21/06/2026
আজ খুব বুক ফেটে কান্না আসছে, কাউকে বলার মতো মানুষ নেই
বিয়ের পর থেকে এই আটটা বছর আমি শুধু একটা কথাই জেনে এসেছি—শ্বশুরবাড়িই এখন আমার সব, আর সবার সুখেই আমার সুখ। মাস্টার্স পাস করা সার্টিফিকেটটা আলমারির এক কোণায় বন্দি করে যেদিন এই বাড়ির রান্নাঘরে পা রেখেছিলাম, সেদিন থেকেই নিজের সব ইচ্ছেকে বিসর্জন দিয়েছি। সকাল সাড়ে ৫টায় যখন এলার্ম বাজতো, তখন শরীর যতই খারাপ থাকুক, জ্বর যতই থাকুক—এক মুহূর্তের জন্য বিছানায় শুয়ে থাকার অধিকার আমার ছিল না। শাশুড়ির কড়া কথা, ননদের অবাস্তব সব আবদার, আর শ্বশুরের সেবায় এতটুকু কমতি হলে পুরো বাড়িতে যে অশান্তির ঝড় উঠতো, তা এড়াতে আমি নিজেকে রোবট বানিয়ে ফেলেছিলাম। ভেবেছিলাম, মুখ বুজে সব সহ্য করলে একদিন সবাই আমার ত্যাগটা বুঝবে।
সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল আমার স্বামী। ভাবতাম, বাইরের মানুষগুলো যা-ই করুক, ও তো আমার ভেতরের একাকীত্ব আর ক্লান্তিটা বুঝবে। দিনশেষে ও যখন ঘরে ফিরতো, এক কাপ চা এগিয়ে দিয়ে ওর মুখে একটুখানি তৃপ্তির হাসি দেখার জন্য আমি চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতাম। কিন্তু প্রতিদান হিসেবে পেয়েছি শুধু তীব্র অবহেলা আর এক টুকরো উদাসীনতা। আমার ক্লান্তি, আমার চোখের নিচে জমে থাকা কালচে দাগ—কোনো কিছুই ওর চোখে পড়তো না। একটু গল্প করতে চাইলে, একটু পাশে বসতে চাইলে ও বিরক্ত হয়ে বলতো, 'সারাদিন খাটুনি করে এসে তোমার এই একঘেয়ে প্যানপ্যানানি ভালো লাগে না। ঘুমাতে দাও।'
অথচ আসল সত্যটা কতটা ভয়ানক, তা আমি তিন মাস আগে জানতে পারি।
সেদিন মাঝরাতে ও যখন পাশে ঘুমিয়েছিল, ওর ফোনে বারবার মেসেজের নোটিফিকেশন আসছিল। কৌতূহলবশত ফোনটা হাতে নিতেই আমার পুরো পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা আমার সাথে দুটো ভালো কথা বলার সময় পায় না, সে অন্য একটা মেয়ের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করছে, গভীর আবেগে ডুবে আছে। তাকে লিখছে—'তুমি না থাকলে আমার জীবনটা মরুভূমি হয়ে যেত, ঘরে ফিরলে দম আটকে আসে।'
আপু, বিশ্বাস করেন, স্ক্রিনে ওই লেখাগুলো দেখে আমার বুকটা কেমন যেন খালি হয়ে গেল। আমি রান্নাঘরে গিয়ে মুখ চেপে এত কেঁদেছি, কিন্তু আমার কান্না শোনার মতো কেউ ছিল না। নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা আর করুণা হচ্ছিল। যে মানুষটার জন্য আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, নিজের চেনা জগৎ—সব ছেড়ে এসে এই বাড়ির দাসী হলাম, তার কাছে আমার কোনো মূল্যই নেই! আমি তার সংসারের সব দায়িত্ব পালন করি, তার কাপড় ধুয়ে দিই, তার পছন্দের খাবার রাঁধি, অথচ তার মনের ভেতর অন্য এক নারী রাজত্ব করছে।
এখন প্রতিদিন ওই মানুষটার পাশে ঘুমাতে আমার নিজেরই দম আটকে আসে। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছে আমি এখনো শুধু সকাল-সন্ধ্যা খাটার একটা নিখরচকার মেশিন, আর স্বামীর কাছে একটা ঘরের কোণায় পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। আমাদের মতো নারীদের জীবন কি আসলেই শুধু এই অবহেলা, প্রতারণা আর না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য? আমি এখন কোন পরিচয়ে, কার ভরসায় এই ছাদের নিচে বেঁচে থাকবো, আপু?"
এই সংসার সংসার করে জীবনে কিছুই করলাম না। অথচ আজ আমি হেরে গেলাম এই সংসারের কাছেই ।
"আমি তো রোবট নই, আমারও একটা মন ছিল"
"আপু, আমার গল্পটা একটু আপনার পেজে শেয়ার করবেন? নামটা প্লিজ গোপন রাখবেন। আজ খুব বুক ফেটে কান্না আসছে, কাউকে বলার মতো মানুষ নেই, তাই আপনাকে লিখছি।আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হই। আমি চাই আমার মত এই ভুল যেন কেউ না করে। সংসারের মায়ায় পরে নিজেকে যেন নিঃশেষ করে না দেয়🥲🥲🥲
C...