08/03/2026
"সুপেয় পানির যু'দ্ধটা" টের পাইছেন?
ইরানের হরমুজ প্রণালীর দ্বীপের মানুষের বিশুদ্ধ পানির উৎস একটাই।
আর ঐখানের 'পানি শোধনাগারে' টার্গেট করে সন্ত্রা'সী রাষ্ট্রটা হামলা করছে।
এখন কি হবে? মানুষগুলো সুপেয় পানির অভাবে ছটফট করবে! ঐখানে মহামারী দেখা দিবে!
পুরো মধ্যপ্রাচ্যের একই অবস্থা! এখন যদি ইরান ইস*রায়েলের পানি শোধনাগারে হামলা করে ধ্বং'স করে দেয় তাহলে ৭০-৮০% ই*রায়েলি পানির অভাবে ছটফট করবে!
আর যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টার্গেট করে পুরো আরব বিশ্বে ডিজাস্টার লেগে যাবে। মানুষ পানির অভাবে হাহাকার করবে।
এদিকে আমাদের দেশে সুপেয় পানি সৃষ্টিকর্তা কৃত্তিমভাবে দিলো! তাও সীমিত।
কিন্তু আমরা এই পানিটারে সহজে পাইয়া অবমূল্যায়ন করে দিন দিন পানির উৎসকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।
আমরা কতোটা মাথামোটা নির্বোধ জাতি জানেন?
ঐ গুরুত্বপূর্ণ পানিটা পশ্চিমাদের পোষাক বানাতে গিয়া নষ্ট করছি।
"গার্মেন্টসের সামান্য জিএসপি সুবিধার বিনিময়ে পুরো দেশের ভবিষ্যত নষ্ট করছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো।
মানে কাপড় ধোয়া, রং করা এবং ওয়াশিং প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ পানি লাগে।
১ কেজি ডেনিম কাপড় প্রক্রিয়াজাত করতে প্রায় ১৫০–২০০ লিটার পানি লাগে, কখনো কখনো ২৫০ লিটার পর্যন্তও লাগে।
ফলে গার্মেন্টস শিল্প বছরে প্রায় ১৫০০ বিলিয়ন লিটার ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে।
এটা এমন এক পরিমাণ পানি, যা ঢাকার কোটি মানুষের মাসের পর মাসের পানির সমান।
শিল্পাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে বলে গবেষকরা বার বার সতর্ক করছে।
এখানেই শেষ না ,যে পানি দিয়ে বিদেশিদের জন্য ফ্যাশনের জিন্স ধোয়া হয়, সেই পানি আবার রং-রাসায়নিক মিশে নদীতে ফিরে আসে।
অনেক জায়গায় বর্জ্য পরিশোধন ঠিকমতো না হওয়ায় ভারী ধাতু ও রাসায়নিক নদী-খালে ,ফসলি জমিতে চলে যায়।
ঢাকার শিল্প এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য পানি নদীতে পড়ছে—যার বড় অংশ আসে ওয়াশিং ও ডাইং কারখানা থেকে।
অর্থাৎ যে নদী একসময় কৃষকের জমিতে সেচ দিত, এখন সেই নদীই কারখানার রঙিন রাসায়নিক বহন করে।
খাল- বিলের মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। ন্যাচারাল মাছ ধ্বংস করে বঙ্গুরা ক্ষতিকর খাদ্য খাইয়ে বড় করা চাষের মাছ খায়।
শুধু মাছ না! বেগুনে অতিরিক্ত মাত্রার ভারি মেটাল পাওয়া যাচ্ছে! সবজিতে পাওয়া যাচ্ছে! ফ্রেশ খাবারটা দুষিত হচ্ছে কেমিক্যালে!
আর এত দূষণের পর এদেশে এখন ঘরে ঘরে ক্যান্সারসহ এই রোগ সেই রোগে ভোগছে!"
এই বাস্তবতায় “উন্নয়ন” শব্দটি এক অদ্ভুত নাটকীয় চরিত্র হয়ে দাঁড়ায়।
একদিকে কৃষকের ছেলে শহরে এসে সেলাই মেশিন চালায়, অন্যদিকে সেই কারখানার জন্য গ্রামের পানির স্তর নিচে নামে, নদী দূষিত হয়, মাছ কমে যায়।
অথচ মাত্র ৫০ লাখ গার্মেন্টসকর্মী কৃষকের ছেলে -মেয়েরা ৮-১০ হাজার টাকার চাকরির জন্য ৪ কোটি কৃষক আর ১৮ কোটি মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলছে।
দেশের ২-৩% এলিটরা উন্নয়নের নামে টাকার পাহাড় বানাচ্ছে ,বিদেশী মুদ্রার নামে বিদেশীদের সুবিধা দিচ্ছে আর এদেশের ৪০% কৃষক মারা খাচ্ছে! ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে!
এদেশের মানুষ বিষ খাচ্ছে বিষ! ফলে,সবজিতে,মাছে,চালে,মাংসে কোথাও বাদ নাই।
প্ল্যানহীন ,ফিউচারহীন দেশে আধুনিকতা আর উন্নয়ন বড় অদ্ভুত সমীকরণ!!!