ইসলামিক জিন্দিগী

ইসলামিক জিন্দিগী পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা ওই ব্যক্তি যে নিজের স্বার্থ নিজে বোঝেনা �

15/08/2026

মৃত্যুর পর রূহ
প্রশ্নঃ মৃত্যুর পর কেয়ামত পর্য্যন্ত রূহ্ কোথায় থাকে- আসমানে না যমীনে? জান্নাতে না জাহান্নামে? পৃথিবীর দেহ ব্যাতিত অন্য কোন দেহে থাকে কিনা? ঐ অবস্থায় শাস্তি ভোগ করে কিনা? নাকি-আযাবমুক্ত থাকে?
জওয়াবঃ
(১) ইমাম কুরতুবী (রহঃ) তাযকিরাহ্ গ্রন্থে মৃত্যুর পর রূহের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আবুল হাসান কাবেছীর উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন- “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর বিশুদ্ধ মতামত হচ্ছে- মুমিন কাফের নির্বিশেষে সকলের রূহ্ ফিরিস্তারা বহন করে উপরের দিকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে প্রথমে পেশ করে। আল্লাহ্তায়ালা ঐ রূহ্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যদি মৃত ব্যক্তির রূহ্ নেককার হয়- তাহলে ফিরিস্তাদেরকে বলেন- তাকে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তার জান্নাতের অবস্থান দেখাও। অতঃপর ফিরিস্তারা চোখের পলকে ঐ রূহকে নিয়ে জান্নাতে ভ্রমণ করেন। মৃত ব্যক্তিকে গোসল করাতে যত সময় লাগে-ততটুকু সময় ভ্রমণ করেন। যখন গোসল ও কাফন পরানোর কাজ সমাধা হয়- তখন রূহ্ ফেরত দেয়া হয় এবং কাফনও শরীরের মধ্যখানে রূহ্ অবস্থান নেয়। যখন লাশ খাটে উঠানো হয়- তখন সে মানুষের কথাবার্তা শুনতে শুরু করে। কে তাকে ভাল বলছে, কে তাকে খারাপ বল্ছে- তা সে শুনতে পায়। যখন জানাযার পর তাকে কবরে রাখা হয়- তখন রূহ্ শরীরে প্রবেশ করে। তাকে জীবিত হিসাবে বসানো হয় এবং দুই পরীক্ষাকারী ফিরিস্তা তার কবরে প্রবেশ করে”।

(২) আমর ইবনে দীনার (রহঃ) বর্ণনা করেন- “যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন তার রূহ্ একজন ফিরিস্তার হাতে থাকে। তার রূহ্ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে- তাকে কিভাবে গোসল দেয়া হচ্ছে, কিভাবে কাফন পরানো হচ্ছে, কিভাবে তাকে কবরে নেয়া হচ্ছে এবং কিভাবে তাকে কবরে বসানো হচ্ছে”।

(৩) মোহাদ্দেস দাউদ উপরের বর্ণনার সাথে হাদীসের অন্য অংশ যোগ করে বলেছেন- খাটের মধ্যে থাকা অবস্থায় লাশকে বলা হয়- শুন, লোকেরা তোমার কিভাবে প্রশংসা করছে”।

(৪) আবু হামেদ গাযালী (রহঃ) তাঁর “কাশফে উলুমিল আখিরাহ্” গ্রন্থে রেওয়ায়াত করেছেন-“যখন আযরাঈল ফিরিস্তা নেককার লোকের রূহ্ কবজ করেন-তখন দুজন উত্তম চেহারার ফিরিস্তা ঐ রূহ্ গ্রহণ করেন। তাদের গায়ে থাকে উত্তম পোষাক ও পবিত্র সুগন্ধি। ঐ ফিরিস্তাদ্বয় নেককারের রূহকে বেহেস্তী রেশমী রুমালে আবৃত করে নেন। ঐ রেশমী রুমালখানা মধু মক্ষিকার সম পরিমান। ঐ রূহের মধ্যে আকল ও ইলম- যা সে দুনিয়াতে অর্জন করেছিল- তা তার সাথে থাকবে। সে সবকিছু দেখবে ও বুঝবে। অতঃপর ফিরিস্তারা তার রূহ্ নিয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। পথিমধ্যে পূর্ববর্তী মৃত লোকদের মধ্য দিয়ে সে গমন করতে থাকবে। ঐ সমস্ত পূর্ববর্তী লোকদের সংখ্যা হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায়। এভাবে তারা প্রথম আকাশে পৌছাবে। যিম্মাদার ফিরিস্তা দরজা নাড়া দেবে। উপর থেকে বলা হবে- তুমি কে? যিম্মাদার বলবে-আমি ছালছায়ীল। আমার সাথে অমুকের পুত্র অমুক। ফিরিস্তা বলবে-হাঁ সে এরকমই ছিল। তাদের আক্বিদা ছিল সন্দেহাতীত বিশুদ্ব। এরপর ঐ মোমিন রূহ্কে দ্বিতীয় আকাশে নিয়ে যাওয়া হবে। দরজার ফিরিস্তারা বলবে- মারহাবা, সে নামাযের ফরয ঠিকভাবে আদায় করতো। এমনিভাবে তৃতীয় আকাশের ফিরিস্তারা দরজা খুলে দিয়ে তার পরিচয় জেনে নিয়ে বলবে-মারহাবা, সে তার মালের যাকাত দিত আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য এবং যাকাতের কোন অংশ নিজের কাছে ধরে রাখতো না। চতুর্থ আকাশে নিয়ে গেলে ফিরিস্তারা অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে- সে উত্তমরূপে রোযা রাখতো এবং অশ্লীল কাজ ও হারাম খাদ্য থেকে বেঁচে থাকতো। এরপর পঞ্চম আকাশের ফিরিস্তারা দরজা খুলে দিয়ে পরিচয় নিয়ে বলবে- আহ্লান ছাহ্লান, সে লোক দেখানো বা সুনামের আশা না করে ফরয হজ্ব আদায় করতো। ষষ্ঠ আকাশে রূহ্কে নিয়ে গেলে ফিরিস্তারা পরিচয় নিয়ে দরজা খুলে দিবে এবং বলবে- মারহাবা, ইনি উত্তম ব্যক্তি এবং পবিত্র আত্মার অধিকারী। সে পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহার করতো। এভাবে সপ্তম আকাশে নিয়ে গেলে নিয়োজিত ফিরিস্তারা দরজা খুলে দিয়ে বলবে- মারহাবা, সে অতি ভোরে উঠে ক্ষমা প্রার্থণা করতো এবং গোপনে দান খয়রাত করতো, ইয়াতিমদের লালন পালন করতো।

তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হবে “ছুরাদিকাতুল জালাল” নামক স্থানে। দরজা খুলে দেয়ার পর তথাকার নিয়োজিত ফিরিস্তা বলবে- মারহাবা, সে নেককার বান্দা এবং পবিত্র আত্মার অধিকারী। সে বেশীবেশী ক্ষমা প্রার্থণাকারী এবং উত্তম কাজের আদেশকারী ও মন্দ কাজ থেকে বারণকারী, গরীব মিছকিনদের সাহায্যকারী। এমনিভাবে- উক্ত পবিত্র রূহ্ সামনে অগ্রসর হতে থাকবে এবং ফিরিস্তারা তার সাথে মুসাফাহা করে তাকে সুসংবাদ দিতে থাকবে। এভাবে রূহ্কে নিয়ে ছিদ্রাতুল মোন্তাহায় পৌঁছবে এবং দরজা খুলে দেয়ার জন্য নাড়া দিবে। অতঃপর ফিরিস্তা পরিচয় নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করাবে। তারপর অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে- সে বড় নেককার ও আল্লাহর সন্তষ্টি লাভকারী ব্যক্তি ছিল। অতঃপর ঐ রূহ্ আগুনের সাগর, নূরের সাগর, অন্ধকার সাগর, পানির সাগর, বরফের সাগর ও শীতল সাগর অতিক্রম করবে। প্রত্যেক সাগরের দৈর্ঘ হবে এক হাজার বছরের রাস্তা। এরপর চিহ্নিত পর্দাসমূহ ভেদ করে আরশে মোয়াল্লায় পৌঁছাবে। ঐ পর্দা সমূহের জানালা হবে আশি হাজার। দীর্ঘ স্তরসমুহ ভেদ করে অবশেষে রূহ্ পৌঁছবে আল্লাহর দরবারে। পর্দার অভ্যন্তর হতে ডাক দেয়া হবে- কার এই পবিত্র রূহ্? জওয়াব দেয়া হবে- অমুকের পুত্র অমুকের। তখন আল্লাহ্ জালালুহু বলবেন- নিকটে নিয়ে আস। হে বান্দা! তুমি ছিলে আমার উত্তম বান্দা! তারপর তার ক্ষমা ঘোষণা করা হবে”। (তাযকিরাহ্ ৬৫-৬৬ পৃষ্ঠা)।

(৫) ইবনে নুবাতা- যিনি ১২ চাঁদের আরবী খুতবা লিখেছেন- তাঁকে স্বপ্নে দেখে কেউ জিজ্ঞাসা করলো- আপনার সাথে আল্লাহ্ কিরূপ ব্যবহার করেছেন? জওয়াবে ইবনে নুবাতা বললেন-

”আমাকে দুই করিমের (আল্লাহ্-রাসুল) মধ্যখানে বসিয়ে আল্লাহ্ বললেন- তুমি অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণে খুতবা লিখেছো, কত সুন্দর তোমার কালাম। আমি বললাম- হে মাবুদ! খুতবার মধ্যে তোমারই সিফাত বর্ণনা করেছি। আল্লাহ্ বললেন- বলো, তুমি দুনিয়াতে কি বলতে? ইবনে নুবাতা জবাব দিলেন- তোমার সিফাত এভাবে বর্ণনা করেছি- “যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- তিনিই তাদেরকে মৃত্যু দিয়েছেন। যিনি তাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছিলেন। তিনিই তাদেরকে বাকশূন্য করেছেন। যিনি তাদেরকে ধবংস করেছিলেন তিনিই তাদেরকে পুনরায় জীবিত করবেন, যিনি তাদেরকে পৃথক পৃথকভাবে দুনিয়াতে প্রেরণ করে পুণরায় কবরে পৃথক করে রেখেছিলেন- তিনিই পুনরায় তাদেরকে হাশরে একত্রিত করবেন”। ইবনে নুবাতা বলেন- আল্লাহ্তায়ালা আমার খুৎবা শুনে বললেন-তুমি সত্য বলেছো। যাও- আমি তোমাকে পূর্ণ ক্ষমা করে দিলাম”। (তাযকিরাহ)।

[ইবনে নূবাতা ৬৭১ হিজরীর পূর্বের লোক ছিলেন এবং তিনি উঁচু স্তরের বুযুর্গ ছিলেন। তাই তাঁর খুত্বা এখনো মসজিদে মসজিদে পাঠ করা হয়। ইহা লিখিত খুত্বাসমূহের মধ্যে বিশুদ্বতম। ]

বুঝা গেল- নেককারদের রূহ্ প্রথমে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে- তারপর কবরে আসে।

আরো বুঝা গেল- “আল্লাহ্ তাদের রূহের সাথে কথা বলে, পরে কবরে প্রেরণ করবেন বা শরীরের সাথে সংযুক্ত করবেন।

(৭) কাফিরদের রূহের অবস্থান ও অবস্থাঃ

কাফিরদের রূহ্ দেহ থেকে এভাবে টেনে বের করা হবে- যেভাবে শরীর থেকে কাঁটা বের করা হয়। মালাকুত মউত তাকে উদ্দেশ্য করে বলবে- ”হে খবিছ রূহ্! খবিছ দেহ হতে বের হয়ে আস্। তখন তার চিৎকার হবে গাধার চিৎকারের মত। আযরাঈল রূহ্ বের করে যাবানিয়া নামক ফিরিস্তাদের নিকট অর্পন করবে। তাদের চেহারা হবে বিভৎস, পোষাক হবে কালো এবং দুর্গন্ধময়। তাদের হাতে থাকবে পশমের সূর্গন্ধময় রুমাল। ঐ দুর্গন্ধময় পশমী রুমাল দিয়ে রূহ্ পেঁচিয়ে নেয়া হবে। সহীহ বুখারীতে আছে-“ জাহান্নামে কাফেরের দাঁত হবে ওহোদ পাহাড়ের মত বড় বড়”।

কাফেরের রূহ্ নিয়ে ফিরিস্তা প্রথম আকাশে গিয়ে দরজা খুলতে ডাক দিবে। উপর থেকে প্রশ্ন করা হবে- কে তুমি? জবাব দিবে- আমি দাক্ইয়াঈল ফিরিস্তা। পুনরায় প্রশ্ন করা হবে- তোমার সাথে কে? বলবে- ফলানার ছেলে ফলানা। তখন ঐ খবিছ রূহ্ না পাবে অভ্যর্থনা- না পাবে মারহাবা ধ্বনী। আল্লাহ্পাক কাফেরদের ব্যাপারে ঘোষণা করেছেন-

لاَ تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاء وَلاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ
“কাফেরদের জন্য আকাশের রহমতের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করবেনা” (সুরা আ’রাফ ৪০ আয়াত)।
যখন যাবানিয়া ফিরিস্তা এই বাণী শুনবে- তখন কাফেরের রূহ্ হাত থেকে নিক্ষেপ করে ফেলে দিবে। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্পাক এরশাদ করেছেন-

وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاء فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
অর্থ-”যারা আল্লাহর সাথে ইবাদতে অন্যকে শরীক করেছে-তারা যেন আকাশ থেকে আছাড় খেয়ে নিচে পড়ে গেলো এবং মৃতভোজী পাখীরা তাদেরকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো- অথবা বাতাস তাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করলো” (ছুরা হজ্ব ৩১ আয়াত)।
যখন খবিছ রূহ্ জমীনে এসে পড়বে। যাবানিয়া ফিরিস্তা তাকে শীঘ্র ধরে নিয়ে ছিজজীনে বন্দী করবে। ছিজজীন হলো বিরাট পাথর সদৃশ বদকারদের বন্দীশালা। ইহুদী নাসারাগণকে আকাশের কুরছি থেকে তাদের কবরে নিক্ষেপ করা হবে। মুশরিক ও মুনাফিকদের রূহ্গুলো ইহুদী নাছারাদের ন্যয় কবরে নিক্ষিপ্ত হবে।

আর যেসব মুমিন অপরাধী ছিল- তাদেরকে শ্রেণীভেদে শাস্তি দেয়া হবে। যারা নামাযে ত্র“টি করতো- তাদের নামায তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে। কারণ, এরা নামাযে চুরি করেছে। ছেড়া কাপড় যেভাবে নিক্ষিপ্ত হয়- তাদের ত্রুটিযুক্ত নামাযও সেভাবে নিক্ষিপ্ত হবে। এমনিভাবে লোক দেখানো যাকাত দানকারী, অশ্লীল কথাবার্তা বলে রোযা পালনকারী, নাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হজ্ব আদায়কারী অথবা হারাম উপার্জিত মাল দ্বারা হজ্ব আদায়কারী, আত্মীয় স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, প্রমুখ ব্যক্তিদের রূহ্ তাদের মুখে ও শরীরে নিক্ষিপ্ত হবে। এভাবে কবরে প্রাথমিক শাস্তি ভোগ করবে। ফাইনাল শাস্তি হবে হাশরে। (তাযকিরাহ)

15/08/2026

রূহ্ কি জিনিস
প্রশ্নঃ দেহ থেকে রূহ্ পৃথক হয়ে যাবার পর যখন সে একা হয়ে যায়- তখন কিভাবে একরূহ্ অন্যরূহ্ হতে পার্থক্য করা যায়? কিভাবে রূহ্সমূহ বিভিন্ন রূপ ধারণ করে অন্য রূহের সাথে পরস্পর মিলিত হয় এবং পরিচিত হয়? দেহমুক্ত রূহ্সমূহ কি পূনরায় অন্য কোন দেহে প্রবেশ করে? শরীরবিহীন রূহের প্রকৃত অবস্থা কি? রূহের অবস্থান কোথায়?
উত্তরঃ বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। দার্শনিকদের দর্শন পড়ে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া খুবই কঠিন। বিশেষ করে যারা বলেন- রূহের কোন সূরত নেই। রূহ্ কোন পদার্থ নয়, ইহা সৃষ্টির অন্তর্ভূক্তও নয়, আবার বহির্ভূতও নয়, রূহের কোন পরিমাপ নেই, রূহের কোন দৈহিক রূপ নেই- ইত্যাদি। দার্শনিকদের নীতিমালা অনুযায়ী এর জবাব দেয়া মোটেই সম্ভব নয়।রূহ্ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামতঃ

(১) একদল কালাম বিশারদ বলেন- “রূহ্ হচ্ছে দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতই একটি পরনির্ভরশীল অঙ্গ। যতক্ষন রূহ্ দেহে অবস্থান করে- ততক্ষণ উহাকে অন্যান্য অঙ্গ থেকে পার্থক্য করা যায়। কিন্তু দেহ থেকে মুক্ত হয়ে গেলে আর পার্থক্য করা যায় না- বরং তাঁদের মতে- তখন রূহ্ বলতে আর কিছুই থাকেনা। উহা তখন অস্তিত্বহীন হয়ে যায়- যেমন দেহের অন্যান্য অঙ্গ অস্তিত্বহীন ও ধবংশ হয়ে যায়। ইহাকে আরবীতে আরয (عرض) বলা হয়- অর্থাৎ বাহ্যিক গুণ বিশেষ। এই শ্রেণীর দার্শনিকদের দর্শনের সমাধান তাঁদের নীতিমালার ভিত্তিতে দেয়াও সম্ভব নয়।

(২) হাঁ- কোরআন সুন্নাহ্, ওলামাদের ব্যাখ্যা ও বিবেকবুদ্ধি মোতাবেক রূহের প্রকৃতি নির্ণয় করা সম্ভব। কোরআন-সুন্নাহ ও অন্যান্য দলীলাদির দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, রূহ্ হচ্ছে এমন এক পৃথক যাত বা সত্ত্বা- যা স্বয়ং অস্তিত্ববান হতে পারে। উপরে গমন করতে পারে, নিচে নামতে পারে, কোন কিছুর সাথে সংযুক্ত হতে পারে এবং বিচ্ছিন্নও হতে পারে। দেহ হতে বের হয়ে রূহ্ অন্যত্র গমন করতে পারে। মোদ্দা কথা হলো- অন্যান্য সৃষ্টির মত রূহ্ও একটি পৃথক সৃষ্টি ও সত্বা। সচলও অচল হওয়া ইহার বৈশিষ্ট। ইহার বহু নযীর পেশ করা যেতে পারে। যেমন-

(ক ) মৃত্যুকালে যখন দেহ থেকে রূহ্ পৃথক করে নেয়া হয়- তখন ফিরিস্তারা বলে-

یا أَیَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعی إِلى رَبِّکِ راضِیَةً مَرْضِیَّةً
”হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার প্রভুর দিকে ফিরে চলো। তুমি ছিলে রাযী, আল্লাহ্ও তোমার প্রতি রাযী”। বুঝা গেল- শরীর থেকে রূহ্ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়েই একথা বলা হয়। (সুরা ফজরঃ ২৭-২৮)
(খ) ছুরা ইন্ফিত্বার-এ আল্লাহ্পাক শরীরের এবং রূহের সংযোগ সম্পর্কে এরশাদ করেন-

الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ
(কিভাবে তার নাফরমানী করছো) - “যিনি তোমাকে (শরীরকে) সৃষ্টি করে তার মধ্যে রূহ্ স্থাপন করেছেন এবং ঠিকঠাকভাবে সংযোজন কাজ সমাধা করেছেন”। (ইন্ফিত্বারঃ ৭)
বুঝা গেল- শরীর গঠনের চারমাস পর রূহের আগমন হয়। তাই শরীর ও রূহ্ দুই জিনিস বা দুই সত্বা। শরীরের বয়স চারমাস বেশী। রুহের বয়স চারমাস কম।

উপরোক্ত দুটি আয়াতের দ্বারা বুঝা যাচ্ছে- রূহ্ শরীর থেকে সূরতধারী একটি বস্তু বের করে- যার দ্বারা রূহ্ সমূহের পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। পবিত্র রূহ্ পবিত্র দেহে এবং অপবিত্র রূহ্ অপবিত্র দেহে অবস্থান করে। হাদীসে বর্ণিত আছে- ‘‘মালাকুত মউত মুমিনের রূহ্ বের করে অন্যান্য ফিরিস্তাদের কাছে হস্তান্তর করে। তখন ঐ রূহ্ থেকে মেশকের চেয়ে বেশী সুগন্ধি পাওয়া যায়’’। এতেই বুঝা গেল- রূহ্ গুন নয়- বরং যাত বা পৃথক সত্বা। কেননা, গুণের কোন সুগন্ধি হয় না এবং এক হাত থেকে আরেক হাতেও নেয়া যায় না।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- “পবিত্র রূহ্ আকাশের দিকে উঠতে থাকে। তখন আসমান যমীনের মধ্যকার ফিরিস্তারা তাঁকে সালাম জানায়। ঐ পবিত্র রূহের জন্য প্রত্যেক আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। এভাবে পবিত্র রূহ্ এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে উঠতে থাকে। অতঃপর আল্লাহর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হয়। তখন আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর নাম ইল্লিয়্যিনের দফতরে লিখার আদেশ দেন। এরপর কবরে তাঁর রূহ্ ছাওয়াল-জওয়াবের জন্য ফেরত পাঠান হয়। আর কাফেরের রূহ্কে নিক্ষেপ করা হয় অপমানজনকভাবে। অতঃপর তার রূহ্ কবরে পতিত হয় ছাওয়াল জাওয়াবের জন্য”। (মুসনাদে আহমদ)

(গ) হাদীস শরীফে মোমেনদের রূহের অবস্থান সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে-

نَسَمَةُ الْمُؤْمِنِ وَهِيَ رُوحُهُ طَائِرٌ يُعَلَّقُ فِي شَجَرَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرُدَّهَا اللَّهُ إِلَى جَسَدِهِ۔
“মোমেনদের রূহ্ পাখীর সুরতে বেহেস্তের গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়, ফল খেতে থাকে। হাশরের সময় আল্লাহ্পাক তাঁদের রূহ্ শরীরে ফেরত পাঠাবেন”। (মুসনাদে আহমদ ৩য় খন্ড ৪৫৫ পৃঃ)।
(ঘ) ইমাম আবু আবদুল্লাহ কুরতুবী (রহঃ) লিখেছেন-

أَرْوَاحُ الشُّهَدَاءِ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ۔
”শহীদগণের পবিত্র রূহ্ সবুজ পাখীর সূরতে জান্নাতের যথায় ইচ্ছা বিচরণ করে। তাঁদের জন্য রয়েছে আরশে লটকানো ঝালর বাতি”। (তায্কিরাহ্)।
(ঙ) কাফেরদের রূহের অবস্থান সম্পর্কে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে-

النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا
“কাওমে ফিরাউন-এর রূহ্ সমূহকে সকাল সন্ধ্যায় জাহান্নামে পেশ করা হবে”। (কুরআন ৪০:৪৬)উপরে বর্ণিত হাদীসে পরিস্কারভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, মোমেন ও শহীদগণের রূহ্সমূহ জান্নাতে খানাপিনা খায় এবং যথায় ইচ্ছা ভ্রমন করে। কাফেরদের রূহ্ সকাল সন্ধ্যায় দোযখে পেশ করা হয়। এতেই প্রমাণিত হলো- প্রত্যেক রূহ্ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও পৃথক সত্বা নিয়ে অবস্থান করে এবং শরীরের চেয়ে ভাল করে তাকে চিনা যায়। কেননা, এক শরীর অন্য শরীরের মত হতে পারে- কিন্তু এক রূহ্ অন্য রূহের মত হয় না।
দেখুন- ফিরিস্তারা রূহানী সূরত ধারণ করা সত্বেও তাঁদেরকে ভালভাবেই পার্থক্য করা যায়। জ্বীন জাতি আগুনের সৃষ্টি হওয়া সত্বেও তাদেরকে পৃথক পৃথকভাবে চেনা যায়। সুতরাং মানুষের রূহ্ আরো উত্তমরূপে চেনা যাবে। কেননা, রূহ্ হলো একটি পৃথক সত্বা। আরো বুঝা গেল- নেক্কারদের রূহ্ ইল্লিয়্যিন বা উর্দ্ধজগতে বিচরণ করে এবং বদ্কারদের রূহ্ সিজজীন বা নিম্ম জগতে পতিত হয়, আবার কবরের সাথেও সকল রূহের সংযোগ থাকে।

হাকীকতে রূহ্
(কিতাবুর রূহ্- এর বর্ণনা)

প্রশ্নঃ রূহ্ নশ্বর- নাকি অবিনশ্বর? ইহা কি ক্ষনস্থায়ী- না চিরস্থায়ী?

জওয়াবঃ রূহ্ আল্লাহর সৃষ্টি- সুতরাং নশ্বর। আম্বিয়ায়ে কেরাম থেকে শুরু করে সাহাবা, তাবেয়ী সবাই একবাক্যে বলেছেন- অন্যান্য সৃষ্টি যেমন পরিবর্তনশীল- তদ্রƒপ রূহ্ও পরিবর্তনশীল।

অবশ্য কেউ কেউ রূহ্কে অবনিশ্বর ও চিরস্থায়ী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের যুক্তি- রূহ্ হলো আল্লাহর নির্দেশ। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশ সৃষ্টি নয়- যেমন আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়।

অন্য একদল বলেছেন- রূহ্ সৃষ্টিও নয়- আবার স্রষ্টাও নয়। জাহাম ইব্নে সাফওয়ান এবং তার অনুসারী একদল লোকের ধারণা- রূহ্ মাখলুক নয়- সুতরাং চিরস্থায়ী। তাদের এই মতবাদ বাতিল। সে ছিল মো’তাযেলা ফের্কার লোক।

বিভিন্ন মতামতঃ

১। আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং হাদীস বিশারদদের মতে সমস্ত রূহ্ আল্লাহর সৃষ্টি। তাদের দলীল হলো- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীস-

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ
অর্থঃ ‘‘রূহ্সমূহ হচ্ছে আল্লাহর সুসজ্জিত সৈন্যবাহিনী স্বরূপ’’। অতএব রূহ্ হলো আল্লাহর সৃষ্টি।
২। অন্য একদল বলেছেন- রূহ্ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ। ইহার প্রকৃত স্বরূপ আল্লাহ্পাক উদঘাটন করেননি। তাঁদের দলীল হলো- আল্লাহর কালাম মজিদের সুরা বণী ইসরাইল -এর ৮৫ আয়াত-

قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي
“বলুন! রূহ্ হচ্ছে আমার প্রভূর আদেশ”।
৩। আরেকদল উলামা বলেছেন- রূহ্সমূহ হচ্ছে আল্লাহর নূর এবং হায়াত সমূহের মধ্যে একটি হায়াত। তাঁদের দলীল হলো- নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেছেন-

إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ وَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ ۔ رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ وَالتِّرْمِذِيُّ فِي الْإِيمَانِ
অর্থাৎ “আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর সৃষ্টজীবকে অন্ধকার অবস্থায় সৃষ্টি করে তার মধ্যে তাঁর নূর নিক্ষেপ করেছেন’’। (মুসনাদে আহমদ ২য় খন্ড ১৭৬ পৃঃ, তিরমিযি কিতাবুল ঈমান ১৮ পৃষ্ঠা)।

15/08/2026

হায়াত ও মউত-এর সংজ্ঞা
“হায়াত মউত কবর হাশর”
تتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ- (سورة الملك)
অর্থঃ ”পূন্যময় তিনি- যার হাতে রাজত্ব। তিনি তাঁর ইচ্ছাধীন সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন- যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন- কে তোমাদের মধ্যে আমলে শ্রেষ্ঠ। তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়”।
প্রথম অধ্যায়:
(হায়াত ও মউত)

হায়াতঃ শরীরের সাথে ৪ মাস পর রূহের সংযোগকে হায়াত বলা হয়।
মউতঃ মৃত্যুর সময় শরীর থেকে রূহ্ বিচ্ছিন্ন হয়ে বরযখ জগতে প্রস্থান করাকে মউত বলা হয়। আরবী ইবারত নিম্নে-

ٱلْمَوْتُ لَيْسَ بِعَدَمٍ مَحْضٍ، وَإِنَّمَا هُوَ ٱنْتِقَالٌ مِنْ حَالٍ إِلَىٰ حَالٍ، أَوِ ٱلِٱنْتِقَالُ مِنْ دَارٍ إِلَىٰ دَارٍ.
অর্থঃ “অনস্তিত্ব বা বিলীন হয়ে যাওয়ার নাম মউত নয়। মউত হলো রূহের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় প্রস্থান করা। অর্থাৎ- এক জগত থেকে অন্য জগতে প্রস্থান করার নাম”।
বুঝা গেল- শরীর এবং রূহ্ দুই জিনিস। মাতৃগর্ভে প্রথমে ১২০ দিনে শরীর তৈরী হয়। তারপর রূহের আগমন হয়। শরীর হচ্ছে পার্থিব বস্তুতে তৈরী, কিন্তু রূহ্ পার্থিব বস্তু নয়- সে অন্য জগতের বাসিন্দা। মৃত্যুর সময় রূহ্ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জগতে গমন করলেও শরীরের সাথে তার একটি কানেকশন বা যোগাযোগ সর্বদাই থাকে। এজন্যই কবরে মৃতব্যক্তি পূনর্জীবিত হয়, মুনকার-নকীরের প্রশ্নের জবাব দেয় এবং নেক্কার ব্যক্তি বেহেস্তের শান্তি ভোগ করতে থাকে; আর বদকার ব্যক্তি আযাব ভোগ করতে থাকে।

শরীর থেকে রূহ্ বিচ্ছিন্ন হয়েও আল্লাহর নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন- শহীদগণ, সিদ্দীকগণ এবং নবীগণ। তার প্রমাণ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো।

১। আল্লাহ্পাক শহীদগণ সম্পর্কে এরশাদ করেন-

وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ
“তোমরা শহীদগণকে মৃত বলোনা; বরং তাঁরা জীবিত- কিন্তু তোমরা বুঝনা” (সুরা বাক্কারা-১৫৪ আয়াত)।
وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاء عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ - فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُواْ بِهِم
“তোমরা শহীদগণকে মৃত বলে ধারণাও করোনা; বরং তাঁরা জীবিত এবং আল্লাহর নিকট তাঁরা রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহর দানে তাঁরা আনন্দিত এবং তাঁদের সাথে যারা এখনও মিলিত হয়নি- তাঁদেরকে শহীদরা সু-সংবাদ প্রদান করে থাকে” (আলে-ইমরান-১৬৯-৭০ আয়াত)।
দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণিত রিযিকপ্রাপ্তি, আনন্দিত হওয়া ও সু-সংবাদ প্রদান করা- ইত্যাদি জীবিত লোকদেরই গুণাবলী। শহীদগণ মর্যাদার ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায়ের। তৃতীয় পর্যায়ভূক্ত হয়ে যদি শহীদগণ জীবিত বলে প্রমাণিত হয়- তাহলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সিদ্দীকগণ এবং প্রথম পর্যায়ের নবীগণ যে স্ব স্ব রওযাতে জীবিত আছেন- তাতে কোনই সন্দেহ নেই।

২। বিশুদ্ধ রেওয়ায়াতে রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম আম্বিয়ায়ে কেরামের শরীর সম্পর্কে এরশাদ করেছেন-

إِنَّ ٱلْأَرْضَ لَا تَأْكُلُ أَجْسَادَ ٱلْأَنْبِيَاءِ، وَفِي رِوَايَةِ ٱلطَّبَرَانِيِّ وَٱلْبَيْهَقِيِّ: وَنَبِيُّنَا حَيٌّ يُرْزَقُ.
“নিশ্চয়ই এই যমীন আম্বিয়ায়ে কেরামের দেহ মোবারক খেয়ে হজম করতে পারেনা”। তাবরাণী ও বায়হাকীর বর্ণনায় আছে- “আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ) হায়াতুন্নবী এবং রিযিকপ্রাপ্ত”।
বিঃ দ্রঃ লা-মাযহাবীদের নেতা ইসমাঈল দেহলবী এবং এদেশীয় কিছু ওহাবী তাদের পুস্তকে লিখেছে- “ নবীজী মরে, পঁচে, গলে মাটির সাথে মিশে গেছেন” (তাকভিয়াতুল ঈমান)। তারা বলে- “শহীদগণই জীবিত- নবী ও সিদ্দীকগণ জীবিত নন”। তারা দলীল হিসাবে বলে- “যেহেতু কোরআন মজিদ নবী ও সিদ্দিকগণকে সরাসরি জীবিত বলেনি- তাই তারা জীবিত নন”। তাদের এই যুক্তিটি মনগড়া। কেননা, শহীদগণ তৃতীয় স্তরের মর্যাদা সম্পন্ন হয়ে যদি জীবিত হন- তাহলে সিদ্দিক ও নবীগণের জীবিত থাকার পৃথক প্রমাণের কোনই প্রয়োজন করেনা। হাদীস শরীফে তো কোরআনের ব্যাখ্যাই উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি নবীবিদ্বেষের সুষ্পষ্ট প্রমাণ।

এরূপ প্রামাণিক দলীলকে দালালাতুন নছ বলা হয়। সূতরাং, কোরআনের ইবারাতুন্ নছ দ্বারা শহীদগণ এবং দালালাতুন নছ দ্বারা নবী ও সিদ্দীকগণের অক্ষত শরীর ও হায়াত প্রমাণিত।

৩। অন্যান্য নবীগণ মি’রাজের রাত্রে বায়তুল মোকাদ্দাসে সশরীরে আমাদের প্রিয় নবীজীর পিছনে মোক্তাদী হয়ে জামাআতের সাথে নামায আদায় করেছিলেন বলে সহী বোখারীতে প্রমাণ আছে। নামায পড়তে হলে অষ্ট অঙ্গের প্রয়োজন হয়- দুই হাত, দুই পা, দুই হাঁটু, নাক ও কপাল- সর্বমোট ৮টি অঙ্গ দ্বারা নামায আদায় করতে হয়। এটাও নবীগণের সশরীরে জীবিত থাকার প্রমাণ বহন করে।

বুঝা গেল- নবীগণের রূহ্ মোবারক কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হলেও পরে তা ফেরত দেয়া হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের আনুমানিক ৪০ ঘন্টা পর মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাত্রে রওযা মোবারকে শয়ন করার পর আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর পবিত্র রূহ্কে দেহ মোবারকে ফিরত দিয়েছেন। (তকিউদ্দীন সুবুকীর শিফাউস সিকাম এবং জালালুদ্দীন সুয়ুতির আল-হাভী লিল ফতোয়া দ্রষ্টব্য)।

৪। আবু দাউদ শরীফে হুযুর (ﷺ) -এর রূহ্ মোবারক ফেরত দেয়া সম্পর্কে হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেছেন-

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ ٱللَّهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ ٱلسَّلَامَ.
ইমাম সুয়ুতি এই হাদীসের অনুবাদ এভাবে করেছেন- “যেকোন মুসলমান আমাকে ছালাম করলে আমি তার সালামের সরাসরি জবাব দেই। কেননা, আল্লাহ্ তায়ালা আমার রূহ্কে পূর্বেই আমার শরীরে ফিরত দিয়েছেন” (আল হাভী)। رد اللّٰہ শব্দটি অতীত কালের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
উপরে বর্ণিত হাদীস সমূহের দ্বারা ষ্পষ্ট এবং সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলো যে, নবীগণের ইন্তিকালের অর্থ হলো- তিনিরা লোকচক্ষুর অন্তরালে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। তিনিরা জীবিত ও অস্তিত্ববান রয়েছেন- যদিও আমরা তাঁদেরকে দেখতে পাইনা। যেমন- ফিরিস্তাদের অস্তিত্ব রয়েছে, তাঁরা আমাদের কাঁধে আছেন- অথচ আমরা তাঁদেরকে দেখতে পাইনা। তাই নবীগণের অস্তিত্বের অবস্থা হলো ফিরিস্তাদের অস্তিত্ব ও অবস্থার ন্যায়। কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা অস্তিত্ববান থাকবেন। যখন ইসরাফীল শেষ সিঙ্গায় ফুঁক দিবেন- তখন জীবিতরা মরে যাবে- কিন্তু নবীগণ শুধু সাময়িক হুঁশহারা হবেন। তৃতীয়বার সিঙ্গায় ফুঁক দিলে অন্যান্যরা পূণর্জীবিত হবে এবং নবীগণ সম্ভিত ফিরে পাবেন। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্পাক কোরআন মজিদে এরশাদ করেছেন-

فَإِذَا نُفِخَ فِي ٱلصُّورِ (نَفْخَةُ ٱلصَّعْقِ وَٱلْمَوْتِ) فَصُعِقَ مَنْ فِي ٱلسَّمَاوَاتِ وَٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ ٱللَّهُ.
অর্থাৎ- “যখন পুনরুত্থানের উদ্দেশ্যে সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে- তখন আসমান যমীনের সব জীবিত প্রাণী মরে যাবে, কিন্তু আল্লাহ্ যাদেরকে ইচ্ছা করেন- এ অবস্থা থেকে রক্ষা করবেন”। (নবীগণের পূনঃ মৃত্যু হবেনা। তাঁরা শুধু বেহুঁশী অবস্থা থেকে সম্বিত ফিরে পেয়ে বোরাকে চড়ে হাশরে যাবেন- কিতাবুর রূহ্)।
৫। বুখারী ও মুসলিম শরীফে আমাদের প্রিয় নবীজীর সম্বিত ফিরে পাওয়া ও হাশরে গমন করা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-

«فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ»، فَنَبِيُّنَا صَلَّى ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ مَنْ يَخْرُجُ مِنْ قَبْرِهِ قَبْلَ جَمِيعِ ٱلنَّاسِ، إِلَّا مُوسَىٰ، فَإِنَّهُ حَصَلَ فِيهِ تَرَدُّدٌ: هَلْ بُعِثَ قَبْلَهُ مِنْ غَشْيَتِهِ، أَوْ بَقِيَ عَلَى ٱلْحَالَةِ ٱلَّتِي كَانَ عَلَيْهَا قَبْلَ نَفْخَةِ ٱلصَّعْقِ فِي ٱلصُّورِ، مُفِيقًا، لِأَنَّهُ حُوسِبَ بِصَعْقَةِ يَوْمِ ٱلطُّورِ.
অর্থাৎ- নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “শেষ সিঙ্গার ফুঁৎকারের সময় আমিই সর্বপ্রথম সম্বিত ফিরে পাবো”। আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ) সবার পূর্বে রওযাপাক থেকে বের হয়ে হাশর ময়দানে গিয়ে দেখতে পাবেন- হযরত মুছা আলাইহিস সালাম আরশের পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন নবী করিম (ﷺ) দ্বিধায় পড়ে যাবেন- হযরত মুছা (আঃ) কি হুযুরের পূর্বে হুঁশপ্রাপ্ত হয়েছেন- নাকি শেষ সিঙ্গায় ফুঁৎকারের পূর্ব থেকেই সুস্থির অবস্থায় ছিলেন। কেননা, তুর পর্বতের ঘটনার সময় তিনি আল্লাহর নূরের তাজাল্লী দেখে একবার বেহুঁশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। এজন্যই হয়তো আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে বেহুঁশী থেকে রক্ষা করেছেন। (তাযকিরাহ্)
৬। অন্য রেওয়ায়াতে হযরত কা’ব আহ্বার (রাঃ) বলেন- প্রতিদিন নিত্যনতুন এক লক্ষ চল্লিশ হাজার ফিরিস্তা এসে রওযা শরীফে দাঁড়িয়ে নূরের পাখা বিছিয়ে দিবারাত্রি শুধু ﷺ শরীফ পড়তে থাকেন। এভাবে কিয়ামত পর্য্যন্ত চলবে। শেষ সিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর সত্তর হাজার ফিরিস্তা বোরাক নিয়ে এসে নবীজীকে বোরাকে চড়িয়ে মিছিল সহকারে প্রিয় মাহবুবের দরবারে হাশরে নিয়ে যাবেন (মিশকাত বাবুল কারামাত)।

ব্যাখ্যা- এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে। তা হলো- প্রথম সিঙ্গার ফুঁৎকারে সমস্ত নবীগণ বেহুঁশ হবেন এবং শেষ সিঙ্গার ফুঁৎকারে সম্বিত ফিরে পেয়ে হাশরে যাবেন। কিন্তু মুছা আলাইহিস সালাম একমাত্র ব্যক্তি- যিনি ঐদিন বেহুঁশ হবেন না। তাহলে তিনি কি আমাদের নবীর উপরেও মর্যাদাবান?

উত্তর হলো- বেহুঁশ হওয়ার ঘটনা পূর্বে একবার মুছা নবীর উপর ঘটেছিল- যখন তিনি তুর পাহাড়ে আল্লাহর নূরের তাজাল্লী দেখে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তাই তাঁকে হাশরের দিনে দ্বিতীয়বার পূনঃ বেহুঁশ করবেন না- বরং তিনি সম্বিত অবস্থায় আমাদের নবীজীর পূর্বেই হাশরে গিয়ে আরশের পায়া ধরে দাঁড়িয়ে থাকবেন। এটা তাঁর বিরাট মর্যাদা- তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা আংশিক মর্যাদা। সার্বিক মর্যাদা হলো আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লামের জন্য।

হায়াত-মউতের স্বরূপ
হাদীস শরীফে হায়াতের স্বরূপ বলা হয়েছে ঘোড়ায় ন্যায় এবং মউতের স্বরূপ বলা হয়েছে সাদাকালো ডোরাকাটা খাসীর ন্যায়। বিচারের পর বেহেস্ত ও দোযখের মধ্যখানে পুলসিরাতের উপর মউতকে ডোরাকাটা খাসীর সুরতে যবেহ্ করে খতম করে দেয়া হবে। এরপর থাকবে শুধূ হায়াত।

যখন মউতকে كبش املح বা সাদাকালো ডোরাকাটা খাসীর সুরতে পুলসিরাতের উপর আনা হবে- তখন আমাদের প্রিয়নবীর সামনে হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম, মতান্তরে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উক্ত ছাগলটিকে যবেহ্ করবেন। দোযখবাসী ও জান্নাত বাসীদেরকে তখন বলা হবে- ”এখন আর মউত নেই। চিরদিন হায়াতে থেকে যার যার কর্মফল ভোগ করতে থাকো”। কিতাবের শেষের দিকে আরবীসহ বিস্তারিত বয়ান করা হবে।

মউত কেমন?
১। মউত সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দিয়েছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। যখন আদম আলাইহিস সালামের প্রথমপুত্র হাবিল বিবাহ সংক্রান্ত ব্যাপারে নিজভ্রাতা ক্বাবিলের হাতে শহীদ হলেন- তখন হযরত আদম (আঃ) এ সংবাদ হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে জানালেন। তখন পর্য্যন্ত মউত সম্পর্কে হযরত হাওয়ার কোন ধারণা ছিলনা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- وما الموت অর্থাৎ- মউত কি ও কেমন?

হযরত আদম আলাইহিস সালাম বল্লেন -

لَا يَأْكُلُ، وَلَا يَشْرَبُ، وَلَا يَقُومُ، وَلَا يَقْعُدُ.
অর্থাৎ “মউত হলো- তখন খানাপিনা ও উঠাবসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন নড়াচড়াও করতে পারেনা”।
একথা শুনে হযরত হাওয়া (আঃ) চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলেন। তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বল্লেন-

عَلَيْكِ الرَّنَّةُ، وَعَلَى بَنَاتِكِ، وَأَنَا وَبَنِيَّ مِنْهَا بُرَآءُ.
অর্থাৎ- “তুমি এবং তোমার পরবর্তী মেয়ে সন্তানদের উপর রইলো রোনাজারি করার স্বভাব। আমি এবং আমার পরবর্তী ছেলে সন্তানরা রোনাজারি হতে মুক্ত”। (হাকীম তিরমিযি তাঁর নাওয়াদিরুল উছুল গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদার (তাবেয়ী) সূত্রে এই বর্ণনাটি দিয়েছেন)।
মানব ইতিহাসে হাবিলের শাহাদাত-ই ছিল প্রথম মউত। তাই বিবি হাওয়াকে সরলভাবে বুঝানোর জন্য হযরত আদম (আঃ) এভাবে উদাহরণ দিয়ে মউতের অবস্থা বুঝিয়েছিলেন- হাকীকত সম্পর্কে নয়।

২। আল্লাহর বন্ধুগণের জন্য মউত হলো আল্লাহর সাথে মিলনের সেতু

এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু আবদুল্লাহ কুরতুবী তাঁর তাযকিরাহ্ গ্রন্থে আরো একটি ঘটনা এভাবে উল্লেখ করেছেন-

ورُوِيَ أنَّ مَلَكَ الموتِ عليهِ السَّلامُ جاءَ إلى إبراهيمَ عليهِ السَّلامُ خَليلِ الرَّحمنِ عزَّ وجلَّ لِيقبِضَ روحَهُ. فقالَ إبراهيمُ عليهِ السَّلامُ: يا مَلَكَ الموتِ، هل رأيتَ خَليلًا يَقبِضُ روحَ خَليلِهِ؟فَعَرَجَ مَلَكُ الموتِ عليهِ السَّلامُ إلى ربِّهِ، فقالَ: قُلْ لهُ: هل رأيتَ خَليلًا يَكرَهُ لِقاءَ خَليلِهِ؟فرجعَ، فقالَ: اقْبِضْ رُوحي السَّاعَةَ.وقالَ أبو الدَّرداءِ رضيَ اللهُ عنهُ: ما مِن مؤمِنٍ إلّا والموتُ خَيرٌ لهُ، فمَن لم يُصَدِّقْني فإنَّ اللهَ تعالى يقولُ: ﴿وما عندَ اللهِ خيرٌ لِلأبرارِ﴾.وقالَ حَبّانُ بنُ الأسودِ: الموتُ جِسرٌ يُوصِلُ الحبيبَ إلى الحبيبِ.📘 المصدر: التذكرة، صفحة ١٠.
অর্থ- (ইমাম কুরতুবী বলেন)- “বর্ণিত আছে- মালাকুত মউত (আযরাঈল আলাইহিস সালাম) হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কাছে তাঁর জীবনের শেষ মহুর্তে রূহ্ কব্জ করতে আসলো। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) একথা শুনে বল্লেন- হে মালাকুল মউত! তুমিই বলো- কোন একান্ত বন্ধু কি আপন বন্ধুর রূহ্ কব্জ করতে পারেন? একথা শুনে আযরাঈল (আঃ) ফিরে গিয়ে আল্লাহর কাছে আরযি দিলেন। আল্লাহ্ বল্লেন- তুমি গিয়ে আমার খলীল (একান্ত প্রাণ উৎসর্গকারী) বন্ধুকে বলো- “আপনিই বলুন- কোন বন্ধু কি আপন ঘনিষ্ট বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে আপত্তি করতে পারে”? আযরাঈল ফিরে এসে একথা শুনালে হযরত ইবরাহীম (আঃ) ভাবোন্মত্ততায় বলে উঠলেন- “তাহলে দেরী না করে এই মুহুর্তেই আমার রূহ্ কব্জ করো” (এবং আমাকে বন্ধুর সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দাও)”।
এটা ছিল প্রেমাস্পদের সাথে মিলনের উদ্দেশ্যে মউত কামনা করা। এটা অতি উত্তম। হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- “যেকোন মুমিনের কাছে মৃত্যুই তাঁর জন্য উত্তম”। (কেননা, এর দ্বারা সে মাহবুবে হাকিকীর সাথে মিলনের সুযোগ পায়)। হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন- “কেউ যদি আমার কথা সত্য মনে না করে- তাহলে সে যেন আল্লাহর এই বাণী পড়ে নেয়- “আল্লাহর দরবারে যেসব নেয়ামত ও পুরস্কার রয়েছে- তা নেক্কারদের জন্য অতি উত্তম”। (সুরা আলে ইমরান ১৯৮ আয়াত)।

হাইয়ান ইবনে আসওয়াদ (রহঃ) বলেছেন- “মউত হলো সেতুবন্দ স্বরূপ- যা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর কাছে পৌঁছিয়ে দেয়”। (তাযকিরাহ্ ১০ পৃঃ)

সুতরাং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রেমাকর্ষণে মৃত্যু কামনা করা অতি উত্তম। বুঝা গেলো- দুনিয়ার ঝামেলায় মৃত্যু কামনা করা জায়েয নেই। ঈমান রক্ষা করা কিংবা বন্ধুর সাথে মিলনের আকাংখায় মৃত্যু কামনা করা যেতে পারে।

10/08/2026
10/08/2026

যেমন আমি একজন কাপুরুষ 😭🥹😭🥹

20/05/2026

হুম আমিও এ কথাটা বিশ্বাস করি।

21/12/2025

কোনো ব্যক্তির খুব বেশী সহজ-সরল হওয়া উচিৎ নয়। কারণ, সোজা গাছ এবং সোজা মানুষদের প্রথমে কাটা হয়।

Address

Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলামিক জিন্দিগী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category