26/06/2026
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়ার ঘটনাকে আমি স্বাভাবিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারছি না। আমার কাছে এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
একজন রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের কাজ হলো নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু যখন তাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে পাঠানো হয়, তখন সেটি শুধু প্রতিনিধিত্বের বিষয় থাকে না, বরং সেই দেশের কাছে একটি বিশেষ অবস্থান ও প্রভাবের ইঙ্গিতও বহন করে।
বাংলাদেশ কোনো প্রদেশ নয়, কোনো অধীনস্থ অঞ্চলও নয়। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই বাংলাদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করতে আসা একজন বিদেশি প্রতিনিধিকে এমন উচ্চ রাজনৈতিক মর্যাদা দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এর মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে?
ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের প্রতি সম্মান দেখাতে চায়, তাহলে সেই সম্মান প্রকাশের সবচেয়ে বড় উপায় হলো সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু এই পদক্ষেপ দেখে আমার মনে হয়েছে, এটি বন্ধুত্বের বার্তার চেয়ে রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাবের প্রদর্শন বেশি।
অনেকে এটিকে কেবল প্রোটোকল বলবেন। আমি তা মনে করি না। কূটনীতিতে কিছুই নিছক প্রোটোকল নয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি উদ্দেশ্য থাকে, একটি বার্তা থাকে। আর এই সিদ্ধান্তের বার্তাটি আমার কাছে খুব স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি।
কপিরাইট।