07/08/2026
মদিনার আনসার সাহাবিগণ (রাঃ)
ভালোবাসার যে মানদণ্ড আর কেউ ছুঁতে পারেনি
আপনার বাড়ির অর্ধেক কি ছেড়ে দিতে পারবেন আপনার কোনো দ্বীনী ভাইয়ের জন্য?
কিংবা কয়েকশ গাছের ফলবাগানের অর্ধেক দিয়ে দেয়া? ব্যবসার অর্ধেক শেয়ার লিখে দেয়া। আপনি হয়ত পারবেন ইনশাআল্লাহ, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই পারবে না। কিন্তু চৌদ্দশো বছর আগে মদিনায় একদল মানুষ ছিলেন—তারা পেরেছিলেন। শুধু পেরেছিলেন না—হাসিমুখে পেরেছিলেন। তারা হলেন আনসার।
মক্কার মুসলমানরা যখন সর্বস্ব হারিয়ে মদীনায় এলেন—মাথার ওপর আশ্রয় নেই, পেটে খাবার নেই—তখন আনসাররা তাদের বরণ করলেন, যেন তারা তাদের আপন ভাই।
সাদ ইবনে রাবি' (রা.) তাঁর মুহাজির ভাই আব্দুর রহমানকে বললেন—
"আমার সম্পদের অর্ধেক তোমার। আমার বাগানের অর্ধেক তোমার। আমার দু'জন স্ত্রী আছেন—যাকে পছন্দ হয় বলো, তাকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি।"
সুনানে নাসায়ী: হাদিস নং ৩৩৮৮। মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৩৮১৬
পৃথিবীর ইতিহাসে আতিথেয়তার বহু নজির আছে, কিন্তু আনসারদের মতো করে কেউ নিজের সুখকে অন্যের প্রাপ্য বানিয়ে দিতে পারেনি।
এই আত্মত্যাগ দেখে আল্লাহ ﷻ কুরআনে আয়াত নাজিল করলেন—
"নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়।"
সুরা হাশর, আয়াত ৯
মক্কা বিজয়ের পর সকল মুহাজির সাহাবীগণ যখন আনন্দে উৎফুল্ল, আনসার সাহাবীগণ তখন এই বিষয়টি ভেবে বিষণ্ণ:
"আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর জন্মভূমি মক্কাকে ফিরে পেয়েছেন। তিনি কি এখন এখানেই থেকে যাবেন? আমাদের সাথে কি তিনি আর মদীনায় থাকবেন না? আমরা কি নবীজির ﷺ সান্নিধ্য হারিয়ে ফেললাম?"
নবীজি ﷺ যখন তাদের এই আশংকার কথা জানতে পারলেন। তখন তিনি আনসারদের ভালোবাসার প্রতিদানে বললেন যে, তিনি আমৃত্যু মদীনায় আনসারদের সাথেই থাকবেন!
কী আশ্চর্য প্রেম! পৃথিবীর মানুষ যেখানে স্বর্ণ মাপে পাল্লায়, আনসাররা সেখানে মেপেছিলেন ভালোবাসা দিয়ে। তাই আজও ইতিহাসের পাতা উল্টালে মনে হয়—আনসাররা কেবল সাধারন মানুষ ছিলেন না; তারা ছিলেন দয়ার ভাষায় লেখা এক অপূর্ব কবিতা।