31/07/2026
প্রাচীনকালের হিন্দু সমাজের কুসংস্কার গুলোর মধ্যে অন্যতম কুসংস্কার সতীদাহ প্রথা। সতীদাহ এর মূল কথা হচ্ছে ,কোন স্ত্রী লোকের স্বামী মারা গেলে স্বামীর সাথে একই চিতায় তাকে দাহ করা। অর্থাৎ মৃত স্বামীর সাথে জীবিত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা নীতিবিরুদ্ধ কর্মটি হচ্ছে সতীদাহ প্রথা। তবে তৎকালীন হিন্দু সমাজ এটি কে নারীর পরম পবিত্রতার পথ হিসেবে জ্ঞান করত। তবে ক্ষেত্র বিশেষ নারীদের পরকালের প্রলোভন দেখিয়ে এই অমানবিক কার্যটি সাধন করা হতো। নারীদের আর্তনাদ যেন কেউ শুনতে না পায়, তার জন্য উচ্চ শব্দের সৃষ্টি করা হতো বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে।
সতীদাহ কার্য ২ ভাবে সম্পূর্ণ করা হতো
১. অনুমরণ : অনুমরণ বলতে কোন স্ত্রীর স্বামী যদি অন্যত্র বা বিদেশে মৃত্যুবরণ করে তবে স্ত্রীকে আলাদা চিতা সাজিয়ে দাহ করাকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন স্ত্রী লোকের স্বামী ক নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেছে, তবে তার দেশের বাড়ি গ নামক স্থান, তার স্ত্রী গ নামক স্থানে বসবাস করে। এদিকে স্বামীকে ক নামক স্থানে দাহকার্য করা এবং স্ত্রীকে গ নামক স্থানে চিতা সাজিয়ে দাহ করাকে বোঝায়।
২. সহমরণ: সহমরণ বলতে স্বামীর সাথে একই চিতায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা কে সহমরণ বলে।
১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় , এই প্রথা রদ হয়, এবং এক নতুন ধর্ম আন্দোলনের সূচনা হয় , যার মাধ্যমে হিন্দু সমাজ নতুনত্বের দিকে যাত্রা আরম্ভ করে।
পুজয় সাহা
সেশন: ২০২১ -২২
ইতিহাস বিভাগ,
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ,,ফরিদপুর