08/08/2026
সহধর্মিণী থেকে জাতির প্রেরণার উৎস
বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সহধর্মিণী নন; তিনি ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির নীরব কান্ডারি, দূরদর্শী উপদেষ্টা এবং পরম প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের পথচলা, কারাবরণ এবং রাজনীতির কঠিন মুহূর্তে বঙ্গমাতা যে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা তৎকালীন প্রেক্ষাপটে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের পথচলায় বঙ্গমাতা যেভাবে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন, তা বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামকে চিরকাল ঋণী করে রেখেছে।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে বঙ্গমাতা
যেভাবে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন, তা বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল। বঙ্গবন্ধু যখন বছরের পর বছর জেলখানায় বন্দি থাকতেন, তখন বঙ্গমাতা একদিকে যেমন সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব একা হাতে সামলেছেন, অন্যদিকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিজেও বিভিন্ন সময়ে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় উৎসাহ ও সাহসের উৎস ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী।
ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গমাতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্বে। চারপাশের নানা চাপ ও পরামর্শের ভিড়ে বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুকে পরম মমতায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন নিজের মনের কথা শোনার জন্য। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, "তুমি সারা জীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছ, তোমার মন যা বলে তুমি সেটাই বলবে।" বঙ্গমাতার এই নিঃশব্দ অনুপ্রেরণাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে এনে দিয়েছিল বিশ্বখ্যাত সেই ভাষণ—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি ক্ষমতার সুউচ্চ শিখরে অবস্থান করেও অতি সাধারণ জীবনযাপন বজায় রেখেছিলেন। তাঁর অকৃত্রিম মমত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং সহিষ্ণুতা তাঁকে পরিণত করেছে সকল বাঙালি নারীর আদর্শ ও অনুপ্রেরণার মূর্ত প্রতীকে।
তাঁর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। বঙ্গমাতার ত্যাগ, সাহস ও নিঃশব্দ অনুপ্রেরণা চিরকাল বাঙালি হৃদয়ে ভাস্বর হয়ে থাকবে।