14/08/2026
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীঃ
একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন।
----- জাহিদ আল রাজী।
"নিশ্চয়ই ইসলাম' আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন (জীবন বিধান)। পার্থিব জীবন পরিচালনার একমাত্র মডিউল।" ( সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ১৯)
" তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো, এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।" (সূরাঃ আশ শূ'রা, আয়াতঃ ১৩)
" তিনি সেই সত্তা (আল্লাহ), যিনি তাঁর রাসূলকে (সঃ) হিদায়ত ও আনুগত্যের একমাত্র সত্য বিধান ( দ্বীনে হক) সহকারে পাঠিয়েছেন। যদিও মুশরিকদের তা পছন্দ নয়। যেন (রাসূল সঃ) তাকে (ঐ বিধান কে) অন্য সকল বিধানের উপর বিজয়ী করেন।" (সূরাঃ আস সফ,আয়াতঃ৯)
রাসূল (সঃ) আল্লাহ তা'আলার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেই এই দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, আইন,শাসন, বিচার, ব্যবসা- বানিজ্য ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই তিনি আল্লাহ তাআ'লার বিধানকে চালু করে প্রমাণ করেছেন যে, ইসলাম ই দুনিয়ার জীবনে শান্তির এক মাত্র উপায়। তাই ইসলাম কায়েমের অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সাহাবায়ে কেরামগণও রাসূলের (সঃ) সাথে এ দায়িত্ব ই পালন করেছেন। মুসলিম হিসাবে আমাদের সকলের ই এ দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করা অবশ্য কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারনে সঠিক ইসলাম থেকে মানুষ বঞ্চিত হলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন কিছুতেই সম্ভব হবে না।
'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ' বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দল।
জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য -উদ্দেশ্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন সৎ লোকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে (দ্বীনে হক) সত্য -সঠিক আল্লাহ মনোনীত জীবন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তি অর্জন করা।
ইকামাতে দ্বীন, তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় রাষ্ট্র ক্ষমতা। রাষ্ট্র ক্ষমতা ছাড়া কোনো আইন কার্যকর করা সম্ভব নয়, তাই 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ' রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে।
গবেষক, দার্শনিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক উস্তায সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মাওদূদী (রহঃ) কর্তৃক ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের ভারত অংশে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাজনৈতিক ও ডানপন্থী মুসলিম জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নাম ই 'জামায়াতে ইসলামী '।
১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত 'মুসলিম ব্রাদারহুড'- এর পাশাপাশি ' জামায়াতে ইসলামী' ছিল বিশ্বের মূল ও প্রভাবশালী ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইসলামের আধুনিক বিপ্লবী ধারণার ওপর ভিত্তি করে একটি মতাদর্শ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি প্রথম দিকের সংগঠন।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর এই দলটি ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে 'জামায়াতে ইসলামী হিন্দ' এবং 'জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ' নামে পৃথক দুটি স্বাধীন সংগঠনে বিভক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭৯ সালের মে মাসে 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ' গঠিত হয়। পরবর্তীতে এক সংশোধনীর মাধ্যমে, ০৪/১১/২০০৮ ইং তারিখ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন লাভ করে এবং 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ' নাম ধারণ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ' ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ময়দানে কাজ শুরু করে। সূচনালগ্ন থেকে জামায়াতে ইসলামী মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালীন মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সঃ প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনায় দক্ষ ও সৎ লোক তৈরির কাজ চলমান রেখেছে।
আভ্যন্তরীন শান্তি- শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ ও বহিঃশক্তির হুমকি ও আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য সুসংহতকরণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি সহ ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করে চলছে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী '।
'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী' বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বন্ধন শক্তিশালীকরণ ও পারস্পরিক মর্যাদা এবং ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য, সৃষ্টি যার, আইন চলবে তার। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন মুক্তি লাভ কর।
জামায়াতে ইসলামী' প্রচলিত অর্থে শুধু মাত্র ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়। ইসলামে ধর্মীয় জীবনের গুরুত্ব আছে বলেই জামায়াত ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া ইসলামি আইন চালু করা সম্ভব নয় বলেই জামায়াত রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করে। সমাজ সেবা ও সামাজিক সংশোধনের কঠিন তাগিদ ইসলাম দিয়েছে বলেই জামায়াত সমাজ সেবা ও সামাজ সংস্কারে মনোযোগ দেয়। এ অর্থে ই 'জামায়াতে ইসলামী একটি পূর্নাঙ্গ ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলন।