21/04/2026
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের “স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার”।
গতকাল কে ইইউ এর সাথে Partnership and Cooperation Agreement (PCA) নামে একটা চুক্তি হয়েছে।
সহজ করে বললে, ইউরোপ এখন বাংলাদেশকে সিরিয়াস প্লেয়ার হিসেবে ট্রিট করবে।
আমরা তো জানিই, বাংলাদেশ খুব শিগগির LDC স্ট্যাটাস থেকে বের হয়ে যাবে। যদিও ২০২৬ সালে বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিল... কিন্তু সরকার নানা দৌড়ঝাঁপ করে ২০৩০ পর্যন্ত সময়ের কথা বার্তা হয়েছে।
কিন্ত যতটুকু জানি এটা এখনও ঝুলে রয়েছে।
যায়হোক ইউরোপে এতদিন যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতাম, LDC স্ট্যাটাস থেকে বের হওয়ার পর শুল্ক মুক্ত সুভিদা হারানোর ঝুঁকি ছিল ।
কিন্ত আপাতত এটা আর হচ্ছে না, যেহেতু PCA হয়েছে এবং গর্বের বিষয় হল একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশই এটা করতে পেরেছে।
LDC স্ট্যাটাস হারালে আমাদের এক্সপোর্ট সেক্টর, বিশেষ করে গার্মেন্টস, বড় চাপের মধ্যে পড়তো।
এই PCA চুক্তিটা সেই জায়গায় দরজা খুলে দিয়েছে।
GSP+ নামে একটা সুবিধা আছে, কিছু শর্ত পূরণ করতে পারলে LDC থেকে বের হওয়ার পরও শুল্ক সুবিধা পাওয়া যায়।
এই চুক্তির মাধ্যমে সেই পথটা ক্লিয়ার হলো।
হিসাব করলে বছরে ২.৫ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো বেনিফিট আসতে পারে।
এই পরিমাণটা মজা না।
আরেকটা বড় দিক—ইউরোপে আমাদের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট আছে।১০-১২% ট্যারিফ বসে গেলে যে ধাক্কা খেতাম, সেটাও অনেকটা এড়ানো সম্ভব হবে।
এখানেই শেষ না।
এই চুক্তি শুধু ট্রেড না, স্ট্র্যাটেজিক লেভেলেরও।
মানে সামনে ডিফেন্স, টেকনোলজি, আরও বড় লেভেলের কো-অপারেশন বাড়ার সুযোগ তৈরি হলো।
আর যেটা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং—গ্রিন এনার্জি।
ইউরোপের Global Gateway নামে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটা ফান্ড আছে।এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ সরাসরি ওই ফান্ড থেকে বিনিয়োগ টানার সুযোগ পাচ্ছে।
সরকার যেই সোলার প্রজেক্টগুলোর কথা বলছে, ওইগুলোর বড় অংশের টাকা এখান থেকে আনার সুযোগ আছে।
যদি ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে তেল-গ্যাসের ওপর চাপ কমবে, বিদ্যুৎ খাত আরও স্টেবল হবে।
এই লোডশেডিং সংকটটা ভবিষ্যতে অনেকটাই কমে আসতে পারে।
আরেকটা সম্ভাবনা—
আমাদের স্পেশাল ইকনোমিক জোন আর হাই-টেক পার্কগুলোতে যদি ইউরোপের বড় কোম্পানিগুলো আসে, তাহলে বছরে ১-২ বিলিয়ন ডলারের মতো নতুন FDI আসা অসম্ভব কিছু না।
সব মিলিয়ে, এই একটা চুক্তির ইমপ্যাক্ট আগামী ১০ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওপর চলে যেতে পারে—এমন হিসাবও আছে।
ধন্যবাদ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইন বিডিকে।
সংগৃহীত