07/10/2026
❝ পারিবারিক সপ্তাহ ২০২৬
০১–০৭ অক্টোবর | পরিবার হোক ঈমান ও ভালোবাসার কেন্দ্র❞
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
প্রিয় শ্রদ্ধেয় ও স্নেহভাজন কর্মীরা আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
পরিবার হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর জায়গা। একটি সুন্দর পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে সুন্দর মানুষ, আর সুন্দর মানুষ দিয়েই গড়ে ওঠে সুন্দর সমাজ।
একজন মা ও নারী পরিবারের শুধু একজন সদস্য নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরিবারের ভালোবাসার কেন্দ্র এবং ঘরে দ্বীনি পরিবেশ তৈরির অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালনকারী।
এই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ০১ থেকে ০৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘পারিবারিক সপ্তাহ’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসুন, এই সপ্তাহকে আমরা শুধু একটি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং নিজের পরিবারকে নতুন করে সময় দেওয়া, সম্পর্কগুলোকে সুন্দর করা এবং ঘরে ঈমানী পরিবেশ গড়ে তোলার একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
➡️ আমাদের প্রেরণা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> **“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”**
> —সূরা আত-তাহরীম: ৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> **“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”**
> —সহীহ বুখারী: ৫৯৮৪
তাই পরিবারকে দ্বীনের পথে এগিয়ে নেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সুন্দর রাখা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
✅ পারিবারিক সপ্তাহে আমরা কী করতে পারি?
১. পরিবারকে নিয়ে বসি
সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে কুরআন, হাদিস ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করি। বিশেষভাবে সূরা লুকমানের ১৩–১৯ নম্বর আয়াতের শিক্ষা সন্তানদের সঙ্গে ভাগ করে নিই।
২. সালাত ও আমলের পরিবেশ তৈরি করি
পরিবারের সবাইকে সময়মতো সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলে উৎসাহিত করি।
৩. ঘরে তারবিয়াতের পরিবেশ গড়ে তুলি
সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দ্বীনের কথা বলি। সম্ভব হলে পরিবারের সবাই মিলে নৈশ ইবাদত ও দোয়ার আয়োজন করি।
৪. মোবাইল ব্যবহারে সচেতন হই
সন্তানদের অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন আসক্তি থেকে দূরে রেখে বই পড়া, খেলাধুলা, পারিবারিক সময় ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করি।
৫. আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছে দ্বীনের বার্তা পৌঁছে দিই
সাধ্যমতো তাফসীর, হাদিস বা উপকারী ইসলামী বই উপহার দিতে পারি।
৬. অসহায় আত্মীয়ের পাশে দাঁড়াই
কোনো আত্মীয় আর্থিক সংকটে থাকলে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করি এবং প্রয়োজনে কর্জে হাসানা দেওয়ার উদ্যোগ নিই।
৭. অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করি
কারও সঙ্গে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য থাকলে আমরাই আগে এগিয়ে যাই। একটি সালাম, একটি ফোনকল কিংবা আন্তরিক একটি কথাই অনেক দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
৮. মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করি
তাদের সঙ্গে কোমল ও সম্মানজনক আচরণ করি এবং সাধ্যমতো সেবা করি।
৯. উত্তরাধিকার বা মিরাসের অধিকার নিশ্চিত করি
পরিবারে কারও উত্তরাধিকার পাওনা থাকলে তা ন্যায়সঙ্গতভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সচেতন হই।
১০. দ্বীনে উদাসীন স্বজনদের ভালোবাসা দিয়ে কাছে আনি
কঠোরতা নয়—ভালোবাসা, সুন্দর আচরণ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে তাদের দ্বীনের দিকে উৎসাহিত করি।
১১. অসুস্থ ও অভাবী স্বজনদের খোঁজ নিই
একটি ফোনকল, একটি সাক্ষাৎ, সামান্য সহযোগিতা কিংবা আন্তরিক দোয়া—সবই হতে পারে ভালোবাসার প্রকাশ।
১২. পারিবারিক উদ্যোগে সবাইকে সম্পৃক্ত করি
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দর বৈঠক, আলোচনা ও দ্বীনি পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্বশীল বোনদের সহযোগিতা গ্রহণ করি।
💚 আসুন, এই সপ্তাহে একটি অঙ্গীকার করি
আমরা আমাদের ঘরকে শুধু বসবাসের স্থান নয়, ঈমান, ভালোবাসা, আদব ও তারবিয়াতের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব।
সন্তানের সঙ্গে সময় দেব।
মা-বাবার খোঁজ নেব।
আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করব।
ভুল বোঝাবুঝি দূর করব।
ঘরে কুরআনের আলো ছড়াব।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করব।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, পরিবর্তন শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই।
আমাদের একটি সুন্দর উদ্যোগ হয়তো একটি পরিবারকে বদলে দিতে পারে, আর একটি সুন্দর পরিবারই হতে পারে একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি।
আসুন, ০১–০৭ অক্টোবরের পারিবারিক সপ্তাহকে অর্থবহ ও সফল করে তুলি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারগুলোকে ঈমান, ভালোবাসা, শান্তি ও বরকতে পরিপূর্ণ করুন এবং আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।
আমীন
মাওলানা শাহজাহান আলী