12/12/2025
কয়েক হাজার বছর আগে আমরা পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো লাগার হরমোন ডোপামিন অর্জন করতাম যখন আমরা খাবারের জন্য শিকার করতাম, আশ্রয় বানাতাম, আগুন জ্বালাতাম, কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর পানির উৎস খুঁজে পেতাম। প্রতিটি কাজের ফলাফল পুরস্কারের মত মনে হতো কারন এইসব কাজের পেছনে ছিল সংগ্রাম, ঝুঁকি, আর ধৈর্য।
আমাদের ব্রেইনে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ডোপামিন তৈরি হয়। আপনি যদি সম্পূর্ণ ডোপামিন খুব দ্রুত খরচ করে ফেলেন তাহলে আপনার স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল তৈরি হবে। আজ আমরা বিনা পরিশ্রমেই আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের স্রোত বইয়ে দিচ্ছি। অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, একটানা ফোন স্ক্রলিং, আর পর্ন দেখার মাধ্যমে। এই কাজগুলোতে ডোপামিন ব্রেইনে খুব দ্রুত আসে, কিন্তু বাস্তবে জীবনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে এগুলো পাওয়ার পর আমাদের সারাদিন মেজাজ খারাপ থাকে।
আমাদের প্রাচীন ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ এখন আধুনিক জীবনের এক বিকৃত চক্রে আটকে গেছে। আর আমরা যদি সচেতনভাবে সেটি ভাঙতে না পারি, তবে যে সিস্টেম হাজার বছর ধরে আমাদের টিকিয়ে রেখেছে, সেটিই ধীরে ধীরে আমাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতাকেই ক্ষয় করবে।
A S Taj