27/05/2026
টুপি রপ্তানি নিয়ে ভাবছেন কেউ?
বাংলাদেশ থেকে গত ২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭০০০ (সাত হাজার) কোটি টাকার টুপি বা হেড গিয়ার বা ক্যাপ রপ্তানি হয়েছে । আর আমাদের সবার পরিচিত মুসলিম টুপি যা হাতে বোনা, রপ্তানি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ।
এদিকে গত অর্থবছরে দেশ থেকে টোটাল রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার এরমধ্যে টুপি রপ্তানি ৬০০ মিলিয়ন, এই পরিসংখ্যান ইপিবির ডাটা অনুযায়ী....
আর গ্রান্ড ভিউ রিসার্চ এর ২০২৫ এর ডাটা অনুযায়ী বিশ্বে টুপির মার্কেট ভ্যালু প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আমাদের প্রায় টোটাল রপ্তানির সমপরিমাণ.... এবং ২০৩৩ সালে যা ৬৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি হবে।
উপরের ডাটা টা লেখার কারন হচ্ছে... আমরা এখনও রপ্তানির নিদিষ্ট কিছু সেগমেন্টেই পড়ে আছি কয়েকবছর।
এই টি শার্ট, শার্ট, ডেনিম, জিন্স, লেদার, কিছু কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ পন্য নিয়ে আপাতত বকবক করছি.... এইত।
তবে আমাদের ভিন্ন কিছু নিয়ে ভাবতে হবে, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে । আমাদের শত বিলিয়নের টার্গেট পূরণ করতে...
যায়হোক উপরের যে টুপির কথা বলছিলাম এটা সাধারণত দুই সেগমেন্টে রপ্তানি হচ্ছে । একটা হচ্ছে হেড গিয়ার বা ক্যাপ এবং অন্যটি হচ্ছে ইসলামিক টুপি বা কুফি।
এখানে যেহেতু ইসলামিক টুপির ছবি দিয়েছি, তা নিয়েই বলি .... জেনে ভালো লাগবে এই ইসলামিক হাতে তৈরী টুপিরই মার্কেট সাইজ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ।
যা আমাদের নওগাঁ থেকেই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে।
মূলত এই ধরনের টুপির চাহিদ মিডল ইস্ট বা ওমান, কাতার, বাহরাইন, সৌদি, দুবাই এবং কিছু পরিমাণে মালয়েশিয়া, উজ্বেকিস্থান, ইন্দোনেশিয়া বা আফ্রিকার দেশে ভালো চাহিদা রয়েছে।
আর একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনসাইট হল হাতে তৈরি টুপি রপ্তানির জন্য উপযুক্ত দেশ হল আমার বাংলাদেশ, পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান আর স্পেশাল কিছু নিশে নর্থ আফ্রিকা.... এর বাইরে আপাতত হাতে বোনা টুপি তৈরী এবং রপ্তানির জন্য স্পেশাল কোনো দেশ দেখছি না।
এবং ডাটা অনুযায়ী এই তিনটা দেশই মূলত হাতে বোনা টুপি রপ্তানি করছে, তবে এখানে পাকিস্তান সবচেয়ে এগিয়ে ।
যেহেতু বর্তমানে এটার মার্কেট সাইজ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাড়ার সাথে সাথে সাথে যার চাহিদা ও বৃদ্ধি পাবে।
সো এখানে আমাদের কাজ করার আছে... কারন আমি যতটুকু জানি যে পরিমাণ চাহিদা বাংলাদেশের হাতে বোনা টুপি রপ্তানি কারকদের কাছে আছে, তারা সে পরিমাণে রপ্তানি করতে পারছে না।
শুধু মাত্র প্রোডাকশন এবং সাপ্লায়ারের জন্য...
আর তাছাড়া চাইলেই খুব সহজেই আমরা পাকিস্তানের সাথে কম্পিট করতে পারি বলে আমার ধারণা, কারন বঙ্গদেশে হাতে বোনা কোনো-কিছু তৈরীর জন্য আমাদের মা, বোনেরা বেশ দক্ষ।
সো এখন যদি আমরা প্রোপার মার্কেট প্ল্যান, কোয়ালিটি-ফুল প্রোডাক্ট নিয়ে আগাইতে পারি... আমাদের রপ্তানি পরিসংখ্যান টা বেড়ে যাবে বেশ।
কথা হইল আমাদের শুধুই কেন গার্মেন্টস, লেদার বা বর্তমান সময়ে ট্রেন্ডি সবজি নিয়েই আগাইতে হবে । ভিন্ন কিছু ও মার্কেটে আছে.. যা দিয়ে মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ও সম্ভব।
সো এবার ভিন্ন কিছু ভাবনা থেকেই, রপ্তানি হোক ভিন্ন কিছু... বেড়ে যাক রপ্তানি পরিসংখ্যান।
কমে যাক বেকারত্ব ।।
Exporter & International Market Researcher