19/04/2026
বাংলাদেশে হাঁস পালন
বাংলাদেশে হাঁস পালন খুবই জনপ্রিয় — দেশের মোট পোল্ট্রির প্রায় ১৫-২০% ই হাঁস। নদী, খাল, বিল, হাওর আর ধানক্ষেতের কারণে এখানকার আবহাওয়া হাঁসের জন্য একদম পারফেক্ট। অনেক কৃষক ধানের সাথে হাঁস পালন করেন কারণ হাঁস মাঠের শামুক, পোকামাকড় আর ঝরে পড়া ধান খেয়ে ফেলে।
হাঁস পালনের সুবিধা:
- পানি সহজলভ্য: হাঁসের জন্য পুকুর, ডোবা বা খাল হলেই চলে। সারাদিন সাঁতার কাটা লাগে না, মাথা ডুবিয়ে পরিষ্কার করতে পারলেই হয়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মুরগির চেয়ে হাঁস কম অসুস্থ হয়।
- দুই দিক থেকে আয়: ডিম + মাংস দুটোই পাওয়া যায়, সাথে ধানক্ষেতে পোকা দমনের কাজও করে।
জনপ্রিয় জাত:
1. খাকি ক্যাম্পবেল – সবচেয়ে ভালো ডিম দেয়, বছরে ২৫০-৩০০টা। বাণিজ্যিক খামারের জন্য #১ পছন্দ।
2. ইন্ডিয়ান রানার – ডিম দেয় বছরে ২০০-২৫০টা। সোজা হয়ে হাঁটে, মাঠে ছেড়ে পালনের জন্য ভালো।
3. জিন্ডিং – চীনা জাত, আমাদের দেশে মানিয়ে গেছে। বছরে ২০০+ ডিম।
4. দেশি হাঁস – আকারে ছোট, ডিম কম ∼৮০-১০০টা, কিন্তু খুব কষ্টসহিষ্ণু আর খরচ কম।
5. পিকিন – মাংসের জন্য বিখ্যাত, ৭-৮ সপ্তাহেই বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়।
ছোট খামারের বেসিক সেটআপ:
- ঘর: পানির কাছে বাঁশ ও ছনের সাধারণ ঘর। প্রতি হাঁসের জন্য ৩-৪ বর্গফুট জায়গা। বর্ষায় বন্যা থেকে বাঁচতে মাচা করে বানানো ভালো।
- পানি: পুকুর বা ছোট ডোবা থাকলেই চলবে।
- খাবার: ছেড়ে পাললে ৫০-৬০% খাবার নিজেরাই জোগাড় করে। সাথে কুঁড়া, খুদ, গমের ভুসি, শামুক, ক্ষুদেপানা দিতে হয়। বেশি ডিম চাইলে লেয়ার ফিড দিতে হবে।
- স্বাস্থ্য: ডাক প্লেগ ও ডাক কলেরা প্রধান রোগ। বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর টিকা দেয়। ঘর শুকনা ও পরিষ্কার রাখতে হবে।
- বাজার: হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে দামে বেশি বিক্রি হয়। শীতকাল ও বিয়ের মৌসুমে মাংসের চাহিদা বাড়ে।