18/01/2026
শেষ বিকেলের চা
সারাদিন এক মুহূর্ত দম ফেলার সময় পাইনি। অফিসের কাজ, ঘর গোছানো, আর শেষবেলায় রান্নার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে আমি তখন বেশ ক্লান্ত। বাইরে আকাশটা একটু মেঘলা হয়ে আছে, কেমন একটা মন খারাপ করা আলো জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকছে।
ঠিক তখনই দরজার বেলটা বেজে উঠল। অয়ন ফিরেছে। আমি জানতাম ও আজ বেশ ক্লান্ত হয়ে ফিরবে, কারণ ওর প্রজেক্টের আজ ডেডলাইন ছিল। দরজা খুলতেই দেখলাম ওর কাঁধের ব্যাগটা ঝুলে আছে, মুখটা শুকনো।
"খুব ধকল গেছে আজ?" আমি ওর ব্যাগটা নিতে নিতে জিজ্ঞেস করলাম।
ও শুধু একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় ধপাস করে বসে পড়ল। কোনো উত্তর দিল না। আমি জানি, এই সময় কথা বলার চেয়ে এক কাপ কড়া চা আর একটু নীরবতা ওর বেশি প্রয়োজন।
আমি রান্নাঘরে গিয়ে আদা দিয়ে দুটো স্পেশাল চা বানালাম। ওর প্রিয় বিস্কুটগুলো প্লেটে সাজিয়ে বারান্দায় নিয়ে গেলাম। ও তখনও সোফায় চোখ বন্ধ করে পড়ে ছিল। আমি ওর হাতটা ধরে আলতো করে ডাকলাম, "চলো, বারান্দায় চলো। আকাশটা খুব সুন্দর লাগছে।"
ও আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। ওই হাসিটুকুই আমার সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বারান্দায় আমরা পাশাপাশি বসলাম। নিচে শহরের চেনা শোরগোল, কিন্তু আমাদের এই ছোট কোণটুকুতে অদ্ভুত এক শান্তি।
ও চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল, "জানো রিয়া, সারাদিন শুধু এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করি। এই এক কাপ চা আর তোমার সাথে একটু বসা।"
আমি ওর কাঁধে মাথা রাখলাম। কোনো দামী উপহার বা বড় কোনো সারপ্রাইজ নয়, জীবনের এই ছোট ছোট ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলোই আসলে আমাদের আগলে রাখে। সংসারের সব ঝগড়া, মান-অভিমান এই এক কাপ চায়ের ধোঁয়ায় যেন মিলিয়ে গেল।
বাইরে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। আমি মনে মনে ভাবলাম, ভালোবাসা মানে হয়তো খুব বড় কিছু নয়; ভালোবাসা মানে দিনশেষে একজনের ভরসার জায়গা হওয়া।
আপনার কি এই ধরণের রোমান্টিক গল্প পছন্দ, নাকি অন্য কোনো বিষয়ের ওপর (যেমন- হাস্যরসাত্মক বা বিরহী) গল্প লিখে দেব?