23/11/2025
ডিগ্রি হাতে, মাটি মনে — এটাই আমার যাত্রা”
অধিকাংশ মানুষের একটাই প্রশ্ন— “মাস্টার্স কমপ্লিট করে এসে শেষমেশ চাষাবাদ করতে নামলে?”
তাদের সংশয়— “কোন চাকরি হলো না? এত লেখাপড়া করে কী লাভ?”
এই কথা শুনলে হয়তো একটু ব্যথা লাগে, কিন্তু আমার ভিতরের সত্যিটা তাদের বোঝানো যায় না।
সত্যি কথা বলতে, এক বছর আগে যখন বাসায় ফিরে জমির মাটিতে হাত দিলাম, তখন আমার হাতে কিছু সঞ্চয় ছিল। আজ তা নেই—হাত একদম শুন্য।
কিন্তু আমার মন, আমার বিশ্বাস কখনো শুন্য হয়নি।
আমার শিক্ষা, আমার স্কিলস—আমি জানি, চাইলে আজও একটা ভালো চাকরি ম্যানেজ করতে পারব।
ইচ্ছে করলে ঘরে বসেই মাসে ২০-৫০ হাজার উপার্জন করতে পারি।
তাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় নেই, রোদের তাপে শরীর পুড়বে না, মানুষের কটু কথা শুনতে হবে না।
এত এত ট্রাজেডি সামনে আসবে না।
কিন্তু দিনশেষে…
যখন আমি আমার সবুজ ফসলের দিকে তাকাই,
যখন আমি গাছের নতুন পাতা দেখি, মাটির ভেজা গন্ধ পাই—
আমার বুকের ভেতর যে শান্তি নেমে আসে,
তা কোনো টাকার, কোনো চাকরির, কোনো আরামের সঙ্গে তুলনা চলে না।
মাঠে সারাদিন রোদে কাটিয়ে বাড়ি ফিরলে,
ক্লান্তি থাকে না—
থাকে শুধু একটা অদ্ভুত তৃপ্তি,
একটা শান্ত নিরাময়,
যা আমাকে ডিপ্রেশন থেকে দূরে রাখে।
হ্যাঁ, আমার টাকার প্রয়োজন আছে—
কিন্তু তার চাইতে অনেক বেশি প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তির।
আমার শিক্ষাই আমাকে শিখিয়েছে—
মানুষের কটু কথার জবাবে নরম থাকতেও হয়,
প্রতি আঘাতে ভেঙে না পড়ে দাঁড়াতে হয়।
আর এই শিক্ষা, এই জ্ঞান—
আমার অনাড়ি হাতকে মাঠের রুক্ষ মাটির জন্য আশীর্বাদ করে তোলে।
যেন মাটি আমাকে চেনে, আর আমিও মাটির ভাষা বুঝি।
এই মাটি আমাকে টানে।
এই মাটি আমার মা—
আমার মাতৃভূমি।
এখন যদি এর থেকে দূরে চলে যাই,
আমি জানি আমার মন ভেঙে যাবে,
আমি ভীষণ কষ্টে ভুগবো।
কারণ আমার জীবনের লড়াই, আমার শান্তি, আমার স্বপ্ন—
সবই এই মাটির বুকের ওপর দাঁড়িয়ে।
কিন্তু দিনশেষ- ঐ যে বলেছিলাম- যে ঘর একবার ছেড়েছিলাম, সেই ঘরে ফেরা হবেনা আর কোনদিনই ঘরের ছেলে হয়ে। ফিরতে হবে অতিথি হয়ে। সময় ফুরাচ্ছে অতিথির।
#মাটিরডাকে_ফিরে #চাষিইনাম #মাটিরমানুষ #ডিগ্রি_থেকে_মাঠে #মাটিরশান্তি #কৃষকের_গর্ব #মাটিরগন্ধ #কৃষিজীবন #চাষাবাদের_স্বপ্ন #আত্মসম্মান #জীবনের_শান্তি