12/08/2026
Thank you for your kind words
We really appreciate. 🙏
কানাডার কেবেক বা কুইবেক অঞ্চলের ভাষা ফরাসি। তো, সেখানে Poutine শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ভজঘট পাকানো’ বা গোদা বাংলা ‘বিশৃঙ্খলা’। ধ্রুপদী ফরাসি নয়, কেবেকিয়ান ফরাসি স্লাংয়ে তাই বলে। আর এই শব্দটা কেবেকিয়ান ঠাট্টাচ্ছলে অনেকে বলেন বলে এক জায়গায় পড়েছিলাম। ঘটনা হচ্ছে, এক লোক এক দিন ওয়ারউইক শহরের Le Lutin Qui Rit রেস্তোরাঁয় গিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং চিজ কার্ড একসাথে কাগজে মুড়িয়ে দিতে বলেন। এই দেখে হোটেলটির মালিক ফারনান্দ লাচান্স বলেন, “Ça va faire une maudite poutine!” (এটি একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে!)। এই গল্প কিন্তু ফারনান্দ সাহেবের দাবি।
শুরুতে খাবারটিতে কেবল ওই আলু ভাজা আর চিজ ছিল, কিন্তু তা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যেত। ফারনান্দ এতে গরম গ্রেভি সস যুক্ত করেন, যাতে ফ্রাই ও পনির গরম থাকে।
তবে খাবারটিকে খাদ্যবিশ্লেষকরা গ্রামীণ কাবার হিসেবে বলতে পছন্দ করেন।
এবার আরও একটি গল্প।
১৯৬৪ সালে ড্রামন্ডভিল শহরের Le Roy Jucep রেস্তোরাঁর মালিক জঁ-পল রয় দাবি করেন, তিনিই প্রথম নিজের তৈরি বিশেষ সসের সাথে ফ্রাই এবং চিজ মিশিয়ে পুটিন (ঠিক উচ্চারণে লিখলাম তো?) এটি বিক্রি শুরু করেছিলেন। এই রেস্তোরাঁটি কানাডার ট্রেডমার্ক দপ্তর থেকে পুটিনের অফিসিয়াল উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতিও আদায় করেছিল।
গত শতকের ৮০ ও ৯০ দশকে দশকে ম্যাকডোনাল্ডস, বার্গার কিং ও কেএফসির মতো আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইনগুলো কানাডায় তাদের মেনুতে পুটিন যোগ করে।
কানাডীয় খাদ্যবিষয়ক গবেষক সিলভাঁ শার্লবোয়ার মতে, ওয়ারউইক পুটিনের জন্মস্থান হলেও এর প্রকৃত উদ্ভাবক ড্রামন্ডভিলের জ্যাঁ-পল রয়। কারণ, ১৯৬৪ সালে তার রেস্তোরাঁই প্রথম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিজ কার্ড ও গ্রেভি মিশিয়ে পুটিন বিক্রি করেছিল।
তবে দ্য অক্সফোর্ড কমপানিয়ন টু চিজ-এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে। তাদের মত, পুটিনের উদ্ভাবক কোনো নির্দিষ্ট একজন শেফ নন। বরং রেস্তোরাঁর সেই ক্রেতারাই, যারা নিজেরাই ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সঙ্গে চিজ কার্ড যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ঢাকায় এই জিনিস আমি প্রথম খাই ম্যাড শেফ-এ। প্রথমবার খেয়ে ভালো তো লেগেছিল, শুধু একটা কথা মনে হয়েছিল গ্রেভিটা যদি একটু কম দিতো তাহলে হয়তো ভালো হতো। পরে একবার ফুডপান্ডায় অর্ডার দিয়ে যে পরিমাণ পেয়েছিলাম তাতে আর কোনোদিন অর্ডার দেইনি। এই খাবারটার মূল বিষয়ই হচ্ছে, পেট ভরা। একগাদা আলু ভাজা, চিজ, গ্রেভি, সবটা মিলিয়ে পেট টইটুম্বুর হওয়ার মতো খাবার। এবং অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকবে।
এই দুদিন আগে পুটিনের একটি দেশীয় ভার্সনের সামান্য একটা ফিউশন দেখে বেশ ভালো লাগলো। মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের ব্রো’স দোকানটার দুটি খাবার নিয়ে আগে লিখেছি। সেদিন তাদের “ফ্রাই বিফোর ব্রো’স’’ নামে খাবারটা নিলাম। মূলত পুটিন। তারা এই নাম দিয়েছে। ভালো লাগলো যেটা, সেটা হচ্ছে, পিকেল্ড অনিয়ন। ভিনেগারে চোবানো পেঁয়াজের চিকন করে কাটা ফালি পুটিনের ওপর দিয়েছে তারা। ওটার হালকা ট্যাংগি ফ্লেভারটা ভালো লাগছিল। আর ২৭০ টাকা দামের এই পুটিনটায় গ্রেভি দিয়ে ভরিয়ে দেয়নি। চিজ আরেকটু বাড়তি পেলে মন্দ হতো না।
যদি কোনো রবিবার এই দোকানে যান তবে বেশ ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
এই পুটিন খাবারটা আর কোথায় ভালো করে?
BRO'S Mohammadpur