04/09/2026
মাঝে মাঝে খুব মন খারাপের দিন যায়। অকারণেই,শুভ্র নীলাকাশের দিকে তাকিয়েও অপসৃয়মান বর্ষার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের জন্য মন হা হাহুতাশ করে।সেরকম অলস দিনে,আড়মোড়া ভেঙে ঘুম থেকে উঠেও বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে থাকি।বেলা গড়িয়ে দুপুর যায়,মোবাইল স্ক্রিণে স্ক্রল করতে করতে একটা পডকাস্টে দেখি,একজন সেলিব্রিটির তার মা বাবাকে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন। আমারও মনে পড়ে,আমরা যত বড়ই হই না কেন,আমাদের বাবা মা সহজ সাধারণই থাকেন,পৃথিবীর সকল বাবা মায়েরা বোধহয় একই রকম।নানা কারণে বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকা হয়না।এবারও ফেরার পথে বাবার অভিমান, মা ছুটোছুটি করে ফ্রিজ থেকে লুকিয়ে আমার পছন্দের নানা জিনিস বের করে পোটলা বাঁধে।শুণ্য হাতে গেছিলাম, ফিরি অনেক গুলো ভারি জিনিস হাতে করে, তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারি ওই মায়াগুলো, যেগুলো সাথে করে বয়ে নিয়ে আসি,অবহ লাগে।আজ রসুইঘরের উনুন জ্বালতে গিয়ে ভাবি,বিশাল সংসারে সবার রান্না বান্না করতে গিয়ে আমার মাছ না খাবার বায়নাক্কা মেটাতে গিয়ে কতকিছু করতেন মা,যাতে মাছটা মুখে দিই অন্তত:।সেই আমি একলার সংসারে মাছ কিনি,মাছের ঝোল খাই।কারণ চাইলেই কাউকে এসব নিয়ে জ্বালানো যায় না।আমার বায়না করার মানুষগুলো আর কাছে নেই,,
মন খারাপ এর দিনে তাই সাধাসিধে আয়োজন করি,,লইট্যা মাছের ভর্তা,সাথে বরবটি দিয়ে চিংড়ি ভুনা। লাল চালের ভাত, খেতে বিস্বাদ লাগে,তবু ভালো থাকার জন্য খাই আর ভাবি,,সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে আমার তরুণী মায়ের কোলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে মুখ গুঁজে এসব না খাবার বায়না করতে পারতাম,এক লাফে যদি সেই অবাধ্য কিশোরীবেলা ফিরে পেতাম,,
আহা রে,,