Sikder Agro Farms

Sikder Agro Farms Sikder Agro Farms — Growing Nature’s Best for You. Committed to sustainable farming, care, and freshness from 2016.

22/05/2026

কোরবানির ঈদ মানেই ছোটবেলার সেই বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়ার স্মৃতি, কাদার গন্ধ আর রঙিন কাগজের মালায় সাজানো বিশাল সব গরু। কিন্তু এই উৎসবের পেছনে লুকিয়ে আছে খামারির এক অদ্ভুত মায়া আর ত্যাগের গল্প।

আমাদের যাদের শৈশব কেটেছে এই বাংলায়, তাদের কাছে কোরবানির হাট কেবল বেচাকেনার জায়গা নয়, এটি এক বিশাল নস্টালজিয়া।

মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা? কাদা মাড়িয়ে, বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাটের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ঘুরে বেড়ানো। একটা বিশালদেহী শান্ত গরু, কপালে তার রঙিন কাগজের চাঁদতারা, শিং দুটোতে হয়তো সর্ষের তেল মাখানো চকচক করছে। ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো ছোট ছোট চোখ। হাটের ওই কোলাহল, ব্যাপারীদের হাঁকডাক, আর এর মাঝেই কোনো এক খামারির বিষণ্ণ মুখ— এ সবই তো কোরবানির চিরচেনা ছবি।

কোরবানি মানে তো কেবল পশু জবাই নয়, কোরবানি মানে ত্যাগের উৎসব। আর এই ত্যাগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়তো খামারিরাই। একটা অবলা প্রাণীকে লালন-পালন করা, নিজের হাতে ঘাস কেটে খাওয়ানো, শীতে গায়ে চট জড়িয়ে দেওয়া— এই যে মাসের পর মাস মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে থাকা, তা কি চাইলেই সহজে ভোলা যায়?

ফুলবাড়িয়া, কালিয়াকৈরের স্নিগ্ধ পরিবেশে গড়ে ওঠা আমাদের 'সিকদার এগ্রো ফার্মস'-এ এখন ঠিক এই ব্যস্ততা, এই আবেগটাই কাজ করছে। গোয়ালঘরগুলোতে এখন অন্যরকম এক আবহ। যে প্রাণীগুলোকে এতদিন পরম মমতায় বড় করা হয়েছে, তাদের বিদায় দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ব্যাপারীর হাতে দড়ি তুলে দেওয়ার সময় বা হাটের ক্রেতার সাথে দরাদরি করার সময় খামারির বুকের ভেতরটা যে কেমন হু হু করে ওঠে, তা শুধু ওই বড় বড় মায়াবী চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

হাটে বিক্রি হওয়ার পর যখন নতুন মালিকের সাথে দড়ি ধরে গরুটা হাঁটতে থাকে, তখন সে হয়তো বারবার পেছন ফিরে তার পুরনো মালিককে খোঁজে। আর খামারি গামছায় মুখ লুকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। এই যে বুক চিরে বেরিয়ে আসা মায়া, আর সেই মায়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিলিয়ে দেওয়া— এটাই তো সত্যিকারের কোরবানি।

হাটের ওই কাদা-মাখা পথ আর খামারির এই বোবা কান্নার মাঝেই লুকিয়ে থাকে কোরবানির আসল সৌন্দর্য।

এবারের ঈদে হাটে গেলে বা খামার থেকে গরু কেনার সময় একটু খেয়াল করবেন সেই অবলা প্রাণীটির দিকে, আর তার পেছনে থাকা সেই মানুষটির দিকে, যিনি নিজের মায়াকে হাসিমুখে তুলে দিচ্ছেন আপনার হাতে।

আপনার কোরবানি হোক পরিশুদ্ধ, আর সিকদার এগ্রো ফার্মস-এর পক্ষ থেকে আগাম ঈদ মোবারক!

17/05/2026

গরুর চোখগুলো কখনো খুব কাছ থেকে খেয়াল করেছেন? কী বিশাল, আর কী শান্ত! ওই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয়, বুকের ভেতরটা কেমন যেন হু হু করে ওঠে। হাজার বছরের যত না-বলা অভিমান আর বোবা কান্না, ওরা যেন ওই কালো মণি দুটোতে সযত্নে জমিয়ে রেখেছে।

আমাদের দেশের গ্রামগুলোতে একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোয়ালঘর ছিল। ওদের নামও হতো মানুষের মতো— লালু, ধলী, শ্যামলী কিংবা কাজল। ভোরবেলা কুয়াশা কাটতে না কাটতেই গৃহস্থ হয়তো গোয়ালঘরে ঢুকে হাঁক দিলেন, "কিরে শ্যামলী, মন খারাপ নাকি তোর? জাবর কাটছিস না কেন?"

শ্যামলী কোনো উত্তর দিতে পারে না। সে শুধু মাথাটা এগিয়ে দেয়, খসখসে জিভ দিয়ে মালিকের হাতটা পরম মমতায় চেটে দেয় আর লেজ নেড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ওই এক দীর্ঘশ্বাসেই মালিক বুঝে যান শ্যামলীর গায়ে জ্বর, নাকি নিছকই মন খারাপ। এই যে কোনো ভাষা ছাড়া কেবল অনুভবের একটা সম্পর্ক— পৃথিবীতে আর কয়টা আছে এমন?

একটা গাভী যখন তার বাছুরকে জন্ম দেয়, সেই দৃশ্যটা বড্ড মায়ার। নিজের শরীর নিংড়ে সে দুধ বানায়। সেই দুধ খেয়ে বড় হয় খামারির সন্তান, গৃহস্থের রুগ্ন ছেলেটি। নিজের বাছুরের মুখের গ্রাসটুকু সে অবলীলায় ভাগ করে নেয় মানুষের সাথে। বিনিময়ে কী চায় সে? একটুখানি শুকনো খড়, এক বালতি পরিষ্কার পানি, আর পিঠে হাত বুলিয়ে দুটো আদরের কথা। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার সাধ্যও তার নেই, ইচ্ছাও নেই।

সবচেয়ে বুকের ভেতর মোচড় দেওয়া দৃশ্যটি তৈরি হয় হাটের দিন। অভাবের তাড়নায় বা নিয়মের ফেরে গৃহস্থ যখন তার পালিত গরুকে দড়ি ধরে হাটে নিয়ে যান। অবলা প্রাণীটা কিচ্ছু বোঝে না, তা কিন্তু নয়। সে ঠিকই বুঝতে পারে তার চেনা উঠোন, চেনা গোয়ালের খড় আর গোবরের সোঁদা গন্ধ আজ থেকে পর হয়ে যাচ্ছে। সে চিৎকার করে না। দড়ি ধরে টান দিলে শুধু একটু থমকে দাঁড়ায়, তারপর চুপচাপ হাঁটতে থাকে। শুধু পেছন ফিরে একবার তার মালিকের দিকে তাকায়, আর বড় বড় শান্ত চোখ দুটো থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে।

যে মানুষটা তাকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেছে, সে তখন গামছায় মুখ লুকিয়ে ডুকরে কাঁদে। সংসারের প্রয়োজনে মানুষ তার মায়াকে টাকার কাছে বিক্রি করে দেয়, কিন্তু ওই অবলা প্রাণীটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার মালিকের প্রতি কোনো অভিযোগ রাখে না।

শহরের যান্ত্রিক জীবনে সুপারশপের প্যাকেটজাত দুধে আমরা হয়তো সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গন্ধ পাই না। তবু, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও, ঠিক এই মুহূর্তে কোনো এক খামারে বা গোয়ালঘরে এক জোড়া মায়াবী চোখ তার মালিকের অপেক্ষায় বসে আছে।

এই অবলা প্রাণীগুলোর কাছে মানুষের বড় ঋণ। ওরা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের পুষ্টি দেয়। ওদের এই নীরব ত্যাগের ঋণ হয়তো শোধ করার নয়, কিন্তু ওদের একটু ভালোবাসা তো দেওয়াই যায়, তাই না?
সিকদার এগ্রো ফার্মস-এর প্রতিটি দিন শুরু হয় এমন কিছু মায়ার গল্প দিয়ে। আসুন, অবলা এই প্রাণীদের প্রতি আরেকটু সদয় হই, আরেকটু ভালোবাসতে শিখি।

14/05/2026

শীতের ভোর। চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এমন ভোরে গৃহস্থের ঘুম ভাঙার পর প্রথম কাজটা কী হয়? গরম এক কাপ চা নিয়ে আরাম করে বসা?

না, তা নয়। যিনি খামার করেন, বা যার বাড়িতে দু-চারটে গরু আছে, তার সকাল শুরু হয় গোয়ালঘরে। শীতে গরুগুলোর কষ্ট হচ্ছে না তো? রাতে ঠিকমতো ঘুমিয়েছে কি? খামারির এই যে উৎকণ্ঠা, এর নামই মায়া।

গরুর চোখগুলো খেয়াল করেছেন কখনো? কী বিশাল, আর কী গভীর! এই অবলা প্রাণীগুলো মানুষের মতো কথা বলতে পারে না ঠিকই, কিন্তু ওদের ওই বড় বড় মায়াবী চোখ অনেক কিছু বলে দেয়। খামারের প্রতিটি গরু আসলে খামারির পরিবারের একেকটি সদস্যের মতোই। ওরা ভালো থাকলে খামারির মুখে হাসি ফোটে, আর ওরা অসুস্থ হলে খামারির ঘরের মানুষেরও যেন ভাত মুখে রোচে না। খামারকে লাভজনক করতে হলে, সবার আগে প্রয়োজন এই প্রাণীগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করা।

সুস্থ আর অসুস্থ গরু চিনবেন কীভাবে?
খুব সাধারণ কিছু দিকে নজর দিলেই বোঝা যায় গরুর মন আর শরীর কেমন আছে:

সুস্থতার লক্ষণ: একটি সুস্থ গরু চটপটে হবে। সে কান নাড়াবে, লেজ নেড়ে মাছি তাড়াবে, আর অবসর সময়ে খুব শান্তিতে বসে জাবর কাটবে। সুস্থ গরুর নাক সব সময় হালকা ভেজা বা ঘর্মাক্ত থাকে। ওদের চোখের দৃষ্টি থাকে উজ্জ্বল।

অসুস্থতার লক্ষণ:যদি দেখেন কোনো গরু মাথা নিচু করে এক কোণায় মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে, অন্য সঙ্গীদের থেকে আলাদা থাকছে, কিংবা খাবার দেওয়া হলেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে—তবে বুঝতে হবে ওর শরীরে কোথাও কোনো কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ গরুর নাক শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায়।

খাবার ও পরিষ্কার পানি
মানুষের মতো ওদেরও তো রুচি আছে। শুধু শুকনো খড় দিলে কি ওদের পেট ভরে, নাকি মন ভরে? পুষ্টিকর কাঁচা ঘাস, পরিমাণমতো দানাদার খাবার আর ভুসি ওদের খুব দরকার। আর একটা জরুরি কথা—পানি। অনেকেই ভাবেন গরুকে ডোবা বা পুকুরের যেকোনো পানি দিলেই চলে। ব্যাপারটা একদম ভুল। আমরা যেমন তৃষ্ণা পেলে পরিষ্কার পানি খুঁজি, ওদের সামনেও সব সময় পরিষ্কার এবং বিশুদ্ধ পানি রাখা উচিত।

পরিচ্ছন্নতা এবং টিকার ছাতা
স্যাঁতস্যাঁতে কাদা আর গোবরের ভেতর শুতে কি কারও ভালো লাগে? ওদেরও লাগে না। গোয়ালঘরটা সব সময় শুকনো আর পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। মশার হাত থেকে বাঁচাতে রাতে মশারি বা ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা খামারির অন্যতম দায়িত্ব। আর হ্যাঁ, রোগ আসার আগে প্রতিরোধ করাটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ। বর্ষাকালে ছাতা যেমন আমাদের বৃষ্টি থেকে বাঁচায়, ঠিক সময়ে দেওয়া টিকাগুলোও ওদের ক্ষুরা বা এনথ্রাক্সের মতো ভয়ংকর সব রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

ঋতুভেদে একটু বাড়তি আদর
আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে ওদেরও একটু বাড়তি যত্নের দরকার হয়। শীতের কনকনে রাতে ওদের পিঠে একটা পুরনো চটের বস্তা জড়িয়ে দিলে ওরা কী যে আরাম পায়! আবার কালবৈশাখীর কাঠফাটা গরমে ওদের নিয়মিত গোসল করানো, পর্যাপ্ত বাতাস আর ছায়ার ব্যবস্থা করার কোনো বিকল্প নেই। বর্ষায় খেয়াল রাখতে হয়, খুরের নিচে যেন কাদা বা পানি জমে ঘা না হয়ে যায়।

শেষ কথা
খামার করাটা কেবলই একটা ব্যবসা বা পেশা নয়। এটি হলো মায়ার এক বিশাল সংসার। একটা অবলা প্রাণীকে আপনি যতটা আদর আর যত্ন দেবেন, সে তার দুধ আর সুস্থতা দিয়ে আপনাকে তার চেয়েও অনেক বেশি ফিরিয়ে দেবে।
সিকদার এগ্রো ফার্মস সব সময় বিশ্বাস করে, সুস্থ গরু মানেই একটা সুখী খামার, আর একজন হাসিমুখের খামারি। ভালো থাকুক আপনার খামার, ভালো থাকুক মায়ায় জড়ানো আপনার প্রতিটি অবলা প্রাণ।

01/05/2026

Snacks time🐮

28/04/2026

খামারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায়: বাছুরের সঠিক যত্ন ও মৃত্যুহার কমানোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি!

একটি ডেইরি খামারে নতুন বাছুরের জন্ম হওয়া মানে শুধু একটি নতুন প্রাণের আগমন নয়, এটি খামারের ভবিষ্যতের একটি শক্ত ভিত্তি। আজকের সুস্থ বাছুরই আগামী দিনের উচ্চ ফলনশীল গাভী বা উন্নত জাতের ষাঁড়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে খামারে বাছুরের মৃত্যুহার অনেক বেশি এবং অনেক বাছুর বড় হয়ে অপুষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত দুধ দিতে পারে না।

এর মূল কারণ হলো বাছুর পালনে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব এবং দুধ বাঁচানোর ভুল প্রবণতা। সিকদার এগ্রো ফার্মস-এর আজকের আয়োজনে আমরা জানবো, জন্মের পর থেকে একটি বাছুরের সঠিক যত্ন কীভাবে নিতে হয়, যা আপনার খামারের ভবিষ্যৎকে শতভাগ সুরক্ষিত করবে।

জন্মের পরপরই প্রথম করণীয় (Golden Hour Care)
বাছুর জন্মের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা তার জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে বাছুরের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করা: জন্মের পরপরই পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে বাছুরের নাক ও মুখের শ্লেষ্মা বা মিউকাস পরিষ্কার করে দিন, যাতে সে সহজে শ্বাস নিতে পারে। মা গাভীকে বাছুরের গা চাটতে দিন, এটি বাছুরের রক্ত চলাচল বাড়ায়।

নাভি কাটা ও জীবাণুমুক্তকরণ:এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ! নাভি থেকে ১-২ ইঞ্চি নিচে পরিষ্কার ব্লেড বা কাঁচি দিয়ে কেটে সেখানে দ্রুত ৭% টিংচার আয়োডিন (Tincture Iodine) বা পভিসেপ লাগিয়ে দিন। এতে নাভি দিয়ে কোনো জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারবে না।

শালদুধ (Colostrum): বাছুরের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঔষধ
অনেক খামারি মনে করেন বাছুরকে বেশি শালদুধ খাওয়ালে বাছুরের পাতলা পায়খানা হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা।
জন্মের ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে বাছুরকে অবশ্যই পর্যাপ্ত শালদুধ খাওয়াতে হবে।
শালদুধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি থাকে, যা বাছুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এটি অনেকটা প্রথম টিকার মতো কাজ করে। যে বাছুর পর্যাপ্ত শালদুধ পায় না, তার রোগাক্রান্ত হওয়ার বা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭০% বেশি।

দুধ পানের সঠিক নিয়ম: খামারির যে ভুলটি করা উচিত নয়
অনেক খামারি বাজারে বেশি দুধ বিক্রির আশায় বাছুরকে পর্যাপ্ত দুধ খেতে দেন না। এটি খামারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
একটি বাছুরকে প্রতিদিন তার ওজনের ১০% পরিমাণ দুধ খাওয়াতে হবে। (যেমন: বাছুরের ওজন ৩০ কেজি হলে তাকে সারাদিনে ৩ লিটার দুধ দিতে হবে)।
অন্তত প্রথম ২-৩ মাস বাছুরকে নিয়ম করে দুধ খাওয়াতে হবে। এই সময়ে দুধের পুষ্টি ছাড়া বাছুরের সঠিক শারীরিক বিকাশ সম্ভব নয়।

কাফ স্টার্টার (Calf Starter) এবং বিশুদ্ধ পানি
শুধু দুধের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। বাছুরের পাকস্থলী (Rumen) দ্রুত বিকাশের জন্য জন্মের ২য় বা ৩য় সপ্তাহ থেকেই তার সামনে খুব নরম ও উন্নত মানের দানাদার খাবার বা ‘কাফ স্টার্টার’ এবং কচি সবুজ ঘাস রাখতে হবে। সেই সাথে সবসময় পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
> 💡 আপনি কি জানেন?
> জন্মের সময় একটি বাছুরের পাকস্থলীর চারটি অংশের মধ্যে শুধুমাত্র একটি অংশ (Abomasum) সক্রিয় থাকে, যা শুধু দুধ হজম করতে পারে। দ্রুত কাফ স্টার্টার এবং ঘাস দেওয়া শুরু করলে পাকস্থলীর বাকি অংশগুলো (বিশেষ করে Rumen) দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে বাছুর তাড়াতাড়ি শক্ত খাবার হজম করতে শেখে!

🌟 প্রো-টিপ (Pro Tip):বাছুরকে সরাসরি ফ্লোরে বা মাটিতে না রেখে বাঁশ বা কাঠের তৈরি মাচায় (Calf Pen) রাখুন। এতে বাছুর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ঠান্ডা এবং পরজীবীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে। খামারে বাছুরের মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনতে শুকনো ও পরিষ্কার বিছানার বিকল্প নেই।

উপসংহার: বাছুরকে দুধ খাওয়ানো কোনো অপচয় নয়, এটি আপনার খামারের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ। আপনি যদি আজ একটি বাছুরের পেছনে একটু অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, আগামী ২-৩ বছর পর সেই বাছুরটিই একটি সুস্থ ও শক্তিশালী গাভী হয়ে আপনাকে কয়েকগুণ বেশি দুধ ও মুনাফা ফিরিয়ে দেবে। তাই খামারের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বাছুরের প্রতি যত্নশীল হোন।
সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান

#সিকদারএগ্রোফার্মস #ডেইরিখামার #বাছুরপালন #গরুরখামার #কৃষিটিপস #স্মার্টখামার #খামারব্যবস্থাপনা #প্রাণিসম্পদ

10/04/2026

ভোরবেলা খামারে হাঁটার একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে। চারপাশটা কেমন যেন শিশির আর ঘাসের গন্ধে মায়াময় হয়ে থাকে। আমি হাঁটছিলাম। হঠাৎ শুনি কোথা থেকে যেন খুব মিষ্টি একটা বাঁশির আওয়াজ আসছে।

সিকদার এগ্রো ফার্মের এক কোণায় বড় একটা কড়ই গাছ আছে। সেখানে হেলান দিয়ে আমাদের খামারের এক কর্মী—নাম বক্কর, চোখ বন্ধ করে বাঁশি বাজাচ্ছে। আর অবাক কাণ্ড—আশপাশের কয়েকটা গাভী খুব মনোযোগ দিয়ে সেই বাঁশির সুর শুনছে! ওদের চোখগুলো অর্ধেক বোজা। কান দুটো স্থির।

আমি বক্করকে ধমক দিতে গেলাম, "কিরে, কাজকাম বাদ দিয়ে সকালবেলা বাঁশি বাজাচ্ছিস?"
বক্কর কাঁচুমাচু হয়ে বলল, "স্যার, আমি তো গরুগুলাক শান্ত করতেছি। মন ভালো থাকলে ওরা দুধ বেশি দেয়। মেজাজ খিটখিটে থাকলে দুধ আটকায়া রাখে।"

আমি মনে মনে হাসলাম। গ্রামের মানুষের কত অদ্ভুত বিশ্বাস! কিন্তু পরে ডেইরি বিজ্ঞানের বই ঘাঁটতে গিয়ে আমি রীতিমতো চমকে উঠলাম। বক্করের কথা তো অক্ষরে অক্ষরে সত্যি! ডেইরির খুব চমৎকার এবং সূক্ষ্ম একটা বিষয় হচ্ছে—'স্ট্রেস-ফ্রি এনভায়রনমেন্ট' (Stress-free Environment) বা মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশ।

আমরা সাধারণ মানুষরা ভাবি, গরু তো অবলা প্রাণী। খাবার দিলেই হলো। ওদের আবার স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কিসের! কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, গরুর অনুভূতি মানুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

যখন কোনো খামারে খুব চেঁচামেচি হয়, গরুকে লাঠি দিয়ে মারা হয় বা ভয় দেখানো হয়, তখন গরুর শরীরে 'অ্যাড্রেনালিন' (Adrenaline) নামের একটা হরমোন রিলিজ হয়। এই হরমোনটা হচ্ছে ভয়ের হরমোন। এটা তৈরি হলেই গরুর শরীর থেকে দুধ নামানোর যে মূল জাদুকরী হরমোন—যার নাম 'অক্সিটোসিন' (Oxytocin), সেটা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে গাভী চাইলেও তার পুরো দুধটা দিতে পারে না। ওলানে দুধ আটকে থাকে। আর এই আটকে থাকা দুধ থেকেই পরে গরুর মারাত্মক সব রোগ হয়, খামারি পড়েন লোকসানে।

অন্যদিকে, গরুর সাথে যখন ভালো ব্যবহার করা হয়, গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়া হয় বা হালকা কোনো মিউজিক (যেমন বাঁশির সুর বা শান্ত কোনো গান) শোনানো হয়—তখন ওরা একদম রিলাক্সড বোধ করে। শরীরে অক্সিটোসিনের ফ্লো বেড়ে যায়। দুধের উৎপাদন তো বাড়েই, দুধের গুণগত মানও হয় চমৎকার। উন্নত বিশ্বে এখন গরুকে নিয়মিত ক্লাসিক্যাল মিউজিক শোনানো হয়!

আমাদের দেশের অনেক নতুন খামারি ভাইরা ভাবেন, গরুকে ধমক দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে বোধহয় খামার চালানো যায়। এটা চরম ভুল। খামার আসলে ইট-পাথরের কোনো ফ্যাক্টরি না, এটা মায়ার জায়গা। আপনি যদি গরুকে ভয় দেখান, প্রকৃতি আপনাকে তার সেরা জিনিসটা কখনোই দেবে না।

সিকদার এগ্রো ফার্মে আমরা একটা নিয়ম খুব কড়াকড়িভাবে মেনে চলি। এখানে গরুর গায়ে হাত তোলা বা জোরে চিৎকার করা একদম নিষেধ। আমাদের খামারটা বেশ শান্ত। বক্করের মতো কেউ কেউ মাঝে মাঝে গুনগুন করে গান গায়, আর গাভীগুলো চোখ বন্ধ করে জাবর কাটে।

খাঁটি দুধ আসলে শুধু খাবার বা ঘাসের ফসল না, এটা একটা প্রশান্তির ফসল। আমাদের ফার্মের দুধ যখন জ্বাল দেওয়া হয়, তখন যে মিষ্টি ঘ্রাণটা ছড়ায়, সেটা আসলে ওই শান্ত পরিবেশেরই একটা রূপ।

আজ এই পর্যন্তই। বক্করকে শহর থেকে একটা নতুন বাঁশি কিনে দিতে হবে। ছেলেটার বাঁশির হাত আসলেই খুব মিষ্টি!
সবাই ভালো থাকবেন। খামার বা ডেইরি নিয়ে আপনাদের কোনো অদ্ভুত অভিজ্ঞতা থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। গল্প শুনতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে।

01/04/2026

পৃথিবীতে দুই শ্রেণির মানুষ আছে। একদল দুধ খেতে প্রচণ্ড ভালোবাসে, আরেকদল দুধের নাম শুনলেই নাক কুঁচকায়।

সিকদার এগ্রো ফার্মের দেখাশোনা করার সুবাদে আমার দিনের অনেকটা সময় কাটে খামারে। সকালবেলা গরুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় চোখ বোধহয় গরুর। এরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু ওদের চোখের দিকে তাকালে বেশ বোঝা যায় ওরা সুখে আছে নাকি কষ্টে আছে।

খামারের ম্যানেজার একদিন এসে আমাকে বলল, "স্যার, গরুর জন্য তো আচার বানাইতে হবে।"
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। মানুষের আচার শুনেছি—আমের আচার, চালতার আচার, রসুনের আচার। গরুর আবার আচার কী?
ম্যানেজার দাঁত বের করে হাসল। বলল, "আচার মানে সাইলেজ (Silage), স্যার।"

ব্যাপারটা খোঁজ নিয়ে দেখলাম বেশ ইন্টারেস্টিং। আমাদের দেশে তো সারাবছর তাজা সবুজ ঘাস থাকে না। বর্ষায় মাঠ তলিয়ে যায়, শীতে ঘাস শুকিয়ে যায়। তখন খামারের এই নিরীহ প্রাণীগুলোকে কী খাওয়ানো হবে? শুধু শুকনো খড় আর ভুসি খেলে গরুর পেট ভরবে ঠিকই, কিন্তু দুধে সেই মিষ্টি স্বাদটা থাকবে না, পুষ্টিও অর্ধেকে নেমে আসবে।
তাই বুদ্ধিমান খামারিরা চমৎকার একটা কাজ করেন। যখন মাঠে প্রচুর তাজা কাঁচা ঘাস বা ভুট্টা গাছ থাকে, তখন সেগুলো ছোট ছোট করে কেটে নেন। এরপর বাতাস বের করে দিয়ে বিশাল গর্তে বা বিশেষ পলিথিনে আটকে রাখেন। ভেতরে প্রাকৃতিক উপায়ে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন হয়। কাঁচা ঘাসের সব পুষ্টি, মিনারেল আর ভিটামিন একদম জাদুর মতো লক হয়ে যায়। এই অদ্ভুত সুন্দর জিনিসটাই হলো সাইলেজ।

যেকোনো নতুন বা মাঝারি খামারির জন্য এই সাইলেজ হচ্ছে এক টুকরো আশীর্বাদ। এতে দামি দানাদার খাবারের পেছনে খরচ বেঁচে যায়, আবার সারা বছর গরুর খাবারের টেনশনও থাকে না। খামারও লাভে থাকে।

আপনারা যারা আমাদের সিকদার এগ্রোর দুধ নিয়মিত খান, তারা মাঝে মাঝেই বলেন, "আপনাদের দুধে এত সুন্দর মোটা সর পড়ে কীভাবে? জ্বাল দেওয়ার পর ঘ্রাণটাও একদম গ্রামের খাঁটি দুধের মতো লাগে।"

এই জাদুর পেছনের আসল কারিগর কিন্তু খামারের ওই গরুর আচার, থুড়ি, সাইলেজ। আমরা ওদের খাবারের ব্যাপারে কোনো আপস করি না। একটা বোবা প্রাণীকে আপনি ভালো খাবার না দিলে, সে আপনাকে ভালো দুধ কীভাবে দেবে? প্রকৃতির হিসাব খুব সোজা। প্রকৃতিকে আপনি যা দেবেন, সে আপনাকে ঠিক সেটাই ফেরত দেবে।
আজ এই পর্যন্তই থাক। খামারে নতুন একটা বাছুর হয়েছে। বাছুরটা সারাক্ষণ লাফিয়ে বেড়ায়, এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়ায় না। ওর একটা নাম দিতে হবে।

সবাই ভালো থাকবেন। সিকদার এগ্রোর সাথেই থাকবেন।

Address

Jathalia, Fulbaria, Kaliakour
Gazipur

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 22:00
Friday 09:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 22:00

Telephone

01713515374

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sikder Agro Farms posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sikder Agro Farms:

Share

Category