28/01/2026
অধ্যায় ১: আগমন
আমান শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে নির্জন এক গ্রামে আসে।
ব্যবসায় ক্ষতি, মানুষের অবিশ্বাস—সবকিছু তাকে ভেঙে দিয়েছে।
সে ভাড়া নেয় পুরনো এক বাড়ি।
বাড়িটা বড়, কিন্তু অস্বাভাবিক নীরব।
দেয়ালে ফাটল, জানালায় ধুলো।
প্রথম দিনেই সে অনুভব করে,
বাড়িটা যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
রাতে ঘুম আসে না।
ঘড়ির টিকটিক শব্দ খুব জোরে শোনা যায়।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।
অন্ধকারে সে নিজের শ্বাসের শব্দ শুনতে পায়।
এক মুহূর্তে মনে হয়,
এই বাড়িতে সে একা নয়।
ভয়কে যুক্তি দিয়ে চাপা দেয় সে।
কিন্তু ভয়টা থেকেই যায়।
অধ্যায় ২: উপরের তলা
রাত বারোটা।
উপরের তলা থেকে শব্দ আসে।
কেউ যেন হাঁটছে।
কিন্তু সিঁড়িটা ভাঙা—এটা আমান জানে।
সে টর্চ জ্বালায়।
ধুলোর ওপর পায়ের ছাপ দেখে।
ছাপগুলো নতুন।
আর ভয়ংকরভাবে পরিচিত।
তার জুতার সাইজের।
হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
সে নিজেকে বোঝায়—ভ্রান্তি।
তবু পা দুটো কাঁপে।
উপরের দিকে তাকিয়ে ডাকে,
“কে আছে?”
কোনো উত্তর আসে না।
অধ্যায় ৩: আয়না
বাথরুমের পুরনো আয়নাটায় চোখ পড়ে আমানের।
সে মুখ ধোয়ার সময় টের পায়,
প্রতিচ্ছবিটা দেরিতে নড়ছে।
এক সেকেন্ডের দেরি।
সে আবার নড়ে।
আয়নার মানুষটা তাকিয়ে থাকে।
চোখে কোনো আবেগ নেই।
আমান হেসে দেখে।
আয়না হাসে না।
ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় শরীরে।
সে আয়না ঢেকে দেয় কাপড় দিয়ে।
মনে হয়, সমস্যা তার মাথায়।
কিন্তু রাতভর
আয়নার দিক থেকে
ফিসফিস শব্দ আসে।
অধ্যায় ৪: প্রথম বার্তা
সকালে আয়নার কাপড় সরাতেই
কাঁচে লেখা দেখা যায়।
আঙুলের আঁচড়ে লেখা—
“আমাকে কেন ফেলে গেছিস?”
আমান হতভম্ব।
কাঁচে হাত দেয়।
লেখা মিলিয়ে যায়।
তার মাথা ঝিমঝিম করে।
সে নিজের অতীত ভাবতে চায়।
কিন্তু স্মৃতিতে ফাঁক।
কিছু একটা নেই।
বাড়িটা যেন সেই ফাঁকটাই জানে।
আমান প্রথমবার ভাবে,
এটা কেবল বাড়ি নয়।
এটা তার বিচারক।
অধ্যায় ৫: গ্রামবাসী
গ্রামের চায়ের দোকানে আমান বসে।
বৃদ্ধ দোকানদার তাকে চিনে ফেলে।
“ওই বাড়িতে উঠেছ?”
আমান মাথা নাড়ে।
লোকটার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
সে বলে,
“ওখানে মানুষ হারায়।”
“মরে?”
“না… নিজের ভেতরে আটকে যায়।”
আমান হাসতে চায়।
কিন্তু হাসি আসে না।
আরেকজন ফিসফিস করে বলে,
“বাড়িটা আয়না ভালোবাসে।”
আমান দ্রুত চলে আসে।
পেছনে তাকিয়ে দেখে—
সবাই তার দিকে তাকিয়ে।
অধ্যায় ৬: ডায়েরি
বাড়ির স্টোররুমে
একটা পুরনো ডায়েরি পায় আমান।
ধুলোমাখা, পাতাগুলো হলুদ।
নাম লেখা— আমান।
হাতের লেখা তার নিজের মতো।
তারিখ দশ বছর আগের।
সে পড়ে—
“আজ আবার আয়নাটা কথা বলল।”
আ