাবে না। বন্ধুর ফোনে আর হঠাৎ কল আসবে না।

আর কেউ বলবে না—“চল মামা, এখানে যাই।”বোনের হাতে বানানো ফিশ ফ্রাই খাওয়ার জন্য কেউ অপেক্ষা করবে না।
জন্মদিনে গাড়ি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে লং ড্রাইভে যাওয়া হবে না।
চাঁদ দেখাতে বন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার সেই মানুষটিও আর আসবে না।
কিন্তু একজন মানুষ কি শুধু তাঁর শরীরের মধ্যেই বেঁচে থাকেন?
সম্ভবত না।কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন তাঁদের রেখে যাওয়া স্মৃতিতে।বন্ধুদের গল্পে।পরিবারের কান্নায়।পুরোনো ছবিতে।

ফারহান তাঁর বায়োতে লিখেছিলেন—

“একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এমন জীবন গড়ো, যাতে মৃত্যুর পর মানুষ তোমাকে মনে রাখে।”
তিনি হয়তো জানতেন না, তাঁর নিজের জীবনের শেষ অধ্যায় এত দ্রুত লেখা হবে।তিনি হয়তো ভাবেননি, তাঁর বয়সে তাঁকে নিয়ে কোনো দিন জীবনী লেখা হবে।

ভাবেননি, তাঁর মা তাঁর জামাকাপড় জড়িয়ে কাঁদবেনভাবেননি, তাঁর বাবা সন্তানের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নিঃস্ব হওয়ার কথা বলবেন।ভাবেননি, তাঁর বোন ফিশ ফ্রাই বানিয়ে থমকে যাবে।
ভাবেননি, তাঁর বন্ধুরা পুরোনো ছবি খুলে চোখের পানি মুছবে।

কিন্তু তিনি এমন একটি জীবন রেখে গেছেন, যার গল্প মানুষ বলছে।

তাঁর বন্ধুরা তাঁকে মনে রেখেছে।তাঁর পরিবার তাঁকে প্রতিদিন মনে করছে।তাঁর সহপাঠীরা তাঁকে স্মরণ করছে।আর তাঁর সেই ছোট্ট ফেসবুক বায়ো আজ যেন তাঁর নিজের জীবনের প্রতি এক অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে দাঁড়িয়েছে।ফারহানের জীবন থেমে গেছে।

কিন্তু তাঁর স্বপ্ন থামেনি।তাঁর স্মৃতি থামেনি।তাঁকে ঘিরে প্রশ্নগুলোও থামেনি।

তাঁর পরিবার যে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে, সেই প্রত্যাশার উত্তর একদিন আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবেএটাই স্বজনদের আশা।

আর আমাদের কাছে থেকে যাবে একটি তরুণ মুখ।একজোড়া স্বপ্নভরা চোখ।বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য হাসির স্মৃতি।একটি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ।

আর একটি নাম—শহীদ ফারহান ফাইয়াজ।

যে ছেলেটি বলেছিল, মৃত্যুর পর মানুষ যেন তাকে মনে রাখে।সত্যিই—ফারহান, তোমাকে মনে রাখার মতো গল্প তুমি রেখে গেছ।তোমার অসমাপ্ত স্বপ্ন, তোমার হাসি, তোমার বন্ধুত্ব, তোমার পরিবারের কান্না—সবকিছুর ভেতর দিয়ে তুমি বেঁচে থাকবে।

11/09/2026

পায়খানা লীগ 🫢😄

11/09/2026

বিএনপি সরকার কুত্ত** লীগ ধর ।
নইলে ছাত্রজনতা ধরবে!

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when July 36 Unity Minds posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category