19/05/2026
ইউনুস সরকারের পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার ভারত থেকে গরু আমদানি না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাংলাদেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যযুগে বাংলার যে মসলিন কাপড়ের সুখ্যাতির কারণে পুরো ভারতবর্ষ পৃথিবীতে পরিচিত লাভ করত সক্ষম হয়েছিল, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে এসে তাঁত শিল্প ধ্বংস হয়ে গেল।
মূলত ভারতীয় সস্তা কাপড়ের দাপটে টিকতে না পেরে এক সময় বাংলাদেশের তাঁতীরা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
বর্তমান সময়ে আবার বাংলাদেশ আধুনিক বস্ত্র শিল্পে উন্নতি লাভ করলেও ভারতীয় কাপড় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ভারতীয় কাপড়ের ব্যবহার বিগত সময় থেকে অনেক কমে গেছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সচেতন হলে এক সময় ভারতীয় কাপড় আর বিক্রি হবে না, এমন ঘটনাও ঘটতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত যুবক পশুপাখি পালন করে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছে।
গ্রামের অনেক পরিবার বাণিজ্যিক ভাবে গরু ছাগল লালন পালন করে সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করছে।
বিগত সময়ে ভারতীয় গরুর দাপটে বাংলাদেশের গরু বিক্রি করে লাভ করা অনেক কঠিন ছিল।
ইউনুস সরকার ভারতীয় গরু কেনা বন্ধ করার ফলে বাংলাদেশে গরু লালন পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে অনেক বেকার যুবক গরু লালন পালনে মনোযোগী হয়েছেন।
যার ফলে ভারতীয় গরু না কেনার পরেও বাংলাদেশে কোন গরুর সংকট নেই।
অথচ এক সময় ধারণা করা হতো ভারতীয় গরু ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না, ভারতীয় পেঁয়াজ ছাড়া বাংলাদেশে রান্না হবে না, ভারতীয় আলু ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ আলু খেতে পাবে না।
আমাদের মনে রাখতে কোন দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশের সকল প্রকার সক্ষমতার পূণাঙ্গ ব্যবহার করতে হবে।
সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখতে হবে।
তবেই বাংলাদেশ সম্মানের সঙ্গে পৃথিবীর বুকে টিকে থাকবে।
মোঃ হাফিজ
বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক।