05/10/2025
ছোট বেলায় কোনদিন আমাদের জন্মদিন পালন করা হত না।কিন্তু আমার মনে মনে ভীষণ ইচ্ছা করতো।কখনো বলার সাহস পাই নি।কিন্তু ছোট বেলায় আমাদের জন্মদিনে আব্বু আমাদের রাতে ডিনার এ নিয়ে যেত।বিরিয়ানি খেতাম।যেহেতু খুব পছন্দের আমার।আর অভিসারী স্টুডিও তে যেয়ে আমার একটা করে ফুল ছবি তুলতো।প্রত্যেকবার আমার জন্মদিনে এটাই হত।আমরা দুই ভাইবোন।আমার ভাই আমার ১০ বছরের ছোট। ও যখন একটু বড় হলো,মানে ৩/৪ বছর তখন থেকে ওর প্রত্যেক জন্মদিনে আমি আমার সাধ্যমতো সারপ্রাইজ দেয়ার চেষ্টা করতাম।তখন আমি করোনেশন স্কুলে পড়তাম।আমাদের বাড়ি থেকে স্কুলের রিক্সা ভাড়া ৩ টাকা ছিলো।আব্বু আমাকে ৬ টাকা দিত রোজ।ওইটা থেকে ১/২ টাকা করে সেভ করতাম আর আমার বড় কাকু প্রায়ই আমাকে ২ টাকা করে দিত। এই সব টাকা গুছায় রাখতাম সাদির(আমার ভাই) জন্মদিনের জন্য।সাদি পেস্ট্রি কেক ভীষণ পছন্দ করতো।সাদির স্বভাবের ৮০% এখন আমার ছেলের মধ্যে আছে😅।শুধু স্বভাব না,ফিজিকাল স্ট্রাকচার ও ৭০-৮০% সেম মামু ভাগ্নের❤️।
আর তখন বাংলাদেশ বেকারিতে পেস্ট্রি কেক এক পিছ ১৫ টাকায় পাওয়া যেত।খুব মজার ছিলো স্বাদে। সাদির জন্মদিনে এক পিছ পেস্ট্রি কেক,চকলেট,কোল্ড ড্রিংকস কিনে ওকে সারপ্রাইজ দিতাম।ওর আনন্দ দেখে ভীষণ খুশি হতাম আমি। আমার কোন ফ্রেন্ড এর জন্মদিনে দাওয়াত দিলে সাদিকে সাথে নিয়ে যেতাম।বাথ'ডের কেক কাটা হলে সবাইকে এক পিছ করে দিত কিন্তু সাদির সেটাতে মন উঠত না।আমার পিছ টাও ওকে দিতাম।ওর খাওয়া দেখে ভীষণ ভালো লাগত আমার।আর খুব আফসোস হত যে আমাদের জন্মদিন ও এভাবে একটু করতে পারতাম।একটা সময় এসে আমার জন্মদিন করার শখটা শেষ হয়ে গেলো। তখন মনে হত সাদির জন্মদিন এইভাবে করতে পারতাম।কিন্তু সেটাও কখনো হয় নি।কারন আমাদের ফ্যামিলিতে জন্মদিন পালন করার কোন অনুমতি ছিলো না। আমরা অনেক গুলো কাজিন আর আমি বোনদের মধ্যে সবার বড়।তাই সবার জন্ম,বড় হওয়াটা খুব কাছ থেকে দেখেছি।আমাদের কাজিন্দের মধ্যে বন্ডিং ও অনেক ভালো মাশ আল্লাহ।তাই আমি আমার সাধ্যমতো যতটুকু পারি করার চেষ্টা করেছি।হয়তো সব সময় বা সবার জন্য করা হয়ে ওঠে নি,কিন্তু মুটামুটি সবাইকেই কখনো না কখনো সারপ্রাইজ করেছি আমার ওই অল্পটুকু সাধ্যের মধ্যে। কিন্তু ওই যে নিজের ইচ্ছা বা সারপ্রাইজ টা আর কারো থেকে পাওয়া হয় নি😁।
তাই আমার বাচ্চাদের বেলায় চেষ্টা করি খুব ছোট ছোট নিজের না পাওয়া গুলো ওদের মাধ্যমে পূরণ করতে।
আম্মু আমাকে রাগারাগি করে, জন্মদিন পালন শরীয়ত সম্মত না, এটা আমিও জানি।কিন্তু আমার মনে হয় আমার ওই ছোট্ট বেলায় যে না পাওয়াটা,যে ইচ্ছাটা,যে আফসোস টা ছিলো সেইটা যেন আমার বাচ্চাদের মধ্যে কখনো না হয়।এটা বাচ্চাদের মনে অনেক প্রভাব ফেলে।আমি নিজেকে দিয়ে বুঝি।ওইভাবে মোমবাতি দিয়ে বা লোকজন দাওয়াত করে কিছু করি না,জাস্ট একটু মেমোরি করে রাখি,যেন বড় হয়ে ওরাও দেখে নস্টালজিক হয় আর বূড়ো বয়স অবধি যদি আল্লাহ হায়াত রাখেন তো তখন এসব ছবি দেখে কিছুটা হলেও মনের খোরাক হয়।
আমার সোনা পরীটা💜