01/03/2026
#সৈকত_নিশি
✍️ লেখক: T.C Bhai
নিশির জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জায়গাটা ছিল তাদের ছোট্ট শহরের এক কোচিং সেন্টার। সেখানেই প্রথম দেখেছিল সে
Sykat Roy–কে।
স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, পাশাপাশি কোচিংয়ে ইংরেজি আর সাহিত্য পড়াতেন। বয়সে খুব বেশি বড় নন, কিন্তু ব্যক্তিত্বে যেন অনেক দূরের মানুষ। ক্লাসে ঢুকেই বলতেন,
“স্বপ্ন বড় রাখবে। ছোট শহরে জন্ম মানেই ছোট স্বপ্ন না।”
নিশি সেদিন প্রথম বুঝেছিল—শুধু বই নয়, মানুষও পড়ানো যায়।
আর সেই মানুষটাই হয়ে উঠলেন তার পৃথিবী।
Nishi Islam ছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। শান্ত, চুপচাপ। বাসা থেকে কোচিং, কোচিং থেকে বাসা—এই ছিল তার জীবন। কিন্তু কোচিং শুরু হওয়ার পর তার দিনগুলোর মানে বদলে গেল।
প্রথম কয়েকদিন সে শুধু স্যারকে শ্রদ্ধা করত।
স্যার যখন বোর্ডে লিখতেন, তাঁর হাতের শিরাগুলো দেখা যেত।
যখন হাসতেন, চোখের কোণে ছোট ভাঁজ পড়ত।
যখন রাগ করতেন, কণ্ঠ শক্ত হয়ে যেত—তবুও অদ্ভুত মায়া থাকত।
নিশি জানত না কখন শ্রদ্ধাটা অন্য কিছুর রূপ নিল।
একদিন স্যার তাকে দাঁড় করিয়ে বললেন,
“নিশি, তুমি খুব ভালো লেখো। চালিয়ে যাও।”
এই ছোট্ট প্রশংসা তার বুকের ভেতর ঝড় তুলেছিল।
সেই রাতেই ডায়েরিতে লিখেছিল—
“আজ স্যার আমার নামটা আলাদা করে বললেন।”
ভালোবাসা কখনও হুট করে আসে না।
ধীরে ধীরে, অজান্তে, অস্বীকার করতে না পারার মতো করে আসে।
নিশি প্রতিদিন কোচিংয়ে যেত স্যারের এক ঝলক দেখার জন্য।
স্যার অসুস্থ হলে সে সারা রাত ঘুমাতে পারত না।
স্যার অন্য কোনো মেয়ের খাতা বেশি সময় ধরে দেখলে তার বুক হাহাকার করত।
কিন্তু সে জানত—
এই ভালোবাসা বলা যাবে না।
কারণ তিনি তার শিক্ষক।
তার সম্মান।
তার স্বপ্নের পথপ্রদর্শক।
একদিন কোচিং শেষে বৃষ্টি নামল। সবাই চলে গেল।
নিশি ছাতা আনেনি।
স্যার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,
“এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে তো ভিজে যাবে। চলো, আমি রিকশা ঠিক করে দিচ্ছি।”
রিকশায় ওঠার আগে স্যার বললেন,
“পড়াশোনায় মন দিও। জীবনটা অনেক বড়।”
সেই ‘জীবনটা অনেক বড়’ কথাটা নিশির কাছে হয়ে গেল সবচেয়ে ছোট বাক্য।
কারণ তার জীবন তো শুধু এক মানুষকে ঘিরেই।
কয়েক মাস পর কোচিংয়ে খবর এল—
স্যার বিদেশে স্কলারশিপ পেয়েছেন। কয়েক মাসের মধ্যেই চলে যাবেন।
সবাই খুশি। গর্বিত।
নিশিও হাসল।
কিন্তু বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ করে প্রথমবার ভেঙে পড়ল।
সে বুঝল—
এটা শুধু দূরত্ব না, এটা চিরবিদায়।
শেষ ক্লাসের দিন স্যার বললেন,
“তোমরা সবাই ভালো থেকো। বড় কিছু করো। আমার থেকে বড়।”
নিশির মনে হচ্ছিল, চিৎকার করে বলুক—
“স্যার, আমি আপনাকে ভালোবাসি।”
কিন্তু সে শুধু বলল,
“ভালো থাকবেন।”
স্যার হয়তো কখনও বুঝতেই পারেননি—
একজন ছাত্রী নীরবে তাঁর জন্য পৃথিবীর সব স্বপ্ন ত্যাগ করতে রাজি ছিল।
(শেষের ভয়ংকর কষ্ট)
স্যার চলে যাওয়ার এক মাস পর নিশি বদলে যেতে শুরু করল।
খাওয়া কমে গেল। কথা বলা কমে গেল।
রাতে ঘুম আসত না। ফোনে স্যারের পুরনো নোট, পুরনো মেসেজ, পুরনো ক্লাসের অডিও শুনত।
এক রাতে সে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—
“আপনি তো বলেছিলেন জীবনটা বড়… কিন্তু আমারটা তো এখানেই শেষ।”
পরদিন সকালে তার মা দরজা খুলে দেখলেন—
নিশি বিছানায় নিশ্চুপ।
পাশে একটা চিঠি।
চিঠিতে লেখা—
“স্যার, আমি কখনও আপনার জীবনে অসম্মান হতে চাইনি। তাই কিছু বলিনি। শুধু চেয়েছি আপনি সুখে থাকুন। আমার ভালোবাসা যদি পাপ হয়, তাহলে এই পাপ নিয়ে আমি চলে গেলাম।”
কয়েক সপ্তাহ পর বিদেশে বসে
Sykat Roy খবরটা পেলেন।
তিনি স্তব্ধ।
বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
নিশির বাড়ি থেকে তার লেখা চিঠির কপি পাঠানো হয়েছিল।
চিঠির শেষ লাইনে লেখা ছিল—
“আপনি জানবেন না, তবুও আপনি ছিলেন আমার পুরো পৃথিবী।”
সেদিন প্রথমবার স্যার কেঁদেছিলেন।
নিজের অজান্তে কারও জীবন হয়ে ওঠার অপরাধবোধে।
শেষ দৃশ্য
বহু বছর পরও স্যার যখন নতুন ছাত্রছাত্রীদের পড়ান, তিনি মাঝে মাঝে থেমে যান।
কারও চোখে যদি অতিরিক্ত নীরবতা দেখেন, তিনি জিজ্ঞেস করেন—
“সব ঠিক তো?”
কারণ তিনি জানেন—
নীরব ভালোবাসা সবচেয়ে ভয়ংকর।
নিশি চেয়েছিল স্যার সুখে থাকুক।
কিন্তু তার চলে যাওয়া স্যারের জীবনে এমন এক ক্ষত তৈরি করল,
যেটা সময়ও সারাতে পারল না।
ভালোবাসা কখনও কখনও সুন্দর নয়—
কখনও কখনও তা নিঃশব্দ মৃত্যু।
সৈকত নিশি One Sided Love
✍️ লেখক: T.C Bhai
© Copyright 2026 by T.C Bhai
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
এই গ্রন্থের কোনো অংশ লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকারে — ইলেকট্রনিক, মুদ্রিত, ফটোকপি, রেকর্ডিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে — পুনঃপ্রকাশ, সংরক্ষণ বা প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই উপন্যাস সম্পূর্ণরূপে মৌলিক ও কল্পনাপ্রসূত। বাস্তব ব্যক্তি, স্থান বা ঘটনার সাথে কোনো মিল কাকতালীয়।
প্রথম প্রকাশ: ২০২৬
ভাষা: বাংলা
ধরন: রোমান্টিক / আবেগঘন ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রকাশনা ও স্বত্বাধিকার:
T.C Bhai & TOXIC PAGE https://www.facebook.com/share/1DxkREAfkC/