06/01/2026
আজ ৭ জানুয়ারি।
আমাদের জাতীয় গ্লানি আর ক্ষোভের দিন।
১৫ বছর আগে এই দিনে কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর যে নিথর দেহটি ঝুলে ছিল সেটি কেবল ১৫ বছরের একটি কিশোরীর লাশ ছিল না। ওটা ছিল দিল্লির আগ্রাসী মনোভাব আর ঢাকার তৎকালীন শাসকদের মেরুদণ্ডহীন পররাষ্ট্রনীতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী।
সাড়ে চার ঘণ্টা। ভাবা যায়?
একটা মানুষকে গুলি করে মারার পর তার লাশ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কোনো সভ্য রাষ্ট্র তার প্রতিবেশী দেশের নাগরিকের সাথে এমন আচরণ করতে পারে না। বিএসএফ সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা বাংলাদেশকে 'বন্ধু' মনে করে না বরং তারা মনে করে তাদের 'নিশানা'।
বছরের পর বছর ধরে বিএসএফ সীমান্তে শ্যুট টু কিল বা দেখামাত্র গুলির যে মচ্ছব চালিয়ে আসছে,ফেলানী হত্যা তারই চরম বহিঃপ্রকাশ। তারা গরু পাচারের অজুহাত দেয় কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য কি গরুর চেয়েও কম?
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিরস্ত্র মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা এটা কোনো সীমান্তরক্ষা নয় বরং এটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।
সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো বিচারহীনতা। বিএসএফ এর নিজস্ব আদালত ঘাতক অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশিদের জীবনের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। তারা মুখে বন্ধুত্বের বুলি আওড়ায় আর সীমান্তে লাশের পাহাড় গড়ে।
বন্ধুত্ব হতে হবে সমতার ভিত্তিতে,প্রভুর আদেশে নয়। সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে আমাদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা যাবে কিন্তু এই চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদাকে আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।
আমরা দিল্লির দাদাগিরি মানি না। ফেলানীসহ সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হতে হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে শুরু করে সীমান্তে হত্যা প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার মতো হিম্মত এখন আমাদের থাকতে হবে।
যে কাঁটাতার আমাদের বোনকে হত্যা করে সেই কাঁটাতার কোনো বন্ধুত্বের প্রতীক হতে পারে না। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজ জারি থাকুক।
আধিপত্যবাদ নিপাত যাক, ইনসাফ কায়েম হোক।