02/10/2026
ইসলামে প্রথম বিদয়াত কোনটা ছিল জানেন?
উত্তর হল পেট ভরে খাবার খাওয়া। খাবার আইটেম অনেক বেশি হওয়া।
আম্মাজান হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, " নবী (সা:) এর ইন্তেকালের পর এই উম্মতের মধ্যে প্রথম যে মুসিবত বা পরীক্ষা, অন্য বর্ণনায় বিদআত/নতুন প্রথা দেখা দিয়েছে, তা হলো পেট পুরে খাওয়া। কারণ মানুষের পেট যখন ভরে যায়, তখন তাদের শরীর মোটাতাজা হয়ে যায়। ফলে তাদের অন্তর শক্ত (বা দুর্বল) হয়ে পড়ে এবং তাদের কুপ্রবৃত্তি বা ভোগ বিলাসের চাহিদা চাঙ্গা হয়ে যায়।"
আজকাল মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খাবার। যখন তখন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খাওয়া। আবার কখনো ঘরে বসে ফুড অ্যাপস দিয়ে খাবার অর্ডার করে খাওয়া। বিভিন্ন রকমের রেস্টুরেন্টের স্বাদ নেওয়া। হাজার রকমের খাবার ট্রাই করা।
অথচ প্রিয় নবী সারা জীবন খাবারের জন্য কষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন "
আমি এক বেলা খাব, আরেক বেলা না খেয়ে থাকবো। যে বেলা খাবো শুকরিয়া আদায় করব আর যে বেলা খাব না আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া কান্নাকাটি করব।"
আবার আমরা অনেকেই ডায়েট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে এক সময় আমরা আবার খাওয়া দাওয়া শুরু করে দেই।
কারন আমরা খাওয়া-দাওয়া কম করি সুস্থ থাকতে ওজন কম রাখতে। যখন ওজন কমে না তখন নিরাশ হয়ে প্রচুর খাওয়া-দাওয়া করি।
আসলে কি আমাদের ওজন কমানোর জন্য কম খাওয়া উচিত নাকি নবীর সুন্নতকে অনুসরণ করার জন্য?
আজকাল আমরা অনেকেই কম খেলেও সুন্নতকে মাথায় রেখে কম খাই না। হাদিসে এসেছে,
মানুষের জন্য তার মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট। আর যদি এর চেয়ে বেশি খেতেই হয়, তবে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মুমিন ও অবিশ্বাসীদের খাওয়ার অভ্যাসের মধ্যে একটি সুন্দর তুলনা করেছেন:
"মুমিন ব্যক্তি এক পেটে খায় (অর্থাৎ কম খায়), আর কাফের বা অবিশ্বাসী ব্যক্তি সাত পেটে খায় অর্থাৎ অতিরিক্ত পেট পুরে খায়।"
তৃপ্তির পরেও অতিরিক্ত খাওয়া বা পেটকে অতিরিক্ত ভারী করাকে ইসলামে অপছন্দ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন:
"কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত থাকবে, যারা দুনিয়াতে পেট পুরে বেশি খেত।" কত বড় ভয়াবহ কথা বলেন!
রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের সাধারণ অভ্যাস ছিল তাঁরা ক্ষুধা পুরোপুরি মেটার আগেই হাত ধুয়ে ফেলতেন। একেবারে পেট টানটান হওয়া পর্যন্ত খাওয়া সুন্নতের পরিপন্থী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "একজনের খাবার দুজনের জন্য এবং দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।" এর অর্থ হলো, খাবার ভাগ করে খেলে কম খাবারেও বরকত হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বেঁচে থাকা যায়।
আল্লাহর রাসুল (সা.) এবং তাঁর পরিবার কখনো টানা দুই বা তিন দিন পেট পুরে গমের রুটি বা সাধারণ খাবারও খাননি, বরং অধিকাংশ সময় তাঁরা খেজুর ও পানি খেয়ে থাকতেন। বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খাওয়া, অতিরিক্ত আহারের মাধ্যমে অলসতা তৈরি না করা এবং পেটের একটা বড় অংশ সবসময় ফাঁকা রাখা।
এছাড়াও বুজুর্গরা কম খাওয়া নিয়ে কিছু দামী কথা বলেছেন।
আবু ইয়াজিদ বোস্তামি ( রহঃ) বলেছেন,
"ক্ষুধা একটি মেঘের মত। মানুষ যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন ওই মেঘ অন্তরে হেকমতের বৃষ্টি বর্ষণ করে।"
আবু সুলাইমান দারানি (রহঃ) বলেছেন,
"ক্ষুধার্থ থাকার অভ্যাস পয়দা করো এটি নফসকে অনুগত করে অন্তর নরম করে এর দ্বারা আসমানী এলেম হাসিল হয়। "
বেশি খানা খাওয়ার কারণে আমাদের শরীর, দেমাক, হেকমত সব কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আসেন, কম খানা খাওয়ার এই সুন্নতকে আবার জিন্দা করি।
©