আসেক মাসেক

আসেক মাসেক ভক্তি বিশ্বাস প্রেম ভালোবাসা না থাকলে কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়

16/11/2024

মৃত্যুর রহস্য কি..???
___________________/
মৃত্যুর কোনো রহস্য-ই নেই।
মৃত্যু শব্দ-টাই মিথ্যা! যা“না” কখনো হয়েছে আর “না” কখনো হবে।
যা আছে “তা” সবসময় থাকবে! শুধু রূপ পরিবর্তন হয়, রূপের পরিবর্তনকে তুমি মৃত্যু মনে করে বসে আছো।

উদারণ স্বরুপ মনে করো, তুমি তোমার এক বন্ধুকে রেল-ষ্টেশনে বিদায় দিতে যাচ্ছো, তাকে গাড়িতে উঠিয়ে সালাম দিয়ে বিদায় জানালে।
গাড়ি ছেড়ে দিলো, তোমার দৃষ্টি থেকে “সে” সরে গেছে, এখন তুমি তাকে দেখতে পারছো না।

এখন কি তুমি মনে করছো যে, সেই ব্যাক্তি মারা গেছে? যেমন তুমি বাচ্চা ছিলে, তুমি যুবক হয়েছো, এখন বাচ্চা কোথায় গেল? বাচ্চা কি মারা গেছে? এখন তো বাচ্চাকে দেখা যাচ্ছে না।
তুমি যুবক ছিলে এখন তুমি বৃদ্ধ হয়ে গেছো, যুবকের কি হলো? যুবক কি মারা গেছে? এখন তো যুবক-কে আর দেখা যাচ্ছে না।
শুধু রূপ পরিবর্তন হয়ে গেছে, বাচ্চাই যুবক হয়ে গেছে। যুবক-ই বৃদ্ধ হয়ে গেছে।
আর কালকে জীবনই মৃত্যুতে পরিবর্তন হয়ে যাবে।

শুধু রূপের পরিবর্তন, দিনে তুমি জেগে ছিলে আর রাতে তুমি ঘুমিয়ে পরবে, দিন আর রাত একই জিনিসের রুপান্তর, যে জেগে ছিলো সেই ঘুমিয়ে পরেছে।
বীজের ভিতর বৃক্ষ লুকিয়ে আছে, জমিতে বীজ বপন কর, বৃক্ষ হয়ে যাবে।
যখন বীজের ভিতর লুকিয়ে ছিল তখন দেখা যায়নি বৃক্ষকে।
ঠিক তেমনি তুমি লুকিয়ে যাও বা বীজের ভিতরে চলে যাও।

আবার কোনো “না” কোনো গর্ভে তোমাকে পরতে হবে, আবার তোমার জম্ম হবে।
আর যদি কোনো গর্ভে না পরো তাহলে মহাজম্ম হবে! কোনো কিছুরই মৃত্যু হয় না, বিজ্ঞান এই কথায় একমত পোষন করেছেন।
বিজ্ঞান বলে কোনো কিছুকে নষ্ট করা যাবে না, রুপান্তর হতে পারে।

অনু ভাঙ্গলে, পরমানু হবে আবার পরমানু ভাঙ্গলে নিউটন-ইলেক্টন হবে, কিন্তু কোনো কিছুই নষ্ট হচ্ছে না। শুধু রূপের পরিবর্তন হচ্ছে, বিজ্ঞান বলে পদার্থ অবিনাষ কারণ বিজ্ঞান পদার্থের খোঁজ করেছে এর জন্য পদার্থ অবিনাষ জেনেছে।

ধর্ম বলে চেতনা অবিনাষ কারণ ধর্ম চেতনার খোঁজ করেছে এর জন্য চেতনা অবিনাষ জেনেছে।
ধর্ম আর বিজ্ঞান এই বিষয় একমত হয়েছে, যা আছে তা অবিনাষ।
মৃত্যু বলতে কিছু নেই তুমি আগেও ছিলে পরেও তুমি-ই থাকবে!

তুমি তো ঘুমিয়ে রয়েছো।
আর যদি তুমি ঘুম থেকে জাগতে পারো তাহলে তুমি সব কিছু দেখতে পারবে।
যা যা তুমি আগে ছিলে সব দেখতে পারবে।
গোতম বৌদ্ধ তার পিছনের জম্মের কতই না কথা বলেছেন, কখন কি কি হয়েছেন, কখনো পশু, কখনো বৃক্ষ,কখনো রাজা, কখনো ভিক্ষারী, কখনো স্ত্রী, কখনো পুরুষ! যে জাগে তার সব কিছু-ই স্বরণ হয়ে যায়।
মৃত্যু তো হয় না, মৃত্যু তো শুধু পর্দাকে নামানো।

তুমি নাটক দেখতে গিয়েছো, নাটক শেষে পর্দাকে নামানো হলো।
তুমি কি মনে করছো সব লোক মারা গিয়েছে, যারা পর্দার পিছনে চলে গিয়েছে? তারা শুধু পর্দার পিছনে চলে গিয়েছে আবার নতুন করে সাজ-গোজ করে আসবে, আবার পর্দায় উঠানো হবে ।

তখন তুমি সবাইকে চিন্তে পারবে না, কারণ যারা একটু আগে অভিনয় করে গেছে, এখন তারা অন্য চরিত্রে অভিনয় করছে।
দুনিয়াতে এটাই হচ্ছে! আর এর জন্য দুনিয়াকে নাটক বা রঙ্গমঞ্চ বলা হয়েছে।
এখানে শুধু রূপের পরিবর্তন হয়!

এখানে রাম ও রাবণ হয়ে যায় “আবার” রাবণ ও রাম হয়ে যায়! তারা শুধু পর্দার পিছনে গিয়ে নতুন রূপে তৈরী হয়ে আসে।
বার বার ফিরে আসে তুমি জিজ্ঞাসা করেছ, মৃত্যুর রহস্য কি ? মৃত্যুর কোনো রহস্য-ই নেই, মৃত্যু শুধুই ধোঁকা।
সব কিছু এমন-ই- ছিল প্রথম থেকেই, আবার তেমনই হয়ে যাবে।
এই দুনিয়া ধ্বংস হয়ে গেলে, আরেক দুনিয়া তৈরি হয়ে যাবে! তুমি এই দেহকে ছাড়বে “আবার” অন্য এক দেহে প্রবেশ করবে।
তুমি অজ্ঞান “কে” ছাড়বে,জ্ঞানে প্রবেশ করবে।
কিন্তু কোন কিছুই নষ্ট হবে না!

সব এখানে অবিনাষ,আর এর জন্য আমি দুঃখিত তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিনা।
কারণ যা নেই তার ব্যাখা আমি কি ভাবে করবো।
যেমন ধর তুমি রাস্তায় চলতে গিয়ে রাস্তায় পরে থাকা দড়িকে ভয়ের কারণে সাপ দেখছো, ভয়ে তুমি দৌড়া-দৌড়ি করতে লাগলে।
তারপর কোন ব্যাক্তির সাথে তোমার দেখা হয়ে গেল, যিনি জানেন “যে” সেটা দড়ি, সে তোমার হাত ধরে বললো ভয় পেয়োনা!

সে তোমাকে দড়ির কাছে নিয়ে গেলো এবং বললো দেখো এটা দড়ি।
এখনও কি তুমি তাকে জিজ্ঞাসা করবে আমাকে সাপের বিষয় বুঝিয়ে বলেন? আমি যে সাপকে দেখেছিলাম সেটা কি ছিল? সেটা তোমার বিভ্রান্ত ছিল, ভয়ে তুমি দড়ির রূপকে সাপের রূপে দেখে ছিলে।
তোমার ভিতরের ভয় তোমাকে বিভ্রান্ত ফেলেছে।
সব বিভ্রান্ত মিলে তুমি স্বপ্ন দেখে ছিলে, সেটা তোমার স্বপ্ন।

ঠিক তেমনি মৃত্যু তোমার স্বপ্ন যা কখনো ঘটে না ! এর জন্যই তোমার বিভ্রান্ত এতই মজবুত, কারণ যে ব্যাক্তি মারা যায়, সে তো বিদায় নিয়ে গেল, একমাত্র সেই জানে মৃত্যু কি, যে মারা গেছে ! তুমি তো মরছো না শুধু বাহিরে দাড়িয়ে দেখছো।

একদা এক ডাক্টার আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল, সে বললো আমি একশত উপরে মৃত্যু দেখেছি।
আমি তাকে বললাম মিথ্যা কথা বলিবেন না, আপনি মৃত্যু হচ্ছে এমন লোক দেখেছেন কিন্তু মৃত্যুকে তো দেখন নাই? কারণ আপনি এখনো জীবিত? আপনি একশত উপরে মৃত্যু হচ্ছে এমন লোক দেখেছেন, মৃত্যু হচ্ছে এমন লোক দেখে কি হবে? আপনি কি দেখেছেন? বাহিরে এইতো দেখেছেন যে তার শ্বাস- প্রশ্বাস কমে আসছে।
এটা কি মৃত্যু?

আমি বললাম- তার ভিতরে কি হয়েছিল, সেটা কি দেখেছেন? তার ভিতরে যে চেতনা ছিলো তার কি হলো? সে কোন দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল?
সে কোনো গর্ভে প্রবেশ করলো? সে কোথায় গেল-কি হলো তার? তার “তো” কোন খবর আপনার কাছে নেই! একমাত্র সেই বলতে পারবে যে ব্যাক্তি মৃত্যু বরণ করেছে আর মৃত ব্যাক্তি কখনো ফিরে আসে না! ডাক্তার চুপ হয়ে গেল!

আর যে ব্যাক্তি ফিরে আসে তাকে কেউ মানে না।
যেমন গোতম বৌদ্ধ বলছেন- আমি ধ্যানে সব কিছু দেখেছি, যা মৃত্যুর সময় দেখা যায়! এর জন্য জ্ঞানী মানুষের কবরকে আমরা সমাধী “বা” মাজার বলি। কেননা তিঁনি জেনে মৃত্যু বরণ করেছেন।

এই জন্য তুমি একটা বিষয় খেয়াল করেছো? হিন্দুদের ভিতর সূফীদের কে পোড়ানো হয় না, সমাধী দেওয়া হয়।
তুমি হয়তবা চিন্তা করে দেখনি, কেন তাদের সমাধী দেওয়া হয়? সাধারণ মানুষকে পোড়ানো হয়, সূফীদের সমাধী বা মাজার হয়।
কেন? কারণ সাধারণ মানুষকে আবার জম্ম নিতে হবে, তার দেহ পোড়ানো হোক এটাই উত্তম! যত তাড়াতাড়ি “দেহ” পুড়বে, ততো তাড়াতাড়ি তার দেহের প্রতি ভালো।

16/11/2024
16/11/2024

প্রেমের গাছে একটি ফল রসে করে টলমল
কত ভ্রমর হয় পাগল।
সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য খাইলে অমর হয় সে সংসারে ।।

সারাংশ:-প্রেমের গাছ বলতে আসলে কি বুঝানো হয়েছে? আসলে রুপক ভাষায় কামেল মুর্শিদই হলেন একজন প্রেম বৃক্ষ বা প্রেমের গাছ।
কারণ আধ্যাত্মিক জগতে ঐশী প্রেম তথা খোদা প্রেম ছাড়া আর কিছুই চান না।
প্রেমের জন্যই সৃষ্টি মানব জাতির,নচেৎ ইবাদতের জন্য ফেরেস্তারাই ছিল যথেষ্ট।

সমগ্র পৃথিবীই প্রেমময়ী তাহাতে সকলেই প্রেম ভিখারী ।তবে তিনি-যিনি আল–ওদুদ (প্রেমময়) যিনি প্রেমে মত্ত হইয়া নিজের সৌন্দর্য দেখাইবার জন্য সমগ্র সৃষ্টির সৃজন করিলেন এবং তাঁহার সৌন্দর্যের প্রশংসাকারী করিবার জন্য মনবের মধ্যে প্রবেশ করিলেন তিনি কি প্রেম ছাড়া আর কিছু চান?
তাই বলা হচ্ছে,প্রেমের গাছে একটি ফল,রসে করে টলমল কত ভ্রমর হয় পাগল।

অর্থাৎ বলা হচ্ছে,মুর্শিদ হলো প্রেম বৃক্ষ বা প্রেমের গাছ তার পবিত্র মুখের জবানে যে,ঐশী বাক্য বা কথা উচ্চারিত হয় হাকিকতে উহাই হলো অজুদ কোরআন/উম্মুল কোরআন/সাবুত কোরআন/নাতেকে কোরাআন/জীবন্ত কোরআন।
এই অজুদ কোরআনই হলো ঐ বৃক্ষের ফল।

এই অজুদ কোরআন যেহেতু জীবন্ত কোরআন তাই তার কোনো মরণ নাই।
এই ফল খাওয়ার জন্য সত্যিকারের আশেক ভক্তরা ভ্রমর হয়ে পাগল হয়ে যায়।
অর্থাৎ আশেক ভক্তরা মুর্শিদের অজুদ কোরআনের বানী শ্রবণ করার জন্য আকুল বা পাগল হয়ে যায়।

আবার বলা হচ্ছে,সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য খাইলে অমর হয় সে সংসারে।
সত্যি আজব কথা সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য আবার কেমন করে খায়?
আসলেই আজব কথা-এই কারণে আজব কথা ঐ ফল শিষ্য যখন ভক্ষন করে তথা গুরু হতে শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করে কামেলিয়াত হাছিল করে তখন শিষ্য গুরুর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বলে নিজেই অজুদ কোরআন হয়ে যায়।
আর এভাবেই শিষ্য যখন নিজে গুরুর পর্যায়ে উন্নিত হয় তখন ভক্ত নিজেই গুরু হয়ে উঠে তার ভক্তের মাঝে অমর হয়ে যায়।

🙏জয়গুরু জয় লালন সাঁইজির জয়🙏

14/11/2024

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আসেক মাসেক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category