22/05/2026
কোরবানির ঈদ মানেই ছোটবেলার সেই বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়ার স্মৃতি, কাদার গন্ধ আর রঙিন কাগজের মালায় সাজানো বিশাল সব গরু। কিন্তু এই উৎসবের পেছনে লুকিয়ে আছে খামারির এক অদ্ভুত মায়া আর ত্যাগের গল্প।
আমাদের যাদের শৈশব কেটেছে এই বাংলায়, তাদের কাছে কোরবানির হাট কেবল বেচাকেনার জায়গা নয়, এটি এক বিশাল নস্টালজিয়া।
মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা? কাদা মাড়িয়ে, বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাটের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ঘুরে বেড়ানো। একটা বিশালদেহী শান্ত গরু, কপালে তার রঙিন কাগজের চাঁদতারা, শিং দুটোতে হয়তো সর্ষের তেল মাখানো চকচক করছে। ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো ছোট ছোট চোখ। হাটের ওই কোলাহল, ব্যাপারীদের হাঁকডাক, আর এর মাঝেই কোনো এক খামারির বিষণ্ণ মুখ— এ সবই তো কোরবানির চিরচেনা ছবি।
কোরবানি মানে তো কেবল পশু জবাই নয়, কোরবানি মানে ত্যাগের উৎসব। আর এই ত্যাগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়তো খামারিরাই। একটা অবলা প্রাণীকে লালন-পালন করা, নিজের হাতে ঘাস কেটে খাওয়ানো, শীতে গায়ে চট জড়িয়ে দেওয়া— এই যে মাসের পর মাস মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে থাকা, তা কি চাইলেই সহজে ভোলা যায়?
ফুলবাড়িয়া, কালিয়াকৈরের স্নিগ্ধ পরিবেশে গড়ে ওঠা আমাদের 'সিকদার এগ্রো ফার্মস'-এ এখন ঠিক এই ব্যস্ততা, এই আবেগটাই কাজ করছে। গোয়ালঘরগুলোতে এখন অন্যরকম এক আবহ। যে প্রাণীগুলোকে এতদিন পরম মমতায় বড় করা হয়েছে, তাদের বিদায় দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ব্যাপারীর হাতে দড়ি তুলে দেওয়ার সময় বা হাটের ক্রেতার সাথে দরাদরি করার সময় খামারির বুকের ভেতরটা যে কেমন হু হু করে ওঠে, তা শুধু ওই বড় বড় মায়াবী চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
হাটে বিক্রি হওয়ার পর যখন নতুন মালিকের সাথে দড়ি ধরে গরুটা হাঁটতে থাকে, তখন সে হয়তো বারবার পেছন ফিরে তার পুরনো মালিককে খোঁজে। আর খামারি গামছায় মুখ লুকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। এই যে বুক চিরে বেরিয়ে আসা মায়া, আর সেই মায়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিলিয়ে দেওয়া— এটাই তো সত্যিকারের কোরবানি।
হাটের ওই কাদা-মাখা পথ আর খামারির এই বোবা কান্নার মাঝেই লুকিয়ে থাকে কোরবানির আসল সৌন্দর্য।
এবারের ঈদে হাটে গেলে বা খামার থেকে গরু কেনার সময় একটু খেয়াল করবেন সেই অবলা প্রাণীটির দিকে, আর তার পেছনে থাকা সেই মানুষটির দিকে, যিনি নিজের মায়াকে হাসিমুখে তুলে দিচ্ছেন আপনার হাতে।
আপনার কোরবানি হোক পরিশুদ্ধ, আর সিকদার এগ্রো ফার্মস-এর পক্ষ থেকে আগাম ঈদ মোবারক!